Published : 19 Aug 2025, 01:35 PM
পাকিস্তানের প্রবল বৃষ্টিতে সৃষ্ট হড়কা বান ও ভূমিধসে খাইবার পাখতুনখওয়া প্রদেশের সোয়াবি ও নওশেরা জেলায় অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর পাশাপাশি আজাদ কাশ্মীরে মৃত্যু হয়েছে আরও অন্তত পাঁচজনের।
পাকিস্তানি গণমাধ্যম ডন জানিয়েছে, সরকারি হিসাবে খাইবার পাখতুনখওয়ায় শুক্রবার থেকে ভারি বৃষ্টিতে অন্তত ৩৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর শুক্রবার ও শনিবার আজাদ কাশ্মীরে মৃত্যু হয়েছিল অন্তত ২১ জনের।
সোয়াবি জেলার ডিসি নাসরুল্লাহ খান জানিয়েছেন, ‘মেঘ ভাঙা বৃষ্টিতে’ দালোরি গ্রামের ১২টি বাড়ি ডুবে যায় আর একই সময় জেলার পাহাড়ি এলাকাগুলোতে ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। প্রবল বৃষ্টি ও ভূমিধসে গাদুন আমাজাই পাহাড়ি অঞ্চলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটে। হড়কা বানে বেশ কিছু বাড়ি ডুবে যায় ও বহু মানুষ ভেসে যায়।
তথ্যের সীমাবদ্ধতার কারণে ডিসি খান কতোজনের মৃত্যু হয়েছে তা নিশ্চিত করতে পারেননি।
প্রাদেশিক সেচমন্ত্রী আকিবুল্লাহ খান দালোরি গ্রাম পরিদর্শন করে এসে জানান, প্রবল বৃষ্টির সময় হড়কা বানে ওই গ্রামের ২০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং অন্তত ৩৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
কিন্তু প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দালোরিতে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও ২০ জন।
আর উদ্ধারকারী কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র বিলাল ফাইজি জানিয়েছেন, দালোরিতে ১১ জনের নিশ্চিত মৃত্যু হয়েছে আর স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী ১৭ থেকে ১৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
ডন জানিয়েছে, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে কারণ অঞ্চলটিতে শুক্রবার থেকে এ পর্যন্ত বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
সোয়াবি জেলার সার কোই পায়ান গ্রামে বৃষ্টির মধ্যে একটি বাড়ি ধসে নয় সদস্যের একটি পরিবার চাপা পড়ে, তাদের মধ্যে চারজনের মৃত্যু হয়। এই পরিবারটি সম্প্রতি করাচি থেকে ফিরে তাদের নতুন করে তৈরি করা বাড়িতে উঠেছিল। গুরুতর আহত অপর পাঁচজন স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
পৃথক আরেক ঘটনা সোয়াবির কারনাল শের খান কালি নালায় ডুবে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।
নওশেরা জেলায় বাড়ি ধসের আরেকটি ঘটনায় দুই আফগান শরণার্থী প্রাণ হারিয়েছেন।
আজাদ কাশ্মীরের নীলম উপত্যকায় পর্যটকবাহী একটি গাড়ি বৃষ্টির মধ্যে পাহাড়ি রাস্তা থেকে পিছলে প্রায় ২৫০ ফুট নিচে পড়ে যায়, এতে তিন আরোহী ঘটনাস্থলে নিহত হন। বাকিদের হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও একজনের মৃত্যু হয়।
আরেক ঘটনায় পুঞ্চ বিশ্বদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি মেম্বার ডক্টর গুল-ই-লালা তার গাড়ি নিয়ে একটি স্রোতস্বিনী পার হওয়ার চেষ্টাকালে গাড়িসহ ভেসে যান, পরে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।
আরও পড়ুন: