Published : 09 May 2026, 06:37 PM
ভঙ্গুর এক যুদ্ধবিরতির মধ্যে পারস্য উপসাগরে গোলাগুলি বিনিময়ের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধ শেষ করার মতো কাছাকাছি অবস্থানে নেই বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।
এক মাস আগে যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে গত কয়েকদিনে হরমুজ প্রণালিতে ও এর আশপাশে সবচেয়ে বড় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল আর শুক্রবার সংযুক্ত আরব আমিরাত নতুন করে হামলার মুখে পড়ে।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচীসহ বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার আগে যুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ করতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া এমন একটি প্রস্তাবের বিষয়ে তেহরান জবাবের অপেক্ষায় আছে ওয়াশিংটন। শুক্রবারের মধ্যেই ইরান জবাব দেবে বলে আশা করছিল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, তেহরান এখনও প্রস্তাব বিবেচনা করে জবাব প্রস্তুত করার প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে।
সংঘর্ষে যুদ্ধবিরতির পরীক্ষা
শুক্রবার হরমুজ প্রণালিতে ইরানি বাহিনী ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজের মধ্যে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ অব্যাহত ছিল বলে জানিয়েছে ইরানের আধা-স্বায়ত্তশাসিত বার্তা সংস্থা ফারস। পরে বার্তা সংস্থা তাসনিম ইরানের এক সামরিক সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, পরিস্থিতি শান্ত আছে কিন্তু আরও সংঘর্ষ হতে পারে।
মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানি বন্দরে প্রবেশের উদ্যোগ নেওয়া ইরানের সঙ্গে সম্পর্কিত দুটি জাহাজে আঘাত হেনেছে, যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধবিমান জাহাজ দুটির চিমনিতে আঘাত হেনে তাদের ফিরে আসতে বাধ্য করে।
ইরানের বার্তা সংস্থা মেহর জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে ইরানের একটি বাণিজ্যিক জাহাজে মার্কিন নৌবাহিনীর হামলায় এক ক্রু সদস্য নিহত, ছয়জন নিখোঁজ ও আরও ১০ জন আহত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ট্রাম্প জানান, বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ হলেও যুদ্ধবিরতি বজায় আছে। অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ ইরানের।
শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেছেন, “প্রত্যেকবার একটি কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা সামনে আসে আর যুক্তরাষ্ট্র একটি বেপরোয়া সামরিক অভিযানের পথ বেছে নেয়।”
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে বিমান হামলা চালানোর মধ্যে দিয়ে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে ইরানি না এমন জাহাজগুলোর জন্য হরজুম প্রণালি প্রায় বন্ধ করে রেখেছে তেহরান। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস এই সংকীর্ণ জলপথে গন্তব্যে যেত।
গত মাস থেকে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ আরোপ করেছে মার্কিন নৌবাহিনী। কিন্তু সিআইএ-র একটি মূল্যায়ন ইঙ্গিত দিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের এই অবরোধের কারণে ইরান আরও প্রায় চার মাস পর্যন্ত কোনো গুরুতর অর্থনৈতিক চাপের মুখোমুখি হবে না। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের শুরু করা এই যুদ্ধ যা মার্কিন ভোটারদের মধ্যে ও যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের মধ্যে অজনপ্রিয় হয়ে আছে তা তেহরানের উপর কতোটা প্রভাব ফেলতে পারবে।
দিনকয়েক আগে ট্রাম্প যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজে আটকা পড়া ২ হাজার নৌযানকে প্রণালিটি পাড়ি দেওয়ায় সহায়তা করতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অভিযান ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ শুরুর ঘোষণা দিলেও পরে তা ৪৮ ঘণ্টার জন্য স্থগিত করেন।
যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক পথের পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা বাড়াচ্ছে
ইরান যুদ্ধ শেষ করতে যুক্তরাষ্ট্র কূটনীতির পথ বেছে নিলেও তেহরানের ওপর চাপ বাড়াতে নিষেধাজ্ঞার আওতাও বাড়াচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চীনে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাওয়ার কয়েকদিন আগে শুক্রবার মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় চীনের ও হংকংয়ের বেশ কয়েকজনসহ ১০ ব্যক্তি ও কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। মার্কিন মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, এসব ব্যক্তি ও কোম্পানি ইরানকে তাদের শাহেদ ড্রোন তৈরির কাঁচামাল যোগাচ্ছে।
আরও পড়ুন:
যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘বেপরোয়া সামরিক দুঃসাহস’ দেখানোর অভিযোগ ইরানের