Published : 30 Apr 2026, 03:48 PM
ইরানের নৌবাহিনীর কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহরাম ইরানি বলেছেন, তার দেশ ‘খুব শিগগিরই’ এমন এক অস্ত্র দিয়ে শত্রুর মোকাবলে করবে যা ‘নিয়ে তারা গভীরভাবে ভীত’।
“এই অস্ত্রটি এখন তাদের পাশেই আছে। আমি আশা করি তাদের হার্ট অ্যাটাক হবে না,” বলেছেন তিনি।
ইরান আরব সাগরের দিক থেকেও হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে, বুধবার তেহরানে এক অনুষ্ঠানে এমনটি জানাতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি; জানিয়েছে বার্তা সংস্থা তাসনিম।
এ সময় কমান্ডার শাহরাম ইরানের প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপগুলোও তুলে ধরেছেন। এসব পদক্ষেপের মধ্যে শত্রু ও তাদের মিত্রদের জাহাজগুলোর জন্য কৌশলগত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেছেন তিনি।
তিনি জানান, ইরান এবার আরব সাগরের দিক থেকেও হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে।
“যদি তারা (শত্রুরা) কাছে আসার চেষ্টা করে, অবিলম্বে আমরা অভিযান চালাবো,” বলেছেন তিনি।
বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের দেওয়া শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। ট্রাম্প জানিয়েছেন, তেহরান একটি পারমাণবিক চুক্তিতে রাজি না হওয়া পর্যন্ত দেশটির বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধ অব্যাহত থাকবে।
তাসনিম জানিয়েছে, এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা হরমুজ প্রণালিতে আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে জাহাজ চলাচলের জন্য সংশ্লিষ্ট ইরানি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমতি নেওয়ার শর্তারোপ করেছে।
মার্কিন নৌ-অবরোধ সত্ত্বেও ইরানি বন্দরগুলো থেকে কিছু জাহাজ ছেড়ে গেছে আর কিছু তাদের গন্তব্যে পৌঁছেছে বলে দাবি করেছেন কমান্ডার শাহরাম।
তিনি বলেছেন, “ইরানের বিরুদ্ধে সর্বশেষ বিনা উস্কানির আগ্রাসনের মাধ্যমে যতটা সম্ভব অল্প সময়ের মধ্যে তাদের লক্ষ্য অর্জন করবে বলে ভেবেছিল শত্রুরা, কিন্তু এই ধারণাটিই এখন সামরিক একাডেমিগুলোতে হাসির খোরাক হয়ে উঠেছে।”
আগ্রাসন চলাকালে শত্রুর লক্ষ্যস্থলগুলোতে ইরানি নৌবাহিনীর প্রতিশোধমূলক অভিযানগুলোর উল্লেখ করে তিনি জানান, মার্কিন বিমানবাহী রণতরী আব্রাহাম লিংকনের বিরুদ্ধে সাতটি ক্ষেপণাস্ত্র অভিযান চালানো হয়েছিল।
তিনি দাবি করেছেন, এই পাল্টা ব্যবস্থার কারণে যুক্তরাষ্ট্র একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিমানবাহী রণতরীটি থেকে বিমান উড্ডয়ন বা বিমান অভিযান পরিচালনা করতে পারেনি।
২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ আগ্রাসনের মুখে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী পশ্চিম এশিয়ার বিশাল অঞ্চলজুড়ে মার্কিন ও ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যস্থলগুলোর বিরুদ্ধে অন্তত ১০০ ‘সফল’ আক্রমণ চালিয়েছে বলে তাসনিম লিখেছে।
কমান্ডার শাহরাম বলেছেন, যুদ্ধ প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র নৌ ইউনিট প্ল্যাটফর্মগুলো থেকে ইরানের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল, পরবর্তীতে আরও বড় পরিসরে হামলার জন্য তাদের অতিরিক্ত ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করতে হয়।
“তা সত্ত্বেও, তারা স্থাবির হয়ে আছে,” বলেছেন তিনি।
আরও পড়ুন:
ইরানে ‘সংক্ষিপ্ত, শক্তিশালী মার্কিন হামলার’ সম্ভাবনায় তেলের দামে বড় লাফ
ইরানের শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন ট্রাম্প, অবরোধ অব্যাহত রাখার ঘোষণা