Published : 03 Mar 2026, 05:52 PM
যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার আগে তার সঙ্গে ‘দারুণ কিছু সময়’ কাটিয়েছিলেন বলে বিল ক্লিনটনকে জানিয়েছিলেন ডনাল্ড ট্রাম্প।
মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের ওভারসাইট কমিটিতে দেওয়া একটি ভিডিও জবানবন্দিতে আইনপ্রণেতাদের এমন কথাই জানিয়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন।
শপথ নিয়ে দেওয়া ওই সাক্ষ্যে ডেমোক্র্যাট নেতা ক্লিনটন জানান, ২০০২ বা ২০০৩ সালের দিকে একটি গলফ টুর্নামেন্টে ট্রাম্প তাকে এপস্টেইনের কথা বলেছিলেন। তখন ক্লিনটন হোয়াইট হাউজ ছেড়েছিলেন এবং ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার অন্তত এক দশক আগের ঘটনা এটি।
হাউজ কমিটির সাক্ষ্যে ক্লিনটন বলেন, “ট্রাম্প কোনোভাবে জানতেন যে, আমি এপস্টেইনের বিমানে যাতায়াত করেছি। তিনি আমাকে বলেছিলেন, “জানেন, আমরা একসঙ্গে অনেক বছর ভালো সময় কাটিয়েছি, কিন্তু একটি রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় চুক্তির কারণে আমাদের মধ্যে এখন বনিবনা নেই’।”
অন্যদিকে, ট্রাম্পের দাবি ছিল, তার ‘মার-আ-লাগো’ ক্লাবের তরুণী কর্মীদের এপস্টেইন নিজের কাজে প্রলুব্ধ করায় তাদের সম্পর্ক তিক্ত হয়। ক্লিনটন অবশ্য জানান, ট্রাম্পের সেই কথায় তার মনে হয়নি যে, ট্রাম্প কোনও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।
২০০৮ সালে অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌনকাজে লিপ্ত করার দায়ে সাজা পাওয়া এপস্টেইনের সঙ্গে এক সময় ট্রাম্প ও ক্লিনটন, উভয়েরই মেলামেশা ছিল।
তবে দুই সাবেক প্রেসিডেন্টই দাবি করেছেন যে, তারা এপস্টেইনের কোনও যৌন পাচার বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাননি। এমনকি এপস্টেইনের কোনও অপরাধমূলক কাজের জন্য কর্তৃপক্ষ তাদেরকে অভিযুক্ত করেনি।
২০১৯ সালে পাচারের অভিযোগে পুনরায় গ্রেফতার হওয়ার পর কারাগারে আত্মহত্যা করেন এই এপস্টেইন। ক্লিনটন জানান, দাতব্য কাজে সহায়তার জন্য তার সাবেক ট্রেজারি সেক্রেটারি ল্যারি সামারস তাকে এপস্টেইনকে একজন দাতা হিসাবে পরিচয় করিয়ে দেন।
দাতব্য এইডস ফাউন্ডেশনের কাজে যাতায়াতের জন্য তিনি বেশ কয়েকবার এপস্টেইনের ব্যক্তিগত বিমান ব্যবহার করেছিলেন। তবে ২০০৩ সালের পর থেকে তাদের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
সাক্ষ্যে একটি ম্যাসেজ পাওয়ার কথা স্বীকার করলেও ক্লিনটন দাবি করেন, তিনি জানতেন না যে এপস্টেইন মেয়েদের অপব্যবহার করতেন।
তাছাড়া ক্লিনটন এও বলেন, তিনি প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন এপস্টেইন ১৭ বার হোয়াইট হাউজে গিয়েছিলেন, এমন তথ্য তার জানা ছিল না এবং এপস্টেইনের ক্যারিবীয় দ্বীপেও কখনও যাননি বলে তিনি দাবি করেন।
মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের ওভারসাইট কমিটির তলবে গত সপ্তাহে হিলারি ক্লিনটনও সাক্ষ্য দিয়েছেন। সেখানে তিনি জানান, এপস্টেইনের সঙ্গে তার দেখা হওয়ার কোনো তথ্য তার স্মরণে নেই।