Published : 11 May 2026, 09:53 AM
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রস্তাবে ইরান যে জবাব দিয়েছে তাকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ অভিহিত করে প্রত্যাখ্যান করেছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে আলোচনা আবার শুরু করার আশায় কয়েকদিন আগে যুক্তরাষ্ট্র সংক্ষিপ্ত একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছিল, রোববার ইরান তার জবাব দেয়। এতে বিশেষভাবে লেবাননসহ সব এলাকায় যুদ্ধ বন্ধের কথা বলা হয়। পাশাপাশি ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয় আর হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানি সার্বভৌমত্বের ওপর জোর দেওয়া হয়, জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম।
ইরানের পাল্টা প্রস্তাবে মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া, ফের আক্রমণ করা হবে না এমন নিশ্চয়তা, তেহরানের বিরুদ্ধে আরোপিত অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং ইরানের তেল বিক্রির ওপর মার্কিন বাধা অপসারণের আহ্বান জানানো হয় বলে বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে।
রয়টার্স জানায়, এই প্রস্তাব পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে ট্রাম্প ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।
ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লিখেন, “আমি এটা পছন্দ করি না – সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।”
তবে কী কারণে তিনি এটি ‘পছন্দ করছেন না’ তা নিয়ে বিস্তারিত আর কিছু জানাননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
এরপর নতুন কোনো কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হবে নাকি ওয়াশিংটন সামরিক পদক্ষেপের দিকে যাবে, তাৎক্ষণিকভাবে তা পরিষ্কার হয়নি।

ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম তেহরানের প্রস্তাবগুলো সমর্থন করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনায় ইরানকে ‘ট্রাম্পের লোভের কাছে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছে’।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে বলেছেন, “ইরান কখনো শত্রুর কাছে মাথা নত করবে না আর শক্তি দিয়ে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করবে।”
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচীসহ বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা শুরুর আগে যুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ করার প্রস্তাব দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু ঘটনা সেদিকে না গড়ানোয় ১০ সপ্তাহ ধরে চলা এই যুদ্ধ আরও দীর্ঘয়িত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে আর সংঘাত অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থারও অবসান ঘটবে না। যুদ্ধ শুরুর আগে এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের ২০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহ হতো।
ফলে ট্রাম্পের এই প্রত্যাখ্যানের তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়েছে জ্বালানি বাজারে। সোমবার জ্বালানি তেলের মূল্য ব্যারেল প্রতি তিন ডলার বেড়ে গেছে।
জরিপগুলোতে দেখা গেছে, মার্কিন ভোটারদের অধিকাংশ এই যুদ্ধের পক্ষে নেই। এই যুদ্ধের কারণে ক্রমবর্ধমান জ্বালানি মূল্যের মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাদের। এই পরিস্থিতি আসছে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি মার্কিন কংগ্রেসে তাদের বিদ্যমান আধিপত্য ধরে রাখতে পারবে কি না, তা এই নির্বাচনে নির্ধারিত হবে।
আরও পড়ুন:
নিজের বাধানো যুদ্ধ নিয়ে 'বিরক্ত' ট্রাম্প
যুদ্ধ শেষ করার মতো কাছাকাছি অবস্থানে নেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান