Published : 20 May 2026, 10:58 PM
গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে (ডিআর কঙ্গো) ইবোলা ভাইরাসের উপসর্গ থাকা রোগীর সংখ্যা বেড়ে ৬০০ জনে এবং উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ১৩৯ জনে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
ভাইরাসটি শনাক্ত করতে বেশি সময় লাগার কারণে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে সংস্থাটি জানিয়েছে, ইবোলার বর্তমান ধরণ প্রতিরোধে টিকা প্রস্তুত হতে ৯ মাস সময় লাগতে পারে।
বুধবার সুইজারল্যান্ডের জেনিভায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডব্লিউএইচও প্রধান ড. তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়াসুস জানান, প্রথম রোগী শনাক্ত হওয়া কঙ্গোয় এখন পর্যন্ত ৫১ জনের শরীরে এই ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে এবং প্রতিবেশী দেশ উগান্ডায় সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া গেছে দুইজনের।
তিনি বলেন, ইবোলার ‘বুন্দিবুগিও’ ধরণের এই প্রাদুর্ভাব সম্ভবত ‘কয়েক মাস আগে’ শুরু হয়েছিল।
গত রোববার ডব্লিউএইচও ইবোলা প্রাদুর্ভাবকে বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করে। তবে এটি প্যান্ডেমিক বা বৈশ্বিক মহামারী পর্যায়ে নেই বলে জানায়।
ডব্লিউএইচও প্রধান গেব্রিয়াসুস বলেন, মঙ্গলবার সংস্থার জরুরি কমিটির বৈঠকে তারা একমত হয়েছেন যে, পরিস্থিতিটি ‘প্যান্ডেমিক জরুরি অবস্থা নয়’।
তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, “ডব্লিউএইচও এই প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে উচ্চ এবং বৈশ্বিক পর্যায়ে কম হিসেবে মূল্যায়ন করছে।”
কঙ্গোয় নিশ্চিত হওয়া ৫১টি সংক্রমণ মূলত এই প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রস্থল পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি এবং উত্তর কিভু এলাকায় পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, উগান্ডার রাজধানী কাম্পালায় নিশ্চিত হওয়া দুই রোগীই কঙ্গো থেকে ভ্রমণ করে এসেছিলেন, যাদের মধ্যে একজন মারা গেছেন।
ডব্লিউএইচও প্রধান বলেন, “আমরা জানি কঙ্গোয় এই প্রাদুর্ভাবের পরিধি আরও অনেক বড়।” তিনি জানান, মৃতদের মধ্যে স্বাস্থ্যকর্মীরাও রয়েছেন, যা বিশেষ উদ্বেগের বিষয়।
ডব্লিউএইচও-র একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভাইরাসটি কতদিন ধরে ছড়াচ্ছে তা খুঁজে বের করতে তদন্ত চলছে, তবে তাদের অগ্রাধিকার হচ্ছে এর সংক্রমণ রোধ করা।
গত ২৪ এপ্রিল ইতুরির প্রাদেশিক রাজধানী বুনিয়ায় প্রথম জানা যাওয়া রোগী হিসেবে একজন নার্সের লক্ষণ দেখা দেয় এবং তিনি মারা যান। পরে তার মরদেহ মংওয়ালুতে পাঠানো হয়, যা মূলত প্রাদুর্ভাবের সিংহভাগ সংক্রমণ রিপোর্ট হওয়া দুটি স্বর্ণখনির শহরের একটি।
ইতুরির চারটি এলাকা মংওয়ালু, বুনিয়া, রওয়ামপারা এবং নিয়াকুন্দে এই প্রাদুর্ভাবের কবলে পড়েছে। অন্যদিকে, উত্তর কিভুর বাটেম্বো এবং বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা পূর্বাঞ্চলীয় ডিআর কঙ্গোর বৃহত্তম শহর গোমা থেকেও ভাইরাস সংক্রমণের খবর এসেছে।
কঙ্গো এবার ১৭ বারের মতো ইবোলার মুখোমুখি হলেও, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দেখা না যাওয়া ইবোলার বুন্দিবুগিও ধরণ নিজস্ব কিছু জটিলতা নিয়ে এসেছে।
বুন্দিবুগিওর জন্য কোনো অনুমোদিত ভ্যাকসিন বা টিকা নেই, তবে পরীক্ষামূলক টিকা তৈরির কাজ চলছে। দেশটির অতীতে মোকাবেলা করা ‘জাইর’ প্রজাতির টিকা কিছুটা সুরক্ষা দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ডব্লিউএইচও এই প্রাদুর্ভাব শনাক্ত করতে ‘সামান্য দেরি করেছে’ বলে গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আসা সমালোচনার জবাবে গেব্রিয়াসুস বলেন, এই মন্তব্য সম্ভবত বিষয়টি বুঝতে না পারার কারণে হয়ে থাকতে পারে।
তিনি বলেন, “একটি অত্যন্ত জটিল পরিস্থিতিতে কত দ্রুত কাজ করা হয়েছে তা আমাদের মূল্যায়ন করা উচিত।”
উল্লেখ্য, ইবোলার প্রাথমিক লক্ষণগুলো ম্যালেরিয়া এবং টাইফয়েডের মতো, যা ডিআর কঙ্গোয় খুবই সাধারণ রোগ। কঙ্গো বছরের পর বছর ধরে চলা সংঘাতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এই ভাইরাস মোকাবিলায় বাড়তি জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।