Published : 06 Jul 2026, 09:37 PM
দেশের উত্তরাঞ্চলে কৃষি খাতের উন্নয়নে বিশেষ অর্থনৈতিক কেন্দ্র গড়ে তুলতে ৩ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এখান থেকে ৯ শতাংশ সুদে ঋণ মিলবে জানিয়ে সোমবার তহবিলের নীতিমালা ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
গত ২৩ মে বন্ধ কলকারখানা চালুসহ অর্থনীতি চাঙা করতে ৬০ হাজার কোটি টাকার তহবিল ঘোষণা করেছিলেন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।
তারই অংশ হিসেবে দেশের উত্তরাঞ্চলে কৃষিভিত্তিক বিশেষ অর্থনৈতিক কেন্দ্র সৃষ্টির লক্ষ্যে ৩ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করা হয়েছে।
এই তহবিল পরিচালনার নীতিমালায় বলা হয়েছে, “উত্তরাঞ্চল (রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের আওতাধীন জেলাসমূহ) দেশের অন্যতম প্রধান কৃষিপণ্য উৎপাদনকারী অঞ্চল হিসেবে স্বীকৃত।
“তবে এ অঞ্চলে উৎপাদিত কৃষিপণ্যের আধুনিক ফসল-উত্তর ব্যবস্থাপনা (পোস্ট-হার্ভেস্ট ম্যানেজমেন্ট) ও বাজারজাতকরণ অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা, বিশেষায়িত হিমাগারের অভাব, অপর্যাপ্ত প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় সরাসরি প্রবেশের সীমাবদ্ধতার কারণে প্রকৃত অর্থনৈতিক সম্ভাবনা পূর্ণমাত্রায় বিকশিত হচ্ছে না, যা দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।”
বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় তফসিলি ব্যাংকের উদ্বৃত্ত তারল্যে গঠিত তহবিল থেকে এই ‘পুনঃঅর্থায়ন তহবিল’ গঠন করার কথা বলা হয়েছে নীতিমালায়।
তহবিলের নাম
দেশের উত্তরবঙ্গে কৃষিভিত্তিক বিশেষ অর্থনৈতিক কেন্দ্র সৃষ্টির লক্ষ্যে ৩ হাজার কোটি টাকার পুনঃ অর্থায়ন তহবিল।
তহবিলের উদ্দেশ্য
>> কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি
>> কৃষিপণ্যের বাজারজাতকরণ, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, মূল্য সংযোজন কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন।
>> কৃষিভিত্তিক কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ (সিএমএসএমই) এবং কৃষিভিত্তিক শিল্প খাতের বিকাশে সহায়তা প্রদান।
>> রপ্তানিযোগ্য কৃষিপণ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সরবরাহ শৃঙ্খল উন্নয়ন
এবং
>> গ্রামীণ কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধিতে সহায়তা প্রদান।
তহবিলের বিস্তারিত
তহবিলের মেয়াদ হবে তিন বছর। ভৌগোলিক সীমানা হিসেবে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের আওতাধীন জেলাগুলোকে ধরা হয়েছে। এই তহবিলের ১৫ শতাংশ ঋণ পাবে কৃষি উৎপাদন খাত।
কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও পরিবহন, বাজারজাতকরণ অবকাঠামো খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩৫ শতাংশ। কৃষিজাত/কৃষিভিত্তিক পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ এবং কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপনে তহবিলের ৩৫ শতাংশ অর্থ ঋণ দেওয়া হবে।
এছাড়া কৃষিপণ্য ও কৃষিভিত্তিক পণ্য রপ্তানি খাতে শিল্প ১৫ শতাংশ ঋণ দেওয়া হবে।
সুদের হার
এই তহবিলের আওতায় অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৪ শতাংশ সুদে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা পাবে। গ্রাহক পর্যায়ে সুদের হার হবে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ।
অর্থাৎ ব্যাংকগুলো ৪ শতাংশ সুদে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই তহবিল থেকে ঋণ দিয়ে ৯ শতাংশ সুদে গ্রাহকদের দেবে।
শরীয়াহভিত্তিক অর্থায়নের ক্ষেত্রে গ্রাহক পর্যায়ে আদায়কৃত মুনাফার হার শরীয়াহ অনুমোদিত বিনিয়োগ নীতিমালার আওতায় নির্ধারণ করতে হবে; তবে ৯ শতাংশের বেশি হবে না।
ঋণের সীমা
একক ব্যক্তি, দলবদ্ধভাবে এবং প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ঋণের সর্বোচ্চ সীমা কৃষি উৎপাদন খাতের জন্য হবে ৩০ লাখ টাকা।
কৃষিপণ্য সংরক্ষণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ ও অবকাঠামো খাতের জন্য ৪০ কোটি টাকা; পণ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের জন্য ৪০ কোটি টাকা এবং কৃষিপণ্য ও কৃষিভিত্তিক পণ্যের রপ্তানি খাতে ঋণের সীমা সর্বোচ্চ ১৫ কোটি টাকা।
তবে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে বাস্তবতার নিরিখে গ্রাহকের প্রকৃত চাহিদার ভিত্তিতে ব্যাংকগুলো নিজস্ব বিবেচনায় ঋণের সীমা সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ কমাতে বা বাড়াতে পারবে।