Published : 23 May 2026, 11:01 PM
গাজায় ত্রাণ নিয়ে যাওয়া এক নৌবহরের সংগঠকরা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে অপহৃত বিদেশি অধিকারকর্মীদের অনেকেই ইসরায়েলে আটক থাকা অবস্থায় ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
ইসরায়েলের আটককেন্দ্রে অন্তত ১৫টি যৌন নিপীড়ন বা ধর্ষণের ঘটনার খবরও জানতে পেরেছেন বলে অভিযোগ করেছে তারা।
শুক্রবার টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার সংগঠকরা বলেছেন, আহত একাধিক অধিকারকর্মীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ইসরায়েল থেকে কয়েকশ অধিকারকর্মীকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর একদিন পর তাদের এ বিবৃতি এল বলে জানিয়েছে আল জাজিরা।
জার্মানি বলেছে, ওই ত্রাণবহরে থাকা তাদের কয়েক নাগরিকও আহত হয়েছে এবং ইসরায়েলি আটককেন্দ্র ঘিরে যেসব অভিযোগ পাওয়া গেছে তার অনেকগুলোই ‘বেশ গুরুতর’। এ বিষয়ে আর বিস্তারিত কিছু বলেনি তারা।
ইতালির কৌঁসুলিরা অপহরণ, যৌন নির্যাতনসহ সম্ভাব্য সব অপরাধ নিয়ে তদন্ত শুরু করেছেন বলে দেশটির আইন মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র আল জাজিরাকে জানিয়েছে।
“আমরা এসব খবরে খুবই উদ্বিগ্ন,” শুক্রবার নিয়মিত ব্রিফিংয়ে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার আয়োজকদের অভিযোগ নিয়ে করা প্রশ্নের জবাবে এমনটাই বলেছেন জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক।
ইসরায়েলি মন্ত্রী ইতামার বেন গভিরের ভিডিওতে যেভাবে আটক অধিকারকর্মীদের নির্যাতনের দৃশ্য দেখা গেছে তারও সমালোচনা করেছেন তিনি।
দিনকয়েক আগে ইসরায়েলি বাহিনী আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা বহরে থাকা ৫০টি নৌযান থেকে প্রায় ৪৩০ জনকে আটক করেছিল।
বুধবার বেন গভির যে ভিডিওটি শেয়ার করেছিলেন সেখানে তাকে ইসরায়েলি এক ভাসমান যানের ভেতর থাকা বিদেশি অধিকারকর্মীদের উপহাস করতে দেখা গেছে। পাওয়া গেছে নির্যাতনের প্রমাণও। কাঁটাতারের বেড়া ও শিপিং কনটেইনারের সাহায্যে ওই ভাসমান যানটিকে অস্থায়ী কারাগার বানানো হয়েছিল।
দুজারিক বলেছেন, যাদেরকে ইসরায়েল এখনও আটকে রেখেছে তাদেরকে ‘ছেড়ে দেওয়া ও বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া দরকার’, আর যারা অধিকারকর্মীদের সঙ্গে ‘ন্যাক্কারজনক আচরণ করেছে’ তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা উচিত।
একাধিক অধিকারকর্মী বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, আটক অবস্থায় তাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অপমানজনক দেহ তল্লাশি, স্পর্শকাতর অঙ্গে আঘাত, যৌন হয়রানি এবং ধর্ষণ।
ইতালির ইলারিয়া মানকোসু জানান, আটক অবস্থায় অনেকের হাত ও পাঁজর ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং টেজার গান ব্যবহারের কারণে অনেকেই কান ও চোখে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন।
অনেককে লম্বা সময় ধরে পানি পান করতে দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
কম্বল না থাকায় রাতে কার্ডবোর্ড আর প্লাস্টিক গায়ে জড়াতে হয়েছে। মাটিতে নামিয়ে কয়েক ঘণ্টা হাঁটু গেড়ে বসিয়ে রাখা হয়েছে। নড়লে বা বা কথা বললেই মারা হয়েছে লাথি।
কোনো কোনো অধিকারকর্মীকে লক্ষ্য করে কাছ থেকে রাবারের গুলি ছোঁড়া হয়েছে। কয়েক ডজন মানুষের হাড় ভেঙেছে, টেলিগ্রামে বলেছেন সংগঠকরা।
“আমাদের কাপড় খুলে মাটিতে ফেলে লাথি মারা হয়েছে। অনেককে টেজার দিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট করা হয়েছে, কয়েকজনের ওপর যৌন নিপীড়নও হয়েছে,” বলেছেন ইতালির অর্থনীতিবিদ লুকা পোজি।
ইসরায়েলের কারা কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
রয়টার্স বলেছে, তারা স্বতন্ত্রভাবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে পারেনি।