Published : 25 Jul 2026, 03:52 PM
প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারির জেরে এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা ছাত্রবিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করেছেন ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান।
আন্দোলনকারীদের নেতৃত্বে থাকা ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সঙ্গে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের তৃতীয় দফা বৈঠকের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে শনিবার দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি লিখেছে, ধর্মেন্দ্র প্রধান ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে আন্দোলনকারীদের তিনটি দাবির সবগুলোই পূরণ করল নরেন্দ্র মোদীর সরকার।
আন্দোলনকারীদের উত্থাপিত মূল দাবিগুলো ছিল– শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া এবং প্রশ্নফাঁসের ঘটনার পর আত্মহননকারী শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া।
শুক্রবার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকারের প্রতিনিধিরা আইনি সুরক্ষা ও ক্ষতিপূরণের দাবি দুটি নীতিগতভাবে মেনে নিলেও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়ে নীরব ছিলেন।
ফলে দুই পক্ষের আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ে। শনিবার সকালে সিজেপি স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করলে সরকারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কোনো প্রয়োজন তারা দেখে না।
এর কয়েক ঘণ্টা পর পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে এক্স বার্তায় দেশের যুবসমাজের আশা-আকাঙ্ক্ষা, আবেগ ও ন্যায্য প্রত্যাশার প্রতি ‘গভীর শ্রদ্ধা’ জানান ধর্মেন্দ্র প্রধান।
তিনি লেখেন, “ভারতের তরুণ প্রজন্মের স্বপ্ন বাস্তবায়নই আমাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনের নৈতিক অঙ্গীকার।”
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বে দেশকে সেবা করার সুযোগ দেওয়ার জন্য আমি তার কাছে কৃতজ্ঞ।”
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের খবর আন্দোলনকারীদের বিক্ষোভস্থল যন্তর মন্তরে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে উল্লাসে মেতে ওঠেন শিক্ষার্থীরা।
খবরটি নিশ্চিত হওয়ার পর সিজেপি তাদের এক্সে দেওয়া পোস্টে লেখে, “ছাত্রশক্তি দীর্ঘজীবী হোক।”
জাতীয় পরীক্ষাগুলোতে প্রশ্নফাঁসের জেরে শিক্ষার্থীদের এই বিক্ষোভ গত কয়েক দিনে দেশের বহু শহরে ছড়িয়ে পড়েছিল। আন্দোলনকারীদের পাশে বিরোধী দলগুলো সরাসরি এসে দাঁড়ানোয় তীব্র রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়ে নরেন্দ্র মোদীর সরকার।