Published : 17 Mar 2026, 05:43 PM
ইরানের ও এর ছায়া বাহিনীগুলোর ‘হামলার ঝুঁকি বাড়তে থাকার’ মধ্যে বিশ্বব্যাপী বিদেশি সরকারগুলোকে তেহরানের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চাপ দিতে মার্কিন কূটনীতিকদের নির্দেশনা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
এবিসি নিউজ তাদের হাতে আসা এক স্পর্শকাতর কূটনৈতিক বার্তার বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে।
প্রকাশিত খবর অনুযায়ী বার্তায় রুবিও কূটনীতিকদের বলেছেন, “আমাদের মিত্র দেশগুলোর ওপর হামলা চালানোর ক্ষেত্রে ইরান ও ইরান সমর্থিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর সক্ষমতা দ্রুত হ্রাস করার পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।”
সোমবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষ থেকে দেওয়া নির্দেশনায় ‘পদক্ষেপের অনুরোধের অংশ হিসেবে’ ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা ‘আইআরজিসির কার্যকলাপ নিয়ে উচ্চতর উদ্বেগ’ শীর্ষক এক বার্তা যুক্তরাষ্ট্রের সকল কূটনৈতিক ও কন্স্যুলার দপ্তরে পাঠানো হয়।
এই নির্দেশনায় মার্কিন কর্মকর্তাদের ওই বার্তাটি ২০ মার্চের মধ্যে ‘উপযুক্ত সর্বোচ্চ স্তরে’ পাঠানোর জন্য বলা হয়েছে। বার্তাটি সংবেদনশীল হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও সেটি গোপনীয় হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়নি।
প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে তাদের সামরিক অভিযানের জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন গড়ে তোলার চেষ্টা করছে, নির্দিষ্টভাবে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে একটি জোট করতে চাইছে তারা। ট্রাম্প সোমবার জানিয়েছেন, বেশ কিছু দেশ সাহায্য করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে আর শিগগিরই তাদের নাম প্রকাশ করা হবে।
কূটনীতিকদের রুবিওর দেওয়া বার্তায় ইরান ও এর ছায়া বাহিনীগুলো থেকে ‘হামলার উচ্চতর ঝুঁকির’ বিষয়ে বিস্তারিত বলা হয়নি, কিন্তু এই হুমকি মোকাবেলায় ‘সমন্বিত পদ্ধতি সর্বোত্তম কৌশল’ এমন ধারণার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
বার্তায় বলা হয়েছে, “আমাদের মূল্যায়নে, ইরানি শাসকগোষ্ঠী একতরফা পদক্ষেপের চেয়ে সম্মিলিত পদক্ষেপের প্রতি বেশি সংবেদনশীল। আর এই শাসকগোষ্ঠীর আচরণ পরিবর্তনে সম্ভবত একতরফা পদক্ষেপের চেয়ে সম্মিলিত পদক্ষেপ বেশি কার্যকর হবে।
“এখন মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্বজুড়ে ইরানের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে আন্তর্জাতিক মনোযোগ নিবদ্ধ, আমাদের অবশ্যই এই সময়টিতেই পদক্ষেপ নিতে হবে। এই গুরুত্বপূর্ণ সময়টিকে পার হয়ে যেতে দিয়েন না।”
এই বার্তার বিষয়ে এবিসি নিউজের মন্তব্যের অনুরোধে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি নিশ্চিত করায় জোর দিচ্ছেন। আইআরজিসি, হিজবুল্লাহ ও ইরান সমর্থিত অন্য ছায়া বাহিনীগুলো সরকারকে অস্থিতিশীল করে ও আঞ্চলিক শান্তির বিঘ্ন ঘটায়।”