Published : 07 Jul 2026, 12:06 PM
হাইতির অস্থিতিশীল পরিস্থিতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ পুলিশের তিনটি বিশেষায়িত ইউনিট তাদের প্রস্তুতি শেষ করেছে বলে জাতিসংঘের কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পঞ্চম জাতিসংঘ পুলিশ প্রধানদের সম্মেলন 'ইউএন-কপস' এ অংশ নিতে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে অবস্থান করছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সোমবার সেখানে জাতিসংঘের ডিপার্টমেন্ট অব অপারেশনাল সাপোর্ট (ডিওএস)-এর আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল অতুল খারের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশ পুলিশের প্রস্তুতি কথা তুলে ধরেন তিনি।
জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেলকে সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, "হাইতির বর্তমান অস্থিতিশীল ও জটিল নিরাপত্তা পরিস্থিতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ পুলিশ অত্যন্ত আধুনিক ও উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তিনটি বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট মোতায়েনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।"
এই ইউনিটগুলো সোয়াত, র্যাপিড রেসপন্স প্ল্যাটুন, বিস্ফোরক অর্ডন্যান্স নিষ্ক্রিয়করণ, ফরেনসিক ও ক্রাইম সিন ম্যানেজমেন্ট, সংগঠিত অপরাধ ও সাইবার ক্রাইম তদন্ত, নৌ-কার্যক্রম এবং মাদকবিরোধী অভিযানে বিশেষভাবে পারদর্শী বলে তথ্য দেন তিনি।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হাইতিতে এই বিশেষায়িত সক্ষমতার সর্বোত্তম ব্যবহারের লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর কাছে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পেশ করেন।
এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য বাংলাদেশ পুলিশের তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল আগামী ১৫-১৭ জুলাই জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বৈঠকে অংশ নেবে। সেই আলোচনা সফল করতে এবং প্রস্তাবিত সরঞ্জাম অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর পূর্ণ সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন মন্ত্রী।
হাইতির নিরাপত্তা পরিস্থিতি গত এক দশকে ধারাবাহিকভাবে অবনতি হয়েছে। বিশেষ করে ২০২১ সালে প্রেসিডেন্ট জোভেনেল ময়িসের হত্যাকাণ্ডের পর দেশটি রাজনৈতিক শূন্যতা, সশস্ত্র গ্যাংয়ের দখল এবং মানবিক সংকটে পড়ে।
২০২৪ সাল থেকে একটি বহুজাতিক নিরাপত্তা সহায়তা মিশন হাইতির আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা দিচ্ছে। জাতিসংঘের সহায়তায় এ মিশনের নেতৃত্ব দিচ্ছে কেনিয়া। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বড় ভূমিকা রেখে চলা বাংলাদেশ হাইতিতেও দায়িত্ব পালন করছে।
মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেলের সঙ্গে বৈঠকে শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত বাংলাদেশি সামরিক ও পুলিশ কন্টিনজেন্টগুলোর পরিচালনাগত সহযোগিতা, আর্থিক ক্ষতিপূরণ, পরিবেশগত টেকসই উন্নয়ন, 'নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা' এজেন্ডা এবং হাইতিতে বাংলাদেশের বিশেষায়িত পুলিশ কন্টিনজেন্ট মোতায়েনের প্রস্তুতিসহ দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
মন্ত্রী বলেন, "বাংলাদেশ বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সৌর প্যানেল স্থাপন করেছে। এই খাতে বাংলাদেশের যে বিশেষায়িত অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতা রয়েছে, তা ব্যবহার করে জাতিসংঘের সহযোগিতায় ভবিষ্যতে মিশন এলাকাগুলোতে আরও ব্যাপকভাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও সৌর প্যানেল স্থাপনে বাংলাদেশ কাজ করতে আগ্রহী।"
তিনি মিশন এলাকায় নারী শান্তিরক্ষীদের জন্য নিরাপদ, উপযুক্ত এবং অনুকূল কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে জাতিসংঘকে আরও বেশি পরিবেশবান্ধব ও নারী-বান্ধব অবকাঠামো নির্মাণে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান।
পাশাপাশি প্রতিকূল বা শত্রুভাবাপন্ন আক্রমণাত্মক পরিস্থিতিতে শান্তিরক্ষীরা যাতে আরও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সেজন্য তাদের পর্যাপ্ত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং উন্নত প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেন মন্ত্রী।
জাতিসংঘ পুলিশ প্রধানদের সম্মেলনে বাংলাদেশের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ। আগামী ১২ জুলাই তাদের দেশে ফেরার কথা রয়েছে।