Published : 25 Jul 2025, 01:50 PM
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গাজা যুদ্ধবিরতি আলোচনায় অংশ নেওয়া তাদের প্রতিনিধি দলকে ফিরিয়ে নিয়েছে।
যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রস্তাব নিয়ে হামাসের প্রতিক্রিয়া দেখার পর বৃহস্পতিবার তারা এ পদক্ষেপ নেয় বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ যুদ্ধবিরতির আলোচনায় ফিলিস্তিনি সশস্ত্রগোষ্ঠী হামাস আন্তরিক নয় বলে দোষারোপ করেছেন।
গাজায় যুদ্ধবিরতি, জিম্মি ইসরায়েলিদের মুক্তি ও চরম মানবিক সঙ্কটে ভুগতে থাকা ফিলিস্তিনিদের স্বস্তি নিশ্চিত করতে চুক্তির প্রচেষ্টায় এটা সর্বশেষ ধাক্কা, বলছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
উইটকফ বলেছেন, মধ্যস্থতাকারী অনেক চেষ্টা করেছেন। কিন্তু হামাসকে ‘সমন্বয় করে চলতে বা আন্তরিকতা দেখাতে ইচ্ছুক বলে মনে হচ্ছে না’।
“আমরা এখন জিম্মিদের বাড়ি ফিরিয়ে আনার বিকল্প পথগুলো দেখবো এবং গাজার লোকজনের জন্য আরও স্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা করবো,” এক্সে তিনি এমনটাই লিখেছেন।
উইটকফের ভাষ্যে ‘বিস্মিত’ হামাস বলেছে, মধ্যস্থতাকারীরা তাদের অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছিল এবং একটি সর্বাত্মক চুক্তির পথও খুলে গিয়েছিল।
ফিলিস্তিনি এ গোষ্ঠীটি আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার আগ্রহ পুনর্ব্যক্ত করেছে। বলেছে, তারা এমনভাবে আলোচনায় অংশ নিতে চায় যা প্রতিবন্ধকতা অতিক্রমে সহায়তা করবে ও আলোচনাকে একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তির দিকে নিয়ে যাবে।
আলোচনা সম্বন্ধে অবগত এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেছেন, যুদ্ধবিরতির সর্বশেষ প্রস্তাবে হামাসের প্রতিক্রিয়ায় ‘কোনো অগ্রগতি সম্ভব নয়, যদি না হামাস ছাড় দেয়’। তবে ইসরায়েল আলোচনা চালিয়ে যেতে আগ্রহী।
এমন এক সময়ে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে আলোচনা ফের থমকে যাওয়ার ইঙ্গিত মিলছে যখন গাজায় গত কয়েক সপ্তাহে ক্ষুধায় কয়েক ডজন লোকের মৃত্যু হয়েছে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার গাজায় চলমান দুর্ভোগ ও দুর্ভিক্ষকে ‘অবর্ণনীয় ও ব্যাখ্যাহীন’ মানবিক বিপর্যয় অ্যাখ্যা দিয়ে সেখানে ত্রাণ প্রবেশে জরুরি ভিত্তিতে অনুমতি দিতে ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
“অনেক দিন ধরেই সেখানকার পরিস্থিতি মারাত্মক, এখন তা আরও তীব্র হয়েছে এবং ক্রমশ অবনতি ঘটছে। আমরা এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের সাক্ষী হচ্ছি,” বিবৃতিতে এমনটাই বলেছেন স্টারমার।
গাজায় ‘হত্যা বন্ধ এবং মানুষজনের কাছে খাদ্য পৌঁছাতে’ কী করা যায় তা নিয়ে শুক্রবার ফ্রান্স ও জার্মানির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বলবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অপুষ্টিতে আরও দুইজনের মৃত্যুর খবর দিয়েছে।
হামাসের প্রতিক্রিয়ায় এমন কী ছিল, যার কারণে উইটকফ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের ফিরিয়ে নিলেন সে বিষয়ে করা প্রশ্নের তাৎক্ষণিক জবাব দেয়নি মার্কিন প্রতিনিধিরা। তবে ইসরায়েলি একটি চ্যানেল আগেই জানিয়েছিল, যুদ্ধবিরতির সময় গাজায় ইসরায়েলি সেনারা অবস্থান করবে কি করবে না তা নিয়ে দুই পক্ষ অনড় অবস্থানে রয়েছে।
যুদ্ধবিরতির আলোচনা থেকে ইসরায়েলি দলকে ফিরিয়ে আনার ঘোষণায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে জিম্মিদের পরিবারগুলোর প্রতিনিধিত্ব করা হোস্টেজেস ফ্যামিলিস ফোরাম।
“একেকটি দিন যাচ্ছে, আর জিম্মিদের উদ্ধার হওয়ার সম্ভাবনা কমছে; নিহতদের অবস্থান শনাক্ত বা তাদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানার সুযোগ হারানোর ঝুঁকি বাড়ছে,” বলেছে তারা।