Published : 15 Jul 2026, 01:05 AM
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল অচল করে দেওয়ার পর এবার লোহিতসাগরের প্রবেশদ্বার বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধের বিপজ্জনক কার্ডটিও কাজে লাগানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে ইরান।
ইয়েমেনের হুতি মিত্রদের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ আরও বাড়াতে চাইছে। এর ফলে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি জ্বালানি পরিবহন পথই ঝুঁকিতে পড়বে।
ইরানের প্রেস টিভির ওয়েবসাইটের খবরে বলা হয়েছে- ইয়েমেনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সোমবার সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, তাদের দেশের সশস্ত্র বাহিনী বাব আল মান্দেব বন্ধ করে দিতে প্রস্তুত, যদি সৌদি আরব ইয়েমেনে হামলা অব্যাহত রাখে। প্রণালিটি বন্ধ হলে তেলের দাম দিনে ২০০ ব্যারেলে দাঁড়াতে পারে।
ইয়েমেনের হুতি প্রতিরোধ আন্দোলন আনসারুল্লাহর রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য মোহাম্মদ আল-ফারাহ বলেন, ওয়াশিংটন সৌদি আরবকে ইয়েমেনে হামলা করার জন্য উস্কে দিচ্ছে। এ ধরনের উস্কানি কখনও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা করবে না।
সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি বাড়াবাড়ির দিকে গেলে হরমুজের সঙ্গে সঙ্গে বাব আল মান্দেব প্রণালিও বন্ধ হবে। তখন তেলের দাম আকাশচুম্বি হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্ব বাণিজ্যে ও জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব খাটাতে হরমুজ প্রণালি যদি ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার হয়, তবে বাব আল-মান্দেব প্রণালি হতে পারে তাদের শেষ বা বিকল্প বড় অস্ত্র।
মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞ ফাওয়াজ গেরগেসের বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, “ইরান শেষ পর্যন্ত যেতে ইচ্ছুক।” তেহরান ওয়াশিংটনকে দেখাতে চাইছে, তারা হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব দুই জলপথই একসঙ্গে অচল করে দিতে পারে। এতে দ্বিপক্ষীয় সংঘাত বিশ্বে জ্বালানি বাণিজ্য সংকটে রূপ নিতে পারে।
"এখন (তেহরান) কাছের অঞ্চলে এবং বিস্তৃত এলাকাজুড়ে উত্তেজনা বাড়াচ্ছে। বার্তাটি হল কেবল হরমুজ নয়, বাব আল-মান্দাবও এখন ঝুঁকির মুখে রয়েছে।"
বিশ্লেষকরা বলছেন, এখন বিপদ হল- তাৎক্ষণিকভাবে পুরোপুরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার চেয়ে উভয় পক্ষের ধীরে ধীরে নিজেদের অবস্থান বা তৎপরতা বাড়াতে থাকার (মিশন ক্রিপ) ঝুঁকি বেশি, যার মানে হল- একে অপরের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে থাকা, কিন্তু সরাসরি সংঘাতে জড়ানোর মতো সীমারেখা অতিক্রম না করা।