'আমরা কোথায় যাব?' রাফায় ইসরায়েলের হামলায় আতঙ্ক

গাজার হামাস-পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ইসরায়েলের বিমান হামলায় রাফাহ নগরীতে এরই মধ্যে প্রাণ হারিয়েছে ৬৭ জন।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 12 Feb 2024, 03:39 PM
Updated : 12 Feb 2024, 03:39 PM

গাজার রাফাহ নগরী বিশ্বে সবচেয়ে জনবহুল এলাকাগুলোর অন্যতম। সেখানে আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলো কয়েকবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ইসরায়েলি হামলা থেকে বাঁচতে বিভিন্ন জায়গা থেকে বার বার পালিয়ে রাফাহ আশ্রয় নিয়েছে অন্তত ১৪ লাখ মানুষ। তারা সেখানে খাবার-পানির জন্য সংগ্রাম করছে। তার মধ্যেই ইসরায়েলের চলমান অভিযান এই মানুষগুলোর মধ্যে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে।

ইসরায়েলের বিমান হামলায় রাফাহ নগরীতে এরই মধ্যে প্রাণ হারিয়েছে ৬৭ জন। গাজার হামাস-পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় মৃতের সংখ্যার এ হিসাব দিয়েছে।

গাজায় কয়েকমাসের যুদ্ধে দক্ষিণের মানুষেরা পালিয়ে এসে রাফাহ তে আশ্রয় নিয়ে আছে। ইসরায়েলের হামলার মুখে এখন তারা আতঙ্কিত। সেখানকার এক চিকিৎসক বিবিসি কে বলেছেন, মানুষের মনে এখন একটাই প্রশ্ন, “আমরা কোথায় যাব?”

ফিলিস্তিনিদের জন্য মানবিক ত্রাণ ও কর্মসংস্থান বিষয়ক জাতিসংঘ সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ প্রধান ফিলিপ ল্যাজারিনি ব্রাসেলসে সাংবাদিকদের বলেছেন, রাফায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান নিয়ে একটি গভীর আতঙ্কের আবহ তৈরি হয়েছে।

যুদ্ধের কারণে গাজায় যে প্রাণহানি হচ্ছে তা অবর্ণনীয় বলে বর্ণনা করেন তিনি। ল্যাজিারিনি বলেন, ২০ লাখ মানুষের মধ্যে ৫ শতাংশই নিহত, আহত কিংবা নিখোঁজ হচ্ছে।

তিনি জানান, উত্তর গাজায় আটকা পড়া প্রায় ৩ লাখ মানুষ অনাহারে আছে। ২৩ জানুয়ারি থেকে সেখানকার ফিলিস্তিনিদের খাবার পৌঁছতে পারছে না জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা।

ওদিকে, রাফাহ নগরীতে চলমান হামলার কারণে কাজ চালানো আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। নগরীতে লড়াইয়ের কারণে স্থানীয় পুলিশ জাতিসংঘ ত্রাণবাহী ট্রাকগুলাকে এই প্রথমবারের মতো সুরক্ষা দিতে পারছে না। ফলে সীমান্তে ট্রাকগুলো লুটের শিকার হচ্ছে।

রাফাহ তে নাগরিক শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ছে। পুলিশও নিজেদের জীবনের ঝুঁকির কারণে ত্রাণবাহী গাড়িবহরের সুরক্ষায় কাজ করতে চাইছে না বলে জানান ল্যাজারিনি।

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরায়েলকে আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, রাফাহ নগরীতে স্থল অভিযান চালানোর আগে তারা যেন ভালভাবে চিন্তা-ভাবনা করে। সেখানে আশ্রয় নেওয়া মানুষের ওপর কী প্রভাব পড়বে সেটি ভেবে দেখে।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “তাদের জন্য যাওয়ার জায়গা কোথাও নাই। তারা দক্ষিণে মিশরে যেতে পারবে না। তারা উত্তর গাাতেও ফিরে যেতে পারবে না। কারণ,সেখানে বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে।”

“সুতরাং, আমরা বিদ্যমান পরিস্থিতিতে খুবই উদ্বিগ্ন। আমরা চাই ইসরায়েল থামুক এবং বাড়তি কোনও পদক্ষেপ নেওয়ার আগে ভালভাবে চিন্তা করুক।”

ক্যামেরন লড়াইয়ে বিরতির আহ্বান পুনরায় ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, বিরতি হলে গাজায় আরও ত্রাণ ঢুকব এবং ইসরায়েলি জিম্মিরাও মুক্তি পাবে। এখন সবচেয়ে ভাল পন্থা হচ্ছে, লড়াই থামানো এবং স্থায়ী ও টেকসই একটি যুদ্ধবিরতিতে যাওয়া।”

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘন করে রাফাহ নগরীতে পুরোদস্তুর সামরিক অভিযান শুরু না করার জন্য ইসরায়েলকে সতর্ক করে দিয়েছেন।

তিনি বলেন, সেখানে বেসমিরিক নাগরিকের সংখ্যা খুবই বেশি। হামলা চালানোটা হবে ভয়াবহ। আবারও বেশিরভাগ নারী, শিশু হতাহতের ঘটনা ঘটবে।

আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার বাধ্যবাধকতার বিষয়ে ইসরায়েলকে স্পষ্টতই সতর্ক করে দিয়ে তুর্ক বলেছেন, রাফাহতে লড়াই করা মানেই ‘আরও নৃশংস অপরাধ সংঘটনের’ ঝুঁকি নেওয়া।

তিনি বলেন, ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন পুরোপুরি মেনে চলাসহ আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতের নির্দেশ মানার বাধ্যবাধকতা পালন করতে হবে। যে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করবে তাকে নজরদারিতে রাখা হবে এবং এর জন্য তাকে জবাবদিহিও করতে হবে।

রেডক্রস বলেছে, গাজায় মানুষজনকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য ‘কোনও নিরাপদ জায়গা’ নেই। ইসরায়েল সরকার রাফাহ নগরীতে স্থলঅভিযান শুরুর আগে ত্রাণ সংস্থাগুলোকে সেখান থেকে মানুষজনকে সরিয়ে নেওয়ার ডাক দেওয়ার পর রেডক্রস একথা বলেছে।

রাফাহতে আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটির (আইসিআরসি) মুখপাত্র হিশাম মান্না বলেন, “এই বিপুল সংখ্যক মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার কোনও জায়গা নেই। গাজার কোথাও এখন নিরাপদ পরিবেশ নেই। নিরাপদ একটি জায়গা নেই। সুতরাং রাফাহ থেকে মানুষজনকে সরিয়ে নেওয়ার কোনও জায়গা আমি দেখি না।’