গাজায় যুদ্ধবিরতির জন্য যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডানের চাপ

রাফায় ইসরায়েলের স্থল হামলা শুরু করার হুমকির মুখে ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধবিরতি সমঝোতা নিয়ে ফের কাজ শুরু করছেন মধ্যস্থতাকারীরা।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 13 Feb 2024, 04:57 AM
Updated : 13 Feb 2024, 04:57 AM

ফিলিস্তিনি ছিটমহল গাজায় একটি যুদ্ধবিরতি শুরু করতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর ওপর চাপ অব্যাহত রেখেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও জর্ডানের বাদশা আবদুল্লাহ।

গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর রাফায় ইসরায়েলের স্থল হামলা শুরু করার হুমকির মুখে ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধবিরতি সমঝোতা নিয়ে মঙ্গলবার ফের কাজ শুরু করছেন মধ্যস্থতাকারীরা।

এ উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, গাজা থেকে ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তি ও লড়াইয়ে দীর্ঘমেয়াদি একটি বিরতির প্রস্তাব সামনে রেখে তিন ধাপের একটি যুদ্ধবিরতির কাঠামো নিয়ে কাজ শুরু করতে যুক্তরাষ্ট্র, মিশর, ইসরায়েল ও কাতারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কায়রোতে বসার কথা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র সফররত বাদশা আবদুল্লাহর সঙ্গে হোয়াইট হাউজে বৈঠক করার পর সোমবার বাইডেন বলেন, “ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে একটি জিম্মি চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করছে, এর মাধ্যমে গাজায় অবিলম্বে ও অন্তত ছয় সপ্তাহের জন্য শান্ত পরিস্থিতি বিরাজ করবে।”

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, তিনি ‘রাতদিন’ এই ইস্যুটি নিয়ে কাজ করছেন। তিনি বলেন, সংঘাতে ছয় সপ্তাহের বিরতি ‘আরও দীর্ঘমেয়াদি কিছু নির্মাণের’ ভিত্তি স্থাপন করবে।

বাদশা আবদুল্লাহ ফিলিস্তিনিদের দুর্দশার দিকটি তুলে ধরেন, বিশেষ করে গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর রাফায় যে ১০ লাখেরও বেশি বেসামরিক আশ্রয়ের খোঁজে আছেন তাদের মানবেতর পরিস্থিতির দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

আবদুল্লাহ বলেন, “আমরা পাশে দাঁড়িয়ে থেকে এটি চলতে দিতে পারিনা। এখনই আমাদের একটি টেকসই যুদ্ধবিরতি দরকার। এই যুদ্ধ অবশ্যই শেষ করতে হবে।”

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বিশ্বাসযোগ্য কোনো পরিকল্পনা ছাড়া ইসরায়েলকে রাফায় হামলা না চালানোর জন্য বলেছিলেন, কিন্তু তার পরামর্শ উপেক্ষা করেই রোববার দিবাগত রাতে শহরটিতে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।

গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইসরায়েলের হামলায় রাফায় ৭৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত ও আরও বহু আহত হয়েছে।

এই হামলা চলাকালে তাদের বিশেষ বাহিনী অভিযান চালিয়ে রাফা থেকে দুই ইসরায়েলি জিম্মিকে উদ্ধার করেছে বলে দাবি ইসরায়েলের।

গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে নজিরবিহীন হামলা চালিয়ে প্রায় ১২০০ জনকে হত্যা করে হামাস। এর প্রতিশোধ নিতে ওই দিন থেকেই হামাস শাসিত গাজায় ভয়াবহ নির্মম হামলা শুরু করে ইসরায়েল। চার মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা তাদের অবিরাম হামলায় গাজা ভূখণ্ড ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গাজায় ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত ২৮৩৪০ জন ফিলিস্তিনি নিহত ও ৬৭৯৮৪ জন আহত হয়েছে। আরও অনেক মৃতদেহ ধ্বংস হয়ে যাওয়া ভবনগুলোর নিচে চাপা পড়ে আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, গাজার অধিকাংশ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ায় ভূখণ্ডটির ২৩ লাখ বাসিন্দার প্রায় সবাই উদ্বাস্তুতে পরিণত হয়েছে। এদের বড় একটি অংশ মিশরের সীমান্ত সংলগ্ন রাফায় আশ্রয় নিয়ে আছে।

আরও পড়ুন:

Also Read: 'আমরা কোথায় যাব?' রাফায় ইসরায়েলের হামলায় আতঙ্ক

Also Read: পশ্চিম তীরে চার ইসরায়েলির ওপর যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা

Also Read: রাফাহ থেকে দুই জিম্মিকে মুক্ত করার দাবি ইসরায়েলি বাহিনীর

Also Read: রাফার শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৬৭