Published : 03 Feb 2026, 06:55 PM
নেপালে ২০২২ সালের জাতীয় নির্বাচনের সময় সোশাল মিডিয়ায় অপতথ্য মোকাবেলায় দেশটি যেসব পদক্ষেপ নিয়েছিল, সেসব বাংলাদেশেও কাজে লাগতে পারে বলে মনে করছেন নেপালের সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার দীনেশ কুমার থাপালিয়া।
মঙ্গলবার ঢাকায় জাতীয় নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে এক গোলটেবিল আলোচনায় নিজের অভিজ্ঞতা শুনিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের ব্যবস্থাটা পুরোপুরি যথাযথ হয়তো ছিল না।
“তবুও বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জোরালো ইচ্ছার ফলে আমরা জনগণের কাছে স্বচ্ছ থাকতে পেরেছি, তাদের আস্থা অর্জন করেছি। আমাদের এই অভিজ্ঞতা বাংলাদেশ এবং অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রে কাজে লাগতে পারে।”
দীনেশ থাপালিয়া বলেন, নির্বাচনি প্রচার রাজপথের পাশাপাশি সোশাল মিডিয়াতেও ছড়িয়ে পড়ে, যা বেশি মানুষকে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেয়। তবে এটা ভোট দেওয়ার সত্যিকারের স্পিরিটের ক্ষেত্রে বিপদও তৈরি করে।
“এর মধ্যে ভুল তথ্য, অপতথ্য, ঘৃণাসূচক বক্তব্য এবং পর্দার আড়ালের প্রচারণা ছিল গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমরা জানতাম, আমরা যদি উদ্যোগ না নিই—তাহলে এটা সত্যকে ঢেকে দেবে এবং নির্বাচন কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতাকে নষ্ট করবে।”

অপতথ্য, মিথ্যা তথ্য এবং ঘৃণাসূচক প্রচারণা মোকাবেলায় চার ধাপে নেওয়া পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “প্রথমত, আমরা আমাদের বিধিকে হালনাগাদ করি এবং সোশাল মিডিয়া ব্যবহারের বিষয়গুলো আচরণবিধিতে স্পষ্ট করে দিই। অনলাইনে পোস্ট করার দায়দায়িত্ব প্রার্থী এবং তার সমর্থকদের উপর পড়ার কথা বলা হয়।
“দ্বিতীয়ত, আমরা বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ শুরু করি এবং মেটা, ফেইসবুক, টিকটক ও গুগলের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করি। আমাদের বিশেষ একটা পদ্ধতি ছিল, হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে নির্বাচনি আচরণবিধি ভঙ্গকারী এবং ভুল তথ্য রিপোর্ট করার ব্যবস্থা সেখানে ছিল।”
নির্বাচন কমিশনে সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করার কথা তুলে ধরে দীনেশ থাপালিয়া বলেন, “আমরা সার্বক্ষণিক মনিটরিং ব্যবস্থা নিই এবং বিশেষজ্ঞ ও মিডিয়া পর্যবেক্ষকদের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে সাইবার মনিটরিং সেল গঠন করি।
“ট্রেন্ডিং কনটেন্টগুলোকে তারা তাৎক্ষণিক খেয়াল রাখে এবং ভুয়া তথ্য ছড়ানোর প্রচেষ্টাকে প্রাথমিক অবস্থায় ধরে ফেলে। ভুয়া ও অপতথ্য মোকাবেলায় আমরা স্বাধীন ফ্যাক্টচেকারদের যুক্ত করি এবং দ্রুততার সঙ্গে সঠিক তথ্য সরবরাহ করি।”

এর বাইরে ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে ভোটারদের প্রশিক্ষণ এবং ‘বাছাই করার আগে ভাবুন’ ধরনের ব্যাপক ক্যাম্পেইন চালানোর কথা বলেন তিনি।
আলোচনা অনুষ্ঠানে মালদ্বীপ নির্বাচন কমিশনের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আকরাম বলেন, ভোটে নির্বাচন কমিশন শুধু প্রশাসনিক কাজটা করে থাকে।
“এক্ষেত্রে বড় দায়িত্ব হল পর্যবেক্ষক ও রাজনীতিকদের। তাদের ছাড়া আমরা বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করতে পারব না।”
ঢাকা ফোরাম ইনিশিয়েটিভ আয়োজিত ওই আলোচনা অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ, জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা আলাউদ্দিন মোহাম্মদ, নেপালের নির্বাচন ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়া বিশেষজ্ঞ রামেশ অধিকারীসহ বিভিন্ন অঙ্গনের ব্যক্তিরা বক্তব্য দেন।