Published : 07 Jul 2026, 01:55 PM
পর্তুগালের বিপক্ষে কোনো গোল করতে না পারলেও, তাদের রক্ষণে বারবার ভীতি ছড়িয়েছেন লামিন ইয়ামাল। স্পেনের তারকা এই ফরোয়ার্ডের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট লুইস দে লা ফুয়েন্তে। কোচের মতে, ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোর একটিতে যেভাবে খেলেছেন ইয়ামাল, সেটা তার উন্নতিতে অনেক সাহায্য করবে।
ডালাসে শেষ ষোলোর ম্যাচে পর্তুগালকে ১-০ গোলে হারায় স্পেন। দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে ব্যবধান গড়ে দেওয়া গোলটি করেন বদলি নামা মিকেল মেরিনো।
২০১০ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর শেষ ষোলোর বৈতরণী পারই হতে পারছিল না স্পেন। অবশেষে সেই জট খুলেছে। ১৬ বছর পর কোয়ার্টার-ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে তারা।
শেষ আটে তাদের প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম। আগামী ১১ জুলাই বাংলাদেশ সময় ১টায় (এএম) মুখোমুখি হবে দুই দল।
পর্তুগালের বিপক্ষে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল ইয়ামালেরও। বিশ্বকাপে এদিনই প্রথম পুরো ম্যাচে মাঠে ছিলেন তিনি। পর্তুগিজদের বিপক্ষে গোলের উদ্দেশ্যে তিনটি শট নেন এই রাইট উইঙ্গার। যার মধ্যে দুটি ছিল লক্ষ্যে।
গ্রুপ পর্বে সৌদি আরবের বিপক্ষে বিশ্বকাপে গোলের খাতা খোলেন ইয়ামাল। এরপর আরও দুটি ম্যাচ কেটে গেল, কিন্তু পাচ্ছেন না তিনি জালের দেখা। তবে মাঠে যতক্ষণ থাকছেন, সুযোগ তৈরি করার কাজটি ভালোভাবেই করে যাচ্ছেন। বারবার হানা দিচ্ছেন প্রতিপক্ষের রক্ষণে।
পর্তুগালের বিপক্ষে জয়ের পর ইয়ামালের পারফরম্যান্স নিয়ে আলাদা করে কথা বলেন দে লা ফুয়েন্তে।
“আমার মনে হয়, লামিন তার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোর একটি খেলেছে। সে দুর্দান্ত খেলেছে কিনা, সেটা ছাড়িয়ে আমার মতে, এটা এমন একটা ম্যাচ যা তাকে উন্নতি করতে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করবে।”
হ্যামস্ট্রিংয়ের সমস্যায় বিশ্বকাপের শুরুতে পুরো ফিট ইয়ামালকে পায়নি স্পেন। ধীরে ধীরে তার ম্যাচ খেলার সময় বাড়ান কোচ দে লা ফুয়েন্তে।
কেইপ ভার্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ১৯ মিনিট খেলেন ইয়ামাল। সৌদি আরবের বিপক্ষে প্রথমার্ধ, আর উরুগুয়ের বিপক্ষে ৭৬ মিনিট। শেষ বত্রিশে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ৮৫ মিনিট তাকে মাঠে রাখেন কোচ। আর পর্তুগাল ম্যাচে তো পুরো ৯০ মিনিটই খেললেন।
এদিন ইয়ামালকে আটকে রাখার দায়িত্ব ছিল নুনো মেন্দ্সের কাঁধে। সেই চেষ্টায় শারীরিক ধকল যায় পর্তুগিজ ডিফেন্ডারের ওপর। যার ফলে ম্যাচের ৫৬ মিনিটে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি পায়ের অস্বস্তি নিয়ে। বদলি হিসেবে নামেন নেলসন সেমেদো।
দে লা ফুয়েন্তের মতে, ম্যাচ জুড়ে দারুণ খেলেছে ইয়ামাল। বিশ্বকাপে তাকে স্পেনের যে কতটা প্রয়োজন সেটাও ফুটে উঠল তার কণ্ঠে।
“লামিন দারুণ কাজ করেছে। সে দলের জন্য লড়াই করেছে, দলের রক্ষণ সামলেছে। যখনই বল পেয়েছে প্রতিপক্ষকে দ্বিধায় ও অনিশ্চয়তায় ফেলেছে। সে অনেক ভীতি ছড়িয়েছে।
“লামিনকে এই বিশ্বকাপে এখনও দরকার আমাদের, যাতে সে বিকাশ ধরে রাখতে পারে এবং এমন পারফরম্যান্স উপহার দিতে পারে।”