Published : 25 Jul 2026, 01:36 PM
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় জিজান শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে।
বিবিসি জানিয়েছে, শুক্রবার ইয়েমেনের হুদায়দাহ বন্দরনগরী ও কাছের কামারান দ্বীপে হুতিদের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালায় সৌদি আরব। তার জবাবেই জিজান শহরে হুতিদের ওই হামলা।
শনিবার ভোরে টেলিগ্রামে হুতিদের চ্যানেল আনসারুল্লাহ মিডিয়ায় দাবি করা হয়, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় জিজান শহরের বিভিন্ন স্থানে আগুন লেগে গেছে।
হুদায়দাহ ও কামারান দ্বীপে সৌদি হামলার পর প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল হুতিরা। সেই ঘোষণার পরই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি এল।
হামলার বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ ওই এলাকায় জরুরি সতর্কতা জারি করেছিল বলে জানিয়েছে বিবিসি।
হুতিরা লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজ চলাচলের ওপর অবরোধ আরোপের ঘোষণা দেওয়ার পর চলতি সপ্তাহে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়, যা মে মাসের পর সর্বোচ্চ। তবে শুক্রবার বিকেলে দাম আবার কিছুটা কমে আসে।
রয়টার্স জানিয়েছে, চীনা কোম্পানির ভাড়া করা দুটি সুপার ট্যাংকার শুক্রবার নিরাপদেই বাব আল-মান্দেব প্রণালি অতিক্রম করে। এর পর ব্রেন্ট তেলের দাম চার ডলারের বেশি কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৬ ডলারে নেমে আসে।
এদিকে শুক্রবার ওমান উপসাগরে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে গুলি চালিয়ে সেটিকে অচল করে দেওয়ার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, জাহাজটি ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপ করা মার্কিন অবরোধ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স বলেন, জাহাজের ক্রুরা অন্তত চারবার সতর্কবার্তা উপেক্ষা করার পর ইঞ্জিন কক্ষে গুলি চালিয়ে জাহাজটি অচল করে দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, জাহাজটি এরপর আর ইরানের দিকে অগ্রসর হতে পারেনি।
চলতি মাসে ইরানের বিরুদ্ধে অবরোধ পুনর্বহাল করার পর এটি দ্বিতীয় বাণিজ্যিক জাহাজ, যেটি অচল করে দিয়েছে মার্কিন বাহিনী।
তবে গত দুই সপ্তাহের মধ্যে শুক্রবারই প্রথম কোনো রাত গেল, যখন যুক্তরাষ্ট্র বা ইরানের পক্ষ থেকে নতুন কোনো হামলার খবর পাওয়া যায়নি।
এর আগে টানা ১৩ রাত ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। জবাবে প্রতিবেশী বিভিন্ন দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালায় ইরান।
হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য ওমানের একটি প্রতিনিধিদল শনিবার তেহরানে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের দক্ষিণ উপকূল ওমানের নিয়ন্ত্রণে। সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা আন্তর্জাতিক উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং তিনি মনে করেন, এবার তেহরান আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় বেশি গুরুত্ব দিয়ে আলোচনায় অংশ নিচ্ছে।
তবে তিনি এও বলেছেন, সমঝোতা হবেই–এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।
ইরান যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার কৌশল সম্পর্কে প্রশ্ন কলে ট্রাম্প বলেন, ‘দুটি পথ’ খোলা রয়েছে।
তার ভাষায়, একটি হচ্ছে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করে ইরানের সক্ষমতা ‘ধ্বংস’ করা। এবং অন্যটি হল আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছানো।
ট্রাম্প বলেন, "আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত আছি।"
গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেছিল। সামরিক অভিযান বন্ধ রাখা, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ৬০ দিনের মধ্যে যুদ্ধের স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা করার কথা বলা হয়েছিল সেখানে।
কিন্তু সমঝোতার তিন সপ্তাহের মাথায় হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে ইরানের হামলার পর ফের হামলা শুরু করে মার্কিন বাহিনী। ট্রাম্প ঘোষণা দেন, যুদ্ধবিরতি ‘শেষ’। তবে এরপরও আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথা বলা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে।