Published : 19 Jun 2026, 08:23 PM
নরসিংদী সদরে নিলাম ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন ভেঙে মালামাল বিক্রির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিলে বিষয়টি তদন্তের উদ্যোগ নেয় প্রশাসন।
উপজেলার শীলমান্দী এলাকায় অবস্থিত ফারুক আজিজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় স্থায়ীরা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে বিরুদ্ধে অভিযোগ তুললে তিনি ভবন ভাঙার মৌখিক সম্মতি নেওয়ার কথা বলেছেন।
বিষয়টি নিয়ে সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার কথা বলেছেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আসমা জাহান সরকার।
স্থানীয়রা জানান, ফারুক আজিজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। সম্প্রতি সরকারি অর্থায়নে নির্মিত নতুন একাডেমিক ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম স্থানান্তরের পর বিদ্যালয়ের পুরনো দুটি ভবনের মালামাল বিক্রি নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের একটি পুরনো ভবন কোনো ধরনের সরকারি নিলাম বা লিখিত অনুমোদন ছাড়াই এক ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়। পরে ভবনটি ভেঙে টিন, লোহার গ্রিল, দরজা-জানালাসহ বিভিন্ন মালামাল সরিয়ে নেওয়ার সময় এলাকাবাসী বাধা দেয়।
ঘটনাটি একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ায়। পরে এলাকাবাসীর তোপের মুখে কেনা মালামাল রেখে সংশ্লিষ্ট ক্রেতা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি, অভিভাবক বা স্থানীয় জনগণের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই ভবন ভাঙা ও মালামাল বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ ছাড়া অতীতেও বিদ্যালয়ের সম্পদ ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল বলে দাবি স্থানীয়দের।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষিকা জয়শ্রী সাহার। তিনি বলেন, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি এবং শিক্ষা কর্মকর্তাদের মৌখিক নির্দেশনার ভিত্তিতে পরিত্যক্ত ভবনটি ভাঙা হয়েছে। মালামাল বিক্রির অভিযোগ সঠিক নয় বলেও দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে সদর উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কবির হোসাইন বলেন, বিদ্যালয়ের ভবন ভাঙার জন্য কোনো মৌখিক বা লিখিত অনুমতি দেওয়া হয়নি। ঘটনাটির প্রকৃত সত্য উদঘাটনে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

ইউএনও আসমা জাহান সরকার বলেন, “সরকারি সম্পদ বা পরিত্যক্ত ভবনের মালামাল বিক্রির ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিলাম প্রক্রিয়া অনুসরণ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সেই নিয়ম মানা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
বিদ্যালয়ের মালামাল ক্রেতা গনি মিয়া এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে কোনো কথা বলতে রাজি হননি।
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি সম্পদ নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। সেইসঙ্গে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে প্রকৃত দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।