Published : 16 Aug 2025, 10:28 AM
পাকিস্তানে ভয়াল বন্যায় ৩০৭ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। তাদের মধ্যে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে আজাদ-কাশ্মীরে, বাকিদের প্রাণ গেছে খাইবার পাখতুনখোয়ায়।
ডন লিখেছে, বন্যার পানির তোড়ে শুক্রবার সড়ক, সেতু, ভবন, বিদ্যুৎ স্থাপনাসহ বিভিন্ন অবকাঠামোর মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে।
খাইবার পাখতুনখোয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রদেশে ১১টি বাড়ি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়েছে এবং ৬৩টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসবের বেশিরভাগ ঘটেছে সোয়াত জেলায়। তিনটি স্কুল ধ্বংস হয়েছে এবং আরও তিনটি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও খবর এসেছে।
খাইবার পাখতুনখোয়ার বিভিন্ন এলাকায় ২১ অগাস্ট পর্যন্ত বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে বলে আভাস দেওয়া হয়েছে।
ডন লিখেছে, সোয়াত, বুনের, শাঙ্গলা, বাজাউর, লোয়ার দির, বাটাগ্রাম ও মানসেহরা জেলায় মৃত্যু ও অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির এসব ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে উদ্ধার তৎপরতা চালানোর সময় এমআই-১৭ হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত পাঁচজনের সম্মানে শনিবার একদিনের শোক ঘোষণা করেছে খাইবার পাখতুনখোয়া সরকার। প্রশাসন বিভাগের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এদিন জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে।

ভারি বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যায় বুনের জেলায় আটকে পড়া ২,০৭১ জনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে জরুরি সেবা ১১২২ দলের সদস্যরা। উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে ৩০০ স্কুল শিক্ষার্থী রয়েছে।
ডেপুটি কমিশনার কাশিফ কাইয়ুম বলেন, পুরো জেলায় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
তিনি বলেন, “দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধার তৎপরতার জন্য হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে।”
কাইয়ুম জানান, বন্যায় পীর বাবা বাজার ও তার আশপাশের এলাকা প্লাবিত করেছে, গোখান্ড এলাকার একটি মসজিদ ধ্বংস হয়েছে এবং বিপুল সংখ্যক গবাদি পশু মারা গেছে। এছাড়াও একাধিক সড়ক বন্ধ হয়ে গেছে।
কর্মকর্তারা বলছেন, বন্যার সময় নিখোঁজ হওয়া লোকজনের প্রকৃত সংখ্যা পানি নেমে যাওয়ার পরই জানা যাবে।
মানসেহরায় কাগান উপত্যকার উঁচু এলাকায় আটকে পড়া সাত পর্যটককে উদ্ধার করেছে পুলিশ। তারা সিমিকসার হ্রদ ভ্রমণে গিয়ে বৃষ্টি ও ভূমিধসের কারণে আটকা পড়েন।
জেলাজুড়ে সারাদিন বৃষ্টি হওয়ায় ইন্দাস, সিরেন ও কুনহার নদীসহ অন্যান্য শাখা নদীগুলোর পানি বিপজ্জনকভাবে বেড়েছে।
জেলা প্রশাসন সিরেন উপত্যকায় পর্যটন নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।
ভূমিধস এবং উপড়ে পড়া গাছের কারণে নবাজাবাদ ও বাট্রাসি সড়ক বন্ধ হয়েছিল, যেগুলো পরে আবার চলাচল উপযোগী করে পুলিশ।
এদিকে সোয়াতে বন্যা ও ভারি বৃষ্টিতে বিদ্যুৎ অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ১৩২ কেভি গ্রিড স্টেশনে বন্যার পানি ঢুকে ৪১টি ফিডার বন্ধ হয়েছে এবং গোটা অঞ্চল বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। মালাম জাব্বা অঞ্চলের বিদ্যুৎ সরবরাহকারী ফিডারও পানিতে তলিয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে।
আকস্মিক বন্যায় একাধিক বিদ্যুৎ খুঁটি ও ট্রান্সফর্মার ভেসে গেছে।
কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ মন্ত্রী আওয়াইস আহমদ লাঘারির নির্দেশে পেশোয়ার ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু করেছে।