Published : 30 Apr 2026, 12:42 PM
ইরান যুদ্ধে সম্ভাব্য পদক্ষেপ ঘিরে মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে তাদের নতুন পরিকল্পনা বিষয়ে ব্রিফিং করতে যাচ্ছে, এমন খবরের পর বৃহস্পতিবার এশিয়ায় তেলের দামে বড় উল্লম্ফন দেখা গেছে।
তেহরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় অচলাবস্থা ভাঙতে ইরানে একের পর এক ‘সংক্ষিপ্ত ও শক্তিশালী’ হামলার পরিকল্পনা মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড প্রস্তুত করেছে বলে খবর দিয়েছে সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।
এ প্রসঙ্গে বিবিসি মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড ও হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কাছ থেকে কোনো জবাব পায়নি।
অ্যাক্সিওসের ওই খবরের পর বৃহস্পতিবার ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১২৪ ডলারে পৌঁছায়। ২০২২ সালে ইউক্রেইনে রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ সামরিক অভিযান শুরুর পর গত কয়েক বছরে তেলের এত দাম আর কখনোই দেখা যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে লেনদেন হওয়া ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট অপরিশোধিত তেলের দামও ব্যারেলপ্রতি ২ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ১০৯ ডলারে পৌঁছেছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ কার্যত বন্ধ থাকার পাশাপাশি ওয়াশিংটন-তেহরান শান্তি আলোচনা অচলাবস্থায় পৌঁছানোর পর চলতি সপ্তাহে প্রায় প্রতিদিনই তেলের দাম বাড়তে দেখা গেছে।
নামহীন একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে অ্যাক্সিওস বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র নতুন সামরিক অভিযান হতে পারে ইরানের বিভিন্ন অবকাঠামো লক্ষ্য করে।
আরেকটি পরিকল্পনা হচ্ছে হরমুজ প্রণালির কিছু অংশ দখলে নেওয়া, যার মাধ্যমে বাণিজ্যিক নৌচলাচল যুদ্ধপূর্ববর্তী অবস্থায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। তবে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ভূমিতে সেনা মোতায়েন করা লাগবে, বলছে অ্যাক্সিওস।
যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তেহরান যতক্ষণ হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের চেষ্টা করা নৌযানকে হুমকি দিয়ে বিশ্বে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটানো অব্যাহত রাখবে ততক্ষণই ইরানি বন্দরগুলোতে তাদের অবরোধ চলবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর তেহরান ইসরায়েলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন সামরিক ও স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনায় পাল্টা হামলা শুরু করে। এর পাশাপাশি বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত জলপথ হরমুজ প্রণালিও কার্যত বন্ধ করে দেয়।
ওয়াশিংটন ইরানে অবরোধের পরিধি বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে, এমন খবর আসার পর বুধবারও তেলের দাম প্রায় ৬% বেড়েছিল।
যুদ্ধের প্রভাব মার্কিন ক্রেতাদের ওপর যেন কম পড়ে তার পথ বের করতে মঙ্গলবার জ্বালানি কোম্পানির নির্বাহীরা ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করেছেন বলেও বুঝতে পেরেছে বিবিসি। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে—তাদের এ সাক্ষাতের পর বাজারে এমন উদ্বেগ আরও বেড়ে গেছে।