Published : 20 Feb 2026, 04:04 PM
বকেয়া সংক্রান্ত জটিলতায় ভারতীয় এয়ারলাইন্স স্পাইসজেটকে বাংলাদেশের আকাশসীমায় ‘ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না’ বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে ভারতের সংবাদ সংস্থা পিটিআইসহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম।
তবে বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) বলছে, গত বছরের মার্চ মাসে স্পাইসজেট সর্বশেষ বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহার করেছে। এরপর আর তারা বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি চায়নি।
বৃহস্পতিবার পিটিআইর বরাত দিয়ে আনন্দবাজারে পত্রিকার অনলাইনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, “স্পাইসজেট-কে নিজেদের আকাশসীমায় প্রবেশ করতে ‘দিচ্ছে না’ বাংলাদেশ। সূত্র মারফত এমনটাই জানাচ্ছে সংবাদসংস্থা পিটিআই। জানা যাচ্ছে, বকেয়া সংক্রান্ত জটিলতার কারণেই এই ‘সিদ্ধান্ত’ নিয়েছেন বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ।”
আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের আকাশ ব্যবহার করতে না পারায় কলকাতা থেকে গুয়াহাটি-সহ বেশ কিছু রুটে স্পাইসজেটের বিমানগুলিকে ঘুরপথে উড়তে হচ্ছে। এতে সময়ও বেশি লাগছে। এ বিষয়ে স্পাইসজেটের এক মুখপাত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করে পিটিআই। তিনি জানান, নেভিগেশন সংক্রান্ত খরচ এবং অন্য অপারেশনাল বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চালাচ্ছে স্পাইসজেট।
মুখপাত্রের কথায়, “এগুলি বিমান পরিষেবার ক্ষেত্রে খুব সাধারণ কিছু সমস্যা। আমরা একটি প্রাথমিক সমাধানসূত্রের জন্য গঠনমূলক আলোচনা চালাচ্ছি।”
যোগাযোগ করা হলে সিভিল এভিয়েশনের সদস্য (ফ্লাইট স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড রেগুলেশন্স) এয়ার কমোডর মুকিত-উল-আলম মিয়া বলেন, “আমি ইগজ্যাক্ট ফিগারটা এখনই বলতে পারছি না, তবে তাদের কাছে আমাদের ৩০ লাখ ডলারের মতো একটা পাওনা জমেছিল। প্রতি মাসে তারা এক লাখ করে ডলার পরিশোধ করবে, এমন একটা সেটেলমেন্টে তারা ওভারফ্লাই করছিল। আমরা তাদের ওভারফ্লাই করা বন্ধ করিনি।”
সিভিল এভিয়েশনের এই সদস্য বলেন, “আমার যতদূর মনে পড়ে, গত বছরের মার্চ পর্যন্ত তারা ওভারফ্লাই করেছে, পেমেন্টও করেছে। এরপর তারা আমাদের কাছে আর ওভারফ্লাই চায়নি। তাদের হয়তো কিছু দেনা জমেছে।”
তিনি বলেন, “অলমোস্ট এক বছরের পুরনো এই ঘটনা নিয়ে কেন হঠাৎ ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো সরব হল, বুঝলাম না। তবে তাদের বিষয়টা সর্বশেষ কী অবস্থায় আছে তা জানতে আমরা রমজান মাসের ছুটির দিনেও অফিস খুলছি।”
সিভিল এভিয়েশন এই কর্মকর্তা বলছেন, ২০২২ সাল পর্যন্ত ঢাকায় ফ্লাইট চালিয়েছে স্পাইসজেট। এরপর তাদের বাণিজ্যিক কারণেই তারা ফ্লাইট চালানো বন্ধ করেছে।
সাধারণত ভিন্ন একটি দেশের আকাশসীমা কোনো এয়ারলাইন্স ব্যবহার করতে চাইলে এটার জন্য একটা নির্ধারিত অঙ্কের ফি পরিশোধ করতে হয়। বাংলাদেশের ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়া (ওভারফ্লাই) যেকোনো বিদেশি এয়ারলাইন্স এই ফি পরিশোধ করে থাকে।