নাইকো দুর্নীতি: খালেদা জিয়াসহ আট আসামিই খালাস
রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতি করার অভিযোগ আনা হয়েছিল এ মামলায়।
আঠার বছর আগের নাইকো দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ আট আসামির সবাইকে বেকসুর খালাস দিয়েছে আদালত।
ঢাকার চার নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক রবিউল আলম বুধবার এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।
খালেদা জিয়া বর্তমানে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে রয়েছেন। তিনি যখন ২০০১-২০০৬ মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, সে সময় দুর্নীতির অভিযোগ এনে ২০০৭ সালে জরুরি অবস্থার সময় এ মামলা দায়ের করা হয়েছিল।
খালাস পাওয়া বাকি সাতজন হলেন- সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সি এম ইউছুফ হোসাইন, বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, ইন্টারন্যাশনাল ট্রাভেল করপোরেশনের চেয়ারম্যান সেলিম ভূঁইয়া ও নাইকোর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ।
কানাডীয় কোম্পানি নাইকোর সঙ্গে ‘অস্বচ্ছ’ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতি ও দুর্নীতির অভিযোগে ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর ১১ জনের বিরুদ্ধে এ মামলা করেন দুদকের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম।
পরের বছর ২০০৮ সালের ৫ মে খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। সেখানে রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতি করার অভিযোগ আনা হয় আসামিদের বিরুদ্ধে।
ওই ১১ জনের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন ও বাপেক্সের সাবেক সচিব মো. শফিউর রহমান মারা যাওয়ায় মামলা থেকে তাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়।
খালেদা জিয়াসহ আট আসামির বিরুদ্ধে ২০২৩ সালের ১৯ মার্চ অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন বিচারক শেখ হাফিজুর রহমান।
এ মামলার বিচার চলাকালে ৬৮ সাক্ষীর মধ্যে ৩৯ সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। বাদী ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি মামলাটি রায়ে পর্যায়ে আসে।
সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং পরে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে তিন ডজনের বেশি মামলা করা হয়েছিল।
এর মধ্যে জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় তার ১০ বছরের এবং জিয়া এতিমখানা দুর্নীতি মামলায় ৭ বছরেরর সাজার রায় হয়।
ওই দুই মামলার রায়ে তাকে কারাগারেও যেতে হয়েছিল। ২০২০ সালের মার্চে সাজা স্থগিত করে নির্বাহী আদেশে খালেদা জিয়াকে সাময়িক মুক্তি দেয় সরকার।
গতবছর অগাস্টে আওয়ামী লীগের সরকারপতনের পর ওই দুই মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা মওকুফ করে তাকে পুরোপুরি মুক্তি দেন রাষ্ট্রপতি।
তবে নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার জন্য সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী আইনি লড়াই চালিয়ে যান। আপিল বিভাগ জিয়া এতিমখানা দুর্নীতি মামলায় এবং হাই কোর্ট জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় তাকে খালাস দেয়।
ওই দুটি মামলা ছাড়াও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে মন্তব্য এবং ভুয়া জন্মদিন উদযাপনের অভিযোগে আওয়ামী লীগের আমলে দায়ের হওয়া মানহানির পাঁচ মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন।
