Published : 28 May 2026, 05:01 PM
পূর্ব আফ্রিকার দেশ কেনিয়ার একটি আবাসিক বালিকা স্কুলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৬ জন ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে।
কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবি থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার (৭৭ মাইল) পশ্চিমে গিলগিল এলাকার ‘উতুমিশি গার্লস’ স্কুলে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে বলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত একজন পুলিশ কর্মকর্তা সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন।
তিনি আরও জানান, অগ্নিকাণ্ডে আহত আরও ৭৪ জন ছাত্রীকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
কেনিয়া রেডক্রস এবং পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার ভোরে ছাত্রীরা যখন ঘুমিয়ে ছিল, তখন স্কুলটিতে আগুন লাগে।
পুলিশ জানায়, উদ্ধার অভিযান চলছে, আগুন লাগার কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কেনিয়া রেডক্রস জানিয়েছে, জরুরি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে সর্বাত্মক সহায়তা দিচ্ছে।
স্কুলের বাইরে জড়ো হওয়া অভিভাবক ও জনতার উদ্দেশ্যে পুলিশ কমান্ডার মাসুদ মউইনি বলেন, “এটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং বেদনাদায়ক একটি পরিস্থিতি।”
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় রাত ১টার দিকে আগুন লাগে এবং তা দ্রুত একটি ডরমিটরি ব্লকে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ব্লকটিতে প্রায় ২২০ জন ছাত্রী থাকত।
কমান্ডার মউইনি জানান, ঘটনার তদন্ত চলছে। বর্তমানে স্কুল এলাকাটি কর্ডন বা অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে এবং শুধুমাত্র অভিভাবকদের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।
ওয়ামবুই এনদেরিতু নামের এক অভিভাবক, যার ভাগ্নি ওই স্কুলের ছাত্রী, তিনি জানান যে ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর পরিবারগুলো চরম বিভ্রান্তি ও আতঙ্কের মধ্যে পড়ে যায়।
তিনি বলেন, “আমরা স্কুলে পৌঁছানোর পর আমাদের লাইনে দাঁড়াতে বলা হয়। আমরা সবাই ভীষণ উদ্বেগের মধ্যে ছিলাম, কারণ আমরা শুনেছিলাম কিছু ছাত্রী মারা গেছে এবং অনেকে আহত হয়ে হাসপাতালে আছে।”
এনদেরিতু আরও জানান, আগুন থেকে বাঁচতে ডরমিটরির ওপরের তলা থেকে নিচে লাফিয়ে পড়ার কারণে বেশ কিছু ছাত্রী আহত হয়েছে।
তিনি বলেন, “ওপরের তলায় থাকা কয়েকজনকে জীবন বাঁচাতে নিচে লাফ দিতে হয়েছিল, যে কারণে তারা আহত হয়েছে।”
এনদেরিতু জানান, তার ভাগ্নি আগুনে পুড়ে যাওয়া থেকে বেঁচে গেলেও লাফ দেওয়ার কারণে তার পা ভেঙে গেছে।
“আমি আমার ভাগ্নিকে খুঁজে পেয়েছি, সে সুস্থ আছে, তবে তার একটি পা ভেঙে গেছে।”
কেনিয়ার আবাসিক স্কুলগুলোতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা এটিই প্রথম নয়; সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেখানে এমন বেশ কয়েকটি মারাত্মক অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে।
ডরমিটরি বা ছাত্রীবাসগুলোতে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী রাখা এবং নিরাপত্তা নির্দেশিকা সঠিকভাবে পালন না করাকে প্রায়শই এত বেশি হতাহতের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।