Published : 23 May 2026, 08:00 PM
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও শীর্ষ আলোচক বাকের কলিবফ বলেছেন, যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ‘সৎ’ পক্ষ নয় এবং ইরান তার জাতীয় অধিকারের প্রশ্নে কোনো আপস করবে না।
শনিবার তেহরানে এক বৈঠকে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে তিনি এসব বলেছেন বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরের বরাত দিয়ে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ গত ৮ এপ্রিল এক ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির পর থেকে আপাত বন্ধ রয়েছে। যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক ইতি টানতে মধ্যস্থতাকারীরা ব্যাপক চেষ্টা চালালেও বিভিন্ন শর্তের ক্ষেত্রে তেহরান-ওয়াশিংটনের মতবিরোধ সহজে কমানো যাচ্ছে না।
এই বিরোধ কমাতে পাকিস্তানের নেতৃত্বে বেশকিছু দেশ নতুন করে উদ্যোগী হয়ে উঠেছে।
যুদ্ধের শুরুর দিক থেকে বিশ্ববাণিজ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকায় জ্বালানি তেলের বাজারেও ব্যাপক অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে।
পাকিস্তানি সেনাপ্রধান মুনির ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচির উপস্থিতিতে শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম।
আরাকচির সঙ্গে মুনিরের দুই দফা বৈঠক হয়। ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে পাকিস্তানি সেনাপ্রধান ইরান ছেড়েছেন বলেও জানিয়েছে একাধিক গণমাধ্যম।
এসব বৈঠকে ইরানের দেওয়া ১৪ দফার প্রস্তাব নিয়েই আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। তেহরান এ প্রস্তাবকে শান্তি আলোচনার রূপরেখা মনে করে।
কলিবফ বলেছেন, ইরান তার ‘আইনসম্মত অধিকার’ আদায় করেই নেবে, যুদ্ধক্ষেত্রে এবং কূটনীতি উভয়ের মাধ্যমে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে তিনি বলেন, তেহরান এমন কোনো পক্ষকে ‘বিশ্বাস করতে পারে না, যার কোনো ধরনের সততাই নেই’।
গত বছরের পর এ বছরও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলাকালেই শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটিতে হামলা চালিয়েছে। এ কারণে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের সততা নিয়ে বারবারই প্রশ্ন তুলছে তেহরান।
কলিবফ জানান, যুদ্ধবিরতির মধ্যে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী তাদের ক্ষতি কাটিয়ে উঠেছে। এখন যুক্তরাষ্ট্র যদি ‘বোকার মতো ফের যুদ্ধ শুরু করে’ তাহলে পরিণতি আগের বারের চেয়েও ‘মারাত্মক ও তিক্ত’ হবে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও শুক্রবার বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তির ক্ষেত্রে সামান্য অগ্রগতি হয়েছে তবে এখনও অনেক কাজ বাকি।
এদিকে ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, দুই পক্ষের মধ্যে পার্থক্য এখনও ‘গভীর ও ব্যাপক’।