১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

আইপিও ‘জালিয়াতি’: ১০ সিএ ফার্মের তথ্য চেয়েছে দুদক

এজন্য তিন সদস্যের অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়েছে, যার প্রধান করা হয়েছে দুদকের উপপরিচালক মাহবুবুর রহমানকে।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 28 Jan 2026, 10:00 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:48 PM

আর্থিক কোম্পানিতে নিরীক্ষা চালানো ১০ প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

ব্যাংক ও শেয়ারবাজারসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আইপিও ও বোনাস শেয়ার জালিয়াতি করে অর্থ আত্মসাত সংক্রান্ত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন এ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। 

অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে এরই মধ্যে ১০টি চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট (সিএ) ফার্মের নথিপত্র তলব করা হয়েছে।

দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, ব্যাংক, শেয়ারবাজার ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আইপিও ও বোনাস শেয়ার জালিয়াতি করে ১২ হাজার ২০০ কোটি টাকা আত্মসাতের একটা অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগটি উঠেছে ব্যবসায়ী পি কে হালদার, এস আলম, সালমান এফ রহমানসহ সংশ্লিষ্ট নিরীক্ষকদের বিরুদ্ধে। 

দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন বুধবার সাংবাদিকদের বলেন, “এ অভিযোগে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে একটি অনুসন্ধান দলও গঠন করা হয়েছে।”

তিন সদস্যের অনুসন্ধান দলের প্রধান করা হয়েছে দুদকের উপপরিচালক এ কে এম মাহবুবুর রহমানকে। 

বাকি দুজন হলেন— সহকারী পরিচালক মো. ইকরাম হোসেন জেনসন এবং উপসহকারী পরিচালক আবু মোহাম্মদ আনোয়ারুল মাসুদ।

অনুসন্ধানে তথ্য সরবরাহের জন্য ‘দ্য ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড একাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ’ (আইসিএবি) এর প্রেসিডেন্টের কাছে এরই মধ্যে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুদকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। 

বিষয়টিকে ‘অতীব জরুরি’ হিসেবে তুলে ধরে চিঠিতে বলা হয়েছে, ১০টি সিএ ফার্মের নাম, ঠিকানা ও নিবন্ধন নম্বরসহ বিস্তারিত তথ্য ৫ ফেব্রুয়ারি মধ্যে পাঠাতে হবে।

১০ সিএ ফার্মের তালিকায় রয়েছে— একনাবিন, এ কাশেম অ্যান্ড কোম্পানি, রহমান রহমান হক, হোদা ভাসী অ্যান্ড কোম্পানি, এম জে আবেদিন অ্যান্ড কোম্পানি, ম্যাবস অ্যান্ড পার্টনারস, হাওলাদার ইউনুস অ্যান্ড কোম্পানি, খান এহান শাফির রহমান অ্যান্ড কোম্পানি, সিনাকি অ্যান্ড কোম্পানি এবং এম এম রহমান অ্যান্ড কোম্পানি।

এ বিষয়ে আইসিএবির প্রেসিডেন্ট এন কে এ মবিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এটি কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ বিষয় নয়। যদি অভিযোগ দুদকে গিয়ে থাকে, তাহলে তদন্ত হওয়াই স্বাভাবিক এবং সেটিই হওয়া উচিত।

“তবে এখানে মনে রাখতে হবে, অডিটররা পুরো বছরের হিসাব তৈরি করেন না; আর্থিক বিবরণী প্রস্তুত করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজমেন্ট। অডিটররা নির্দিষ্ট সময়ে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত টেস্ট বেসিসে অডিট করেন।”

তিনি বলেন, “অডিট প্রক্রিয়ায় যদি কোনো গাফিলতি বা অনিয়ম প্রমাণিত হয়, তাহলে অডিটর অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আসবেন। এ নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। তবে একইসঙ্গে দেখতে হবে প্রাইমারি রেগুলেটরদের ভূমিকা।

“বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো সারা বছর ধরে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক রিপোর্ট নিয়ে তদারকি করে থাকে। সুতরাং দায় নির্ধারণ করতে হলে অডিটর, ম্যানেজমেন্ট এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সম্মিলিত ভূমিকা পর্যালোচনা করা জরুরি। পুরো বিষয়টিকে আলাদা করে নয়, বরং সম্পূর্ণ ভ্যালু চেইন ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আলোকে বিচার করাই যুক্তিসঙ্গত।”