Published : 15 Oct 2025, 05:46 PM
রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভনিউতে, সংসদ ভবনের পাশ দিয়ে ফার্মগেটের দিকে হাঁটতে হাঁটতে চোখে পড়বে পাহাড়ি খাবারের অন্তত চারটি ফুড কার্ট।
এগুলো হল- ‘বেলাশেষে মুংডি’, ‘লাবা তং মুংডি’, এবং ‘মুংডি হাউজ’ নামে দুটি কার্ট।
এই কার্টগুলো এখন ভোজনরসিকদের কাছে এক অনন্য গন্তব্য হয়ে উঠেছে।
পার্বত্য অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী খাবার মুংডি এবং লাকসু এখানে এমনভাবে পরিবেশন করা হয়, যা তরুণ থেকে শুরু করে সব বয়সি খাদ্যপ্রেমীদের মন কেড়েছে।
পাহাড়ি খাবারের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা
বর্তমানে ঢাকার ভোজনরসিকদের কাছে পাহাড়ি খাবারের চাহিদা বেড়েছে বহুগুণ। ‘ফুড কর্নার’ থেকে শুরু করে পুরোদস্তুর রেস্তোরাঁ— রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে পাহাড়ি খাবারের আড্ডা।
কিছু জায়গায় খাবারের স্বাদ ও মান এতটাই ভালো যে খাদ্যরসিকদের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়েছে তাদের গল্প।
তবে পাহাড়ি খাবারের স্বাদের জন্য বর্তমানে সংসদ ভবনের সামনে ফুটপাথের ওপর বসা এই ফুড কার্টগুলো সবার কাছে প্রিয়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়- এখানে মুংডির ঝোল এবং লাকসুর স্বাদ নিতে জড়ো হয়েছেন ভোজনপ্রিয় সমতলের মানুষেরা।
এই কার্টগুলোর মধ্যে বিশেষ আকর্ষণ হল এর পরিবেশ— যেখানে প্রকৃতির ছায়া আর খাবারের সুবাস মিলে এক অনন্য অভিজ্ঞতা তৈরি করে।
মুংডি: পাহাড়ি খাবারের সিগনেচার পদ
পাহাড়ি খাবারের কথা উঠলেই প্রথমে মনে পড়ে মুংডির নাম। তিন পার্বত্য জেলার এই ঐতিহ্যবাহী খাবার এখন ঢাকাতেও ‘ট্রেন্ডিং’।
চালের নুডলস, মুরগির মাংস, সেদ্ধ ডিম, চিংড়ির গুঁড়া, গোলমরিচ, চিলি ফ্লেক্স, পেঁয়াজকুচি, ধনেপাতা এবং একটি বিশেষ স্যুপের সমন্বয়ে তৈরি হয় এই মুখরোচক পদ।
এই স্যুপই মুংডির প্রাণ, যা এর স্বাদকে করে তুলেছে অতুলনীয়। দামও সাশ্রয়ী। ৫০ থেকে ১শ’ টাকার মধ্যে পাওয়া যায় চার ধরনের মুংডি, যা সবার সাধ্যের মধ্যে।
লাকসু: পাহাড়ি স্বাদের আরেক রত্ন
মুংডির পাশাপাশি এখানে পাওয়া যায় পার্বত্য অঞ্চলের আরেক জনপ্রিয় খাবার— লাকসু বা চিকেন চাটনি।
বিশেষভাবে সেদ্ধ করা মাংসের সঙ্গে পেঁয়াজকুচি, ধনেপাতা, কাঁচামরিচ এবং লেবুর রস মিশিয়ে তৈরি এই লাকসুর দাম মাত্র ১শ’ টাকা।
আড্ডার ফাঁকে বা দ্রুত খাবার হিসেবে এটি ভোজনরসিকদের কাছে দারুণ পছন্দের। এর স্বাদ এতটাই স্বতন্ত্র যে একবার খেলে বারবার ফিরে আসতে ইচ্ছে করে।
স্বাস্থ্যকর পানীয় ও মিষ্টান্ন
মুংডি এবং লাকসু ছাড়াও এই ফুড কার্টে পাওয়া যায় স্বাস্থ্যসম্মত রোজেলা চা, আমড়ার জুস এবং পাহাড়ি বিন্নি চালের পায়েস।
এই পানীয় ও মিষ্টান্নগুলো শুধু স্বাস্থ্যকরই নয়, স্বাদেও অতুলনীয়।
আমড়ার জুসের টাটকা স্বাদ বা বিন্নি চালের পায়েসের ঐতিহ্যবাহী মাধুর্য পাহাড়ি খাবারের অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করে।
পরিচ্ছন্নতা ও সেবার মান
‘বেলাশেষের মুংডি’ ফুড কার্টের উদ্যোক্তা লুসা বলেন, “প্রতিযোগিতার এই বাজারে আমরা মান এবং অথেনটিক স্বাদের ওপর জোর দিচ্ছি। পথের ধারে হলেও হাইজিন মেনে খাবার পরিবেশন করা হয়।”
বসে খাওয়ার পাশাপাশি পার্সেল নেওয়ার সুযোগ রয়েছে, তাও কোনো অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই।
কখন ও কীভাবে যাবেন?
প্রতিদিন বেলা সাড়ে ৩টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকে এই ফুড কার্টগুলো।
মানিক মিয়া অ্যাভনিউতে সংসদ ভবনের পাশে অবস্থিত এই জায়গায় পৌঁছানো বেশ সহজ।
পাহাড়ি খাবারের খাঁটি স্বাদ উপভোগ করতে চাইলে ‘মুংডি’ ফুড কার্টে ঢুঁ মারা যেতেই পারে।