Published : 18 Jun 2026, 10:34 AM
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রকাশিত অন্তর্বর্তী চুক্তিতে নিজ নিজ দেশের পক্ষে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান স্বাক্ষর করেছেন।
পশ্চিম এশিয়াজুড়ে ছড়িয়ে পড়া যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে বুধবার এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন তারা।
ট্রাম্প ও পেজেশকিয়ান উভয়েই ইংরেজি ও ফারসি ভাষায় সমঝোতা স্মারকটিতে ডিজিটালভাবে স্বাক্ষর করেছেন বলে মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বুধবার থেকে অন্তর্বর্তী চুক্তিটি কার্যকর হওয়া শুরু হয়ে গেছে।
ফ্রান্সের ভার্সাই প্রাসাদে প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁর সঙ্গে একটি জমকালো নৈশভোজ শুরুর আগ মুহূর্তে ট্রাম্প এই সমঝোতা চুক্তিটিতে স্বাক্ষর করেন, জানিয়েছে রয়টার্স।
এই চুক্তিতে ইরানি কর্মকর্তারা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তার প্রতি সম্মান দেখাতে ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র আবার আক্রমণ শুরু করবে ও এই কর্মকর্তাদের হত্যা করবে বলে হুমকি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
ট্রাম্প জি৭ সম্মেলনে যোগ দিয়ে অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে এখন ফ্রান্সে আছেন। চুক্তিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানকে আক্রমণ করার পেছনে তার দেওয়া অন্তত একটি যুক্তি প্রত্যাহারও করে নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তেহরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র না থাকাটা ‘অন্যায্য’ হবে। অথচ আগে ইরানের এসব ক্ষেপণাস্ত্র নিশ্চিহ্ন করার প্রত্যয় জানিয়েছিলেন তিনি।
এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানকে নিয়ে ট্রাম্প বলেন, “তারা যদি চুক্তি লঙ্ঘন করে আমরা ওদের ওপর বোমা মেরে সব ধ্বংস করে দেবো। আমি চাই না তারা তা (করুক) । আমি চাই তারা চুক্তির প্রতি সম্মান দেখাক।”

এ সময় তিনি ইরানিদের ‘স্মার্ট মানুষ’ বলে অভিহিত করেন। দুই পক্ষের মধ্যে হওয়া অন্তর্বর্তী চুক্তি বা সমঝোতা স্মারকটি শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে দুই পক্ষের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর হওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে যে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি জানিয়েছেন, যেহেতু চুক্তিটি ডিজিটালভাবে স্বাক্ষর হয়ে গেছে তাই সুইজারল্যান্ডে দুই পক্ষের উপস্থিতিতে কোনো স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হবে না।
তবে এর পরবর্তী ৬০ দিনে একটি স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছতে আলোচনা শুরু করবেন মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তারা।
ট্রাম্প আশা প্রকাশ করে বলেছেন, এই চুক্তি পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি আনবে আর তেলের দাম কমাবে।
এর আগে তিনি বলেছিলেন, “যদি আমি এটি (চুক্তি) পছন্দ না করি, তারা যদি ভালো আচরণ না করে, আমরা গিয়ে ঠিক তাদের মাথার মাঝখানে বোমা ফেলবো, ঠিক আছে?”
রয়টার্স জানিয়েছে, ইরানি নেতারা মুহূর্তটি উদযাপন করার সময় ট্রাম্পের এই নতুন হুমকি নিয়ে কিছু বলেননি। তারা চুক্তির ছবি প্রকাশ করেছেন।
এই চুক্তিকে ১৯৭৯ সালে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরিত প্রথম চুক্তি হিসেবে মনে করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ইরানি পক্ষের নেতৃত্ব দেওয়া পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবফ বলেন, “সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে আমরা যা কিছু অর্জন করতে চেয়েছিলাম, আলোচনার মাধ্যমে আমরা তার কয়েকগুণ বেশি পেয়েছি, এ নিয়ে কোনো তুলনাই চলে না।”
আরও পড়ুন:
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ১৪ দফা চুক্তি প্রকাশ, সই হতে পারে শুক্রবারই