Published : 07 Dec 2025, 02:28 PM
স্পেনের মাদ্রিদ, নেদারল্যান্ডসের উতরেখ্ট, আর্জেন্টিনার বুয়েনস আইরিস, পেরুর লিমা, অস্ট্রেলিয়ার ব্রিজবেনসহ বিশ্বের একাধিক শহরে শনিবার সমাবেশ করেছেন ভেনেজুয়েলার ৫৮ বছর বয়সী বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদোর সমর্থকরা।
দক্ষিণ আমেরিকার দেশটির ‘গণতান্ত্রিক রূপান্তর নিশ্চিতে’ তার নিরলস সংগ্রামের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে এ বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে।
বুধবার নরওয়েতে নোবেলজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়ার কথা; তার আগে শনিবার বিশ্বের একাধিক দেশে মাচাদোর সমর্থকরা সমাবেশ করেছে বলে জানিয়েছে আল জাজিরা।
পেরুর রাজধানী লিমায় জড়ো হওয়া সমর্থকরা মাচাদোর প্রতিকৃতি নিয়ে উপস্থিত হন এবং ‘মুক্ত ভেনেজুয়েলার’ দাবি তোলেন।
এদেরই একজন ভেরোনিকা দুরান, ৪১ বছর বয়সী এ ভেনেজুয়েলার নাগরিক ৮ বছর ধরে লিমায় থাকছেন। তার মতে, মাচাদোর নোবেল পুরস্কারজয় উদ্যাপিত হওয়া উচিত কারণ এটি ‘ভেনেজুয়েলার সবার, যারা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে প্রাণ হারিয়েছেন বা রাজনৈতিক বন্দি হয়েছেন তাদের প্রতিনিধিত্ব করে’।
২০২৪ সালের অগাস্ট থেকে অনেকটা পালিয়ে থাকা মাচাদো চাইছেন, তার পুরস্কারপ্রাপ্তিতে সৃষ্ট মনোযোগকে কাজে লাগিয়ে ভেনেজুয়েলার ‘গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে’ বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে।
তার প্রতিষ্ঠান বলছে, তারা বিশ্বজুড়ে ৮০টিরও বেশি শহরে কর্মসূচি হবে বলে প্রত্যাশা করছে।
কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোতায় জড়ো হওয়া একদল ভেনেজুয়েলীয় মাচাদোর নোবেল শান্তি পুরস্কারকে ভেনেজুয়েলাবাসীর জন্য ‘আশার প্রতীক’ হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছে। তাদের পরনে ছিল সাদা টি-শার্ট, হাতে বেলুন।
এদিকে আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস আইরিসে দেশের সর্ববৃহৎ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সিঁড়িতে জড়ো হওয়া শ’ পাঁচেক সমর্থক মোবাইল ফোন দিয়ে আলোর মিছিল করেছে।
এমন এক সময়ে বিশ্বজুড়ে এ সমাবেশগুলো হল যখন ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলার শঙ্কা ক্রমশ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এরই মধ্যে ক্যারিবিয়ান অঞ্চলজুড়ে বিপুল সেনা, যুদ্ধযান, যুদ্ধজাহাজ, বিমানবাহী রণতরী ও যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছেন।
ভেনেজুয়েলার মাটিতে হামলা করার হুমকিও নিয়মিতই দিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
কারাকাস বলছে, নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল সম্পদ নিয়ন্ত্রণে নিতেই যুক্তরাষ্ট্র ক্যারিবিয়ানে এ বিপুল সৈন্য সমাবেশ ঘটিয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, তারা মাদুরোকে ভেনেজুয়েলার বৈধ প্রেসিডেন্ট বলে মানে না। মাদুরো ২০১৩ সাল থেকে টানা দক্ষিণ আমেরিকার দেশটির ক্ষমতায় রয়েছেন।
মাচাদো গত বছর মাদুরোর বিপক্ষে লড়তে চেয়েছিলেন, কিন্তু সরকার তাকে নির্বাচন করতে দেয়নি। এরপর তার জায়গায় সাবেক কূটনীতিক এডমুন্ডো গনজালেজ নির্বাচনে দাঁড়ান।
২০২৪ সালের ২৮ জুলাই হওয়া ওই নির্বাচনে ব্যাপক দমনপীড়ন, গ্রেপ্তার ও মানবাধিকার লঙ্ঘনেরও অভিযোগ ওঠে। পরে ভেনেজুয়েলার নির্বাচনী পরিষদ মাদুরোকে জয়ী ঘোষণা করলেও, বিরোধীরা সেই ফল মানতে রাজি হয়নি।
ভেনেজুয়েলার এক আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলে গত বছরই এডমুন্ডো গঞ্জালেজ স্পেনে রাজনৈতিক আশ্রয় চান।
চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি কারাকাসে এক বিক্ষোভে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য উপস্থিত হওয়ার পর থেকে মাচাদোকে আরও প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। তার পরদিন, ১০ জানুয়ারি, তৃতীয় মেয়াদে ৬ বছরের জন্য শপথ নেন।
এ বছরের ১০ অক্টোবর নোবেল কমিটি ‘ক্রমবর্ধমান অন্ধকারে গণতন্ত্রের শিখা জ্বালিয়ে রাখায়’ মাচাদোকে শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করে।
নোবেল ইনস্টিটিউটের প্রধান জানিয়েছেন, বুধবার নরওয়েতে এসে পুরস্কার নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন মাচাদো।
“গত রাতে (শুক্রবার) মাচাদোর সঙ্গে কথা হয়েছে আমার। তিনি আমাকে নিশ্চিত করেছেন যে তিনি অসলোর অনুষ্ঠানে থাকবেন। নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা তারিখ বা কীভাবে তিনি পৌঁছাবেন সে সম্বন্ধে বেশি কিছু বলতে পারছি না,” প্যারিসভিত্তিক এক বার্তা সংস্থাকে এমনটাই বলেছেন ক্রিস্টিয়ান বার্গ হার্পভিকেন।