০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

মিয়ানমারে ক্লিনিক ও স্কুলে সামরিক বাহিনীর হামলা, নবজাতকসহ নিহত ১৫

হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একটি ক্লিনিকের প্রসূতি ওয়ার্ড ও একটি বিদ্যালয়। পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যের চারটি এলাকায় বিমান হামলা চালানো হয়।

মিয়ানমারে ক্লিনিক ও স্কুলে সামরিক বাহিনীর হামলা, নবজাতকসহ নিহত ১৫

ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 02 Nov 2026, 07:12 PM

Updated : 02 Nov 2026, 07:12 PM

মিয়ানমারে সপ্তাহান্তে সামরিক বাহিনীর চালানো একাধিক বিমান হামলায় অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে এক নবজাতক ও তিন শিক্ষার্থী রয়েছে।

হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একটি ক্লিনিকের প্রসূতি ওয়ার্ড ও একটি বিদ্যালয়। সোমবার স্থানীয় জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী, ত্রাণকর্মী ও মানবাধিকারকর্মীরা এ তথ্য জানিয়েছেন।

রয়টার্স লিখেছে, দেশটির বড় একটি অংশ এখন জান্তাবিরোধী বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে। হারানো ভূখণ্ড পুনরুদ্ধারে সামরিক বাহিনী অভিযান জোরদার করেছে। এর মধ্যেই বেসামরিক স্থাপনায় এই প্রাণঘাতী হামলার খবর এল।

হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সামরিক সরকারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তারা দাবি করে আসছে, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধেই এ অভিযান চলছে।

রোববার পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যের চারটি এলাকায় বিমান হামলা চালানো হয়। আরাকান আর্মি এখন রাজধানী সিত্তের কাছাকাছি চলে আসায় সেখানে তীব্র লড়াই চলছে।

বোমা ফেলা হয়েছে কিয়াকতাওয়ের একটি সেতু এবং কিয়াকফিউ ও পাউকতাওয়ের কয়েকটি এলাকায়।

এছাড়া আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে থাকা ম্রাউক-ইউ শহরের একটি অস্থায়ী ক্লিনিক ও প্রসূতি ওয়ার্ডেও বোমা ফেলা হয়। এসব হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৩২ জন আহত হন।

ম্রাউক-ইউর ত্রাণকর্মী ওয়াই হুন অং জানান, বিস্ফোরণে ভবন ধসে এক সপ্তাহ বয়সী একটি কন্যাশিশু মারা গেছে। পরদিনই শিশুটির বাড়ি ফেরার কথা ছিল। তবে তার যমজ সঙ্গী বেঁচে গেছে।

সেখানে স্বাস্থ্যকর্মীসহ আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানান তিনি।

এর আগের দিন শনিবার থাইল্যান্ড সীমান্তবর্তী কায়াহ রাজ্যের লোইকাও শহরে পাঠদান চলাকালে একটি বিদ্যালয়ে বিমান হামলা চালানো হয়। কারেন্নি হিউম্যান রাইটস গ্রুপ (কেএনএইচআরজি) সোমবার জানায়, এতে তিন শিক্ষার্থী নিহত এবং পাঁচজন আহত হয়।

সংস্থাটি এবং কারেন্নি অন্তর্বর্তীকালীন নির্বাহী পরিষদের সচিব বানিয়ার খুন অং জানান, একটি ওয়াই-১২ পরিবহন বিমান ও একটি যুদ্ধবিমান থেকে স্কুলটিতে ২০টির বেশি বোমা ফেলা হয়।

ওই এলাকায় কোনও সামরিক তৎপরতা বা সংঘর্ষ ছিল না উল্লেখ করে তিনি বলেন, “যেখানে শিশুরা পড়াশোনা করছে, এমন একটি বিদ্যালয়কে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে দফায় দফায় বোমা ফেলা চরম অমানবিক এবং এটি যুদ্ধাপরাধের শামিল।”

ওদিকে এই সংঘাত সীমান্ত ছাড়িয়ে থাইল্যান্ডের অভ্যন্তরে ছড়িয়ে পড়ায় সীমান্তবর্তী এলাকায় যুদ্ধবিমান দিয়ে আকাশপথে পাহারা বাড়িয়েছে থাই বিমানবাহিনী। সংঘাতের কারণে থাই ভূখণ্ডে বেশ কিছু বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অন্তত একজন আহত হয়েছেন।

থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল জানিয়েছেন, পরিস্থিতি যেন থাইল্যান্ডকে প্রভাবিত না করে, সে বিষয়ে মিয়ানমারকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে তার সরকার।