Published : 09 May 2026, 10:10 AM
প্রতিবারই ‘টেবিলে যখন কোনো কূটনৈতিক সমাধান থাকে’ তখনই যুক্তরাষ্ট্র ‘বেপরোয়া সামরিক দুঃসাহস’ দেখানোর পথই বেছে নেয় বলে অভিযোগ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি।
যুদ্ধবিরতির মধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে ওয়াশিংটন-তেহরান একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ আনার পরদিন এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, “ইরানিরা কখনোই চাপে মাথা নত করবে না।”
শুক্রবারও একাধিক ইরানি নৌযানে মার্কিন হামলার খবর পাওয়া গেছে।
“এটা কি অপরিণত চাপের কৌশল? নাকি ফের একবার আগে থেকে ফল জানিয়ে দেওয়া, যা পোটাসকে (মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প) আরেকটি বিপজ্জনক ফাঁদে ফেলে দিচ্ছে?” পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।
এদিকে ইরানি রেভল্যুশনারি গার্ড বলছে, তাদের সেনারা ওমান উপসাগরে বিশেষ অভিযান চালিয়ে একটি ট্যাংকার জব্দ করেছে।
“তেল রপ্তানি ও ইরানের স্বার্থে ব্যাঘাত ঘটানোর’ চেষ্টা করায় ওশান কই নামের ট্যাংকারটি জব্দ করা হয়েছে বলে তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে আল জাজিরা।
দেশটির রাষ্ট্র-মালিকানাধীন প্রেস টিভি নৌযানটিতে ইরানে সেনাদের ওঠা ও সেটি জব্দের ভিডিও প্রকাশ করেছে। জাহাজটি বার্বাডোজে নিবন্ধিত বলে জানিয়েছে মেরিন ট্রাফিক।
এর আগে বৃহস্পতিবারের সংঘর্ষের পরও ট্রাম্প বলেছিলেন, যুদ্ধবিরতি বহাল আছে। এই বিরতি রাখাই হয়েছে যুদ্ধ বন্ধে আলোচনার সুযোগ সৃষ্টি করতে; ফেব্রুয়ারিতে ইরানে আচমকা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় যে যুদ্ধের সূচনা হয়েছিল।
মার্কিন প্রস্তাব নিয়ে ইরান শুক্রবারের মধ্যেই একটি প্রতিক্রিয়া জানাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ট্রাম্পের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়ার পর ইরান হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়; এর পাশাপাশি তারা উপসাগরের দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও পরে স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনায়ও পাল্টা হামলা চালায়।
যুদ্ধের আগে ওই হরমুজ প্রণালি দিয়েই বিশ্বের তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের ২০% গন্তব্যে পৌঁছাত। সেই জলপথটি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়েই জ্বালানির দাম চড়ছে।
দিনকয়েক আগে ট্রাম্প যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজে আটকা পড়া ২ হাজার নৌযানকে প্রণালিটি পাড়ি দেওয়ায় সহায়তা করতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অভিযান ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ শুরুর ঘোষণা দিলেও পরে তা স্থগিত করেন।
তেহরানকে যুক্তরাষ্ট্রের শর্তে চুক্তিতে রাজি করাতে ওয়াশিংটন ইরানি বন্দরগুলোর ওপর নৌ-অবরোধও বহাল রেখেছে, যে পদক্ষেপ ইরানকে ক্রুদ্ধ করেছে।
শুক্রবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বলেছে, তাদের সেনারা ‘চলমান মার্কিন নৌ অবরোধ লঙ্ঘন’ করে ওমান উপসাগরে একটি ইরানি বন্দরে ঢোকার চেষ্টা করা ইরানি পতাকাবাহী দুটি খালি তেলের ট্যাংকারকে নিস্ক্রিয় করে দিয়েছে।
এ নিয়ে ৭০টির বেশি ট্যাংকারকে ইরানি বন্দরগুলোতে ঢুকতে বা সেখান থেকে বের হতে দেয়নি মার্কিন বাহিনী, বলেছে তারা।
আগের দিন দুই পক্ষই হরমুজ প্রণালিতে একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ এনেছিল।
সেন্টকম বলেছিল, ইরান ‘বিনা উসকানিতে’ তাদের তিনটি জাহাজ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও ছোট নৌকা পাঠিয়েছিল।
অন্যদিকে ইরানের যুদ্ধকালীন শীর্ষ কমান্ড খাতামুল আম্বিয়া বলেছিল, হরমুজের দিকে যেতে চাওয়া একটি ইরানি তেলের ট্যাংকার ও অন্য একটি নৌযানকে নিশানা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র; পাশাপাশি তারা উপকূলের একাধিক এলাকায় ‘আকাশপথেও হামলা’ চালায়।
মিনাবের কাছে যে কার্গো নৌযানটি হামলার শিকার হয়েছিল সেটিতে আগুন ধরে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন দক্ষিণের হরমুজগান প্রদেশের এক কর্মকর্তা মোহাম্মাদ রাদমেহের।
“আহত ১০ নাবিককে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় বিভিন্ন গোষ্ঠী ও উদ্ধারকারী দলগুলো বাকি নাবিকদের ভাগ্য জানার চেষ্টা চালাচ্ছে,” ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা মেহেরকে এমনটাই বলেছেন তিনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট সে রাতে ট্রুথ সোশালে দেওয়া পোস্টে বলেছিলেন, মার্কিন সেনারা একাধিক ছোট নৌযান, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ধ্বংস করেছে এবং ‘ইরানি হামলাকারীদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে’।
“আজকে আমরা যেমন তাদের ফের উড়িয়ে দিয়েছি, তেমনই ভবিষ্যতেও আরও শক্তভাবে, আরও সহিংসভাবে উড়িয়ে দেবো, যদি না তারা দ্রুত চুক্তিতে স্বাক্ষর করে,” বলেছিলেন তিনি।
যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাবে শুক্রবারই সাড়া দেবে ইরান, আশা যুক্তরাষ্ট্রের
হরমুজে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান গুলি বিনিময়ের পরও ট্রাম্প বললেন, যুদ্ধবি