Published : 17 Jul 2025, 10:11 PM
গত বছর জুলাই ও অগাস্ট মাসে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান দমনে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হত্যা-নিপীড়নের ঘটনায় দায়ের করা সহস্রাধিক মামলার মধ্যে ১২টির অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অভিযোগপত্র জমা পড়া মামলাগুলোর মধ্যে তিনটি হত্যা মামলা, বাকি নয়টি অন্যান্য ধারার।
তবে ওই সময়ের ঘটনায় মোট কয়টি মামলা হয়েছে এবং কোন মামলার চার্জশিট কবে দেওয়া হয়েছে, সে তথ্য বিজ্ঞপ্তিতে নেই।
অভিযোগপত্র জমা পড়া তিনটি হত্যা মামলাই শেরপুর জেলার। অন্যান্য ধারার নয়টি মামলার মধ্যে ঢাকা মহানগর এবং বরিশাল মহানগর পুলিশের একটি করে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার তিনটি, সিরাজগঞ্জ জেলা এবং পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের দুটি করে মামলা রয়েছে।
এছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অর্ধশতাধিক মামলা হয়েছে। সেখানে চারটি মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে এবং দুটি মামলার বিচার শুরুর আদেশ হয়েছে। এর একটি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও আসামি।
২০২৪ সালের জুলাই মাসে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া ছাত্রদের আন্দোলন শেষমেশ সরকার উৎখাতের ইতিহাস পড়ে।
সেই আন্দোলনে ৫ অগাস্ট ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে পালাতে বাধ্য হন সাড়ে ১৫ বছর দেশ চালিয়ে আসা শেখ হাসিনা।
শুরুতে এই আন্দোলনের কেন্দ্র ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পরে তা দাবানলের মত ছড়িয়ে পড়ে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে।
সরকারের তরফে জবাব ছিল- গুলি, টিয়ারশেল আর লাঠি; এককথায় কেবলই বলপ্রয়োগ। প্রথমে ফেইসবুক, পরে ইন্টারনেট বন্ধ করে পরিস্থিতি সামাল দিতে চায় সরকার। তাতে হিতে বিপরীত হয়।
আন্দোলনে রক্তপাত শুরু হওয়ার ২০ দিনের মধ্যেই লাশ আর রক্তের বোঝা মাথায় নিয়ে পতন হয় দেড় দশকের আওয়ামী লীগ সরকারের। পালাতে বাধ্য হন শেখ হাসিনা।
জুলাই অভ্যুত্থানে নিহতদের যে তালিকা সরকার গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে, সেখানে শহীদের সংখ্যা ৮৩৪। তবে অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে জাতিসংঘ যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, সেখানে ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্টের মধ্যে ১৪০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হতে পারে বলে ধারণা দেওয়া হয়েছে।
সরকার পতনের পর দেশের বিভিন্ন থানায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সে সময়ের মন্ত্রী, আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা হয়।
পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এসব মামলায় সঠিক তদন্ত নিশ্চিত করার জন্য ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা তদারক করছেন।