Published : 24 Jul 2026, 09:33 PM
জাতীয় পরীক্ষাগুলোতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে রাজধানী নয়াদিল্লিতে গত দুই মাস ধরে আন্দোলন করছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গড়ে ওঠা সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি।
তরুণদের এই আন্দোলনটি গত এক মাস ধরে দিল্লির যন্তর মন্তরে আরো তীব্রতা পেয়েছে। শুক্রবার সরকারের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা আলোচনাতেও সিজেপি শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছে।
হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে বলা হয়, আলোচনায় সরকারকে ২৪ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়ে সিজেপি বলেছে, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ছাড়া তারা আন্দোলন থেকে সরবে না।
তবে এনডিটিভি বলছে, নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের সূত্রগুলো অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলেছে যে, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের কোনো সুযোগ নেই।
শুক্রবার দুপুরে নয়াদিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাব অব ইন্ডিয়ায় ওই বৈঠকে সরকারের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং। সিজেপির পক্ষে ছিলেন সংগঠনের মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা।

প্রায় দুই ঘণ্টার বৈঠক শেষে সিজেপির মুখপাত্র রাঙ্কা বলেন, “সরকার আমাদের দুটি দাবির বিষয়ে ইতিবাচক। সেগুলো হল-নিট (মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা) প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যাকারীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার। তবে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের মূল দাবির বিষয়ে সরকার শনিবার দুপুর পর্যন্ত সময় চেয়েছে। আমাদের আশা দ্রুত তাকে সরিয়ে দেবে।”
দ্য স্টেটসম্যানের খবরে বলা হয়, আলোচনার পরই সিজিপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে আজ রাতেই তাকে এবং সংগঠনের অন্য নেতাদের পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
তিনি বলেন, “সরকার শনি ও রোববার যন্তর মন্তরে আরো বড় জনসমাগমের আশঙ্কা করছে। তাই আজ রাতেই আমিসহ সিজিপির নেতাদের গ্রেপ্তার করার চেষ্টা করতে পারে।”
তিনি সতর্ক করে বলেন, “সরকার এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করলে সেটা হবে বিরাট ভুল। কারণ এতে আন্দোলন আরো শক্তিশালী হবে। যখন তারা সোনাম স্যারকে (লাদাখের অধিকার কর্মী সোনম ওয়াংচুক) তুলে নিয়ে গিয়েছিল, আন্দোলন কিন্তু তখন আরো শক্তিশালী হয়েছে। যখন শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ করা হয়েছিল এবং তারা আহত হয়েছিল, বিক্ষোভ তখন আরো তীব্র রূপ নেয়। এখন আমাদেরও যদি আটক করা হয়, তবে এই আন্দোলন পুরো দেশে বেশি করে ছড়িয়ে পড়বে।”
দিপকে জোর দিয়ে বলেন, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগই হল এই আন্দোলন থামানোর একমাত্র সমাধান।
জেপি নাড্ডার সঙ্গে সাক্ষাৎকারী দুই সদস্যের প্রতিনিধি দলের অন্যতম সদস্য ও সিজিপি মুখপাত্র সৌরভ দাস সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতার সঙ্গে সুর মিলিয়ে বলেন, “সরকারকে এই ধরনের ভুল পদক্ষেপ না নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া উচিত। এটি কেবল ব্যাপক বিশৃঙ্খলা এবং তাদেরই পতন ডেকে আনবে।”
তবে সরকার যে মন্ত্রী ধর্মেন্দ্রর পাশেই আছে, সে কথা বলা হয়েছে এনডিটিভির খবরে। সরকারি সূত্রের বরাতে শুক্রবার এনডিটিভির খবরে বলা হয়, “সরকার মনে করে, পদত্যাগ হল সবচেয়ে সহজ সিদ্ধান্ত। সরকার বরং মন্ত্রীর পাশেই দাঁড়িয়েছে।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমটিকে বলেছেন, “জনগণ আমাদের ম্যান্ডেট দিয়েছে, এবং আমরা তা পূরণ করব। সরকার ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি-এনটিএ (ভারতের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা) পরীক্ষা ও প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত সমস্যাগুলোর একটি তালিকা তৈরি করছে। এই সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করা হবে। আমরা প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত অনেক গ্যাংকে গ্রেপ্তার করেছি। আরো কিছু কঠোর পদক্ষেপও নেওয়া হচ্ছে।”
৫৭ বছর বয়সি শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সোমবার সিজেপি বিক্ষোভকারীরা ভারতের পার্লামেন্ট ভবনের দিকে পদযাত্রা করলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ ও লাঠিপেটা করে। এ ঘটনায় আন্দোলন আরো তীব্র রূপ নেয়। এরই মধ্যে বিরোধী দল কংগ্রেসসহ অন্য রাজনৈতিক দলগুলো এবং অনেক সেলিব্রেটি এই আন্দোলনকে সমর্থন দেওয়ায় তা আরো বেগবান হয়েছে।
দিল্লি ছাড়িয়ে এই আন্দোলন ভারতের অন্তত ৩৬টি বড় শহরে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে মহারাষ্ট্র, পশ্চিমবঙ্গ, কর্নাটক, তামিলনাড়ু, তেলেঙ্গানা, উত্তর প্রদেশ, ছত্তিশগড় রাজ্যে তুমুল বিক্ষোভ হয়েছে।
এনডিটিভি বলছে, যার পদত্যাগের দাবি নিয়ে এত আন্দোলন, ওড়িশা থেকে এমপি নির্বাচিত হওয়া সেই শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ বেশ সক্রিয়। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি ভিডিও শেয়ার করেন, যেখানে প্রধানমন্ত্রী প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে আরো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।