Published : 17 Oct 2025, 10:46 AM
ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সম্প্রতি টেলিফোনে আলাপ হয়েছে বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বুধবার যে দাবি করেছেন তা জোরের সঙ্গে অস্বীকার করেছে ভারত।
ওই ফোনালাপে ভারত রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করবে—মোদী তাকে এমন আশ্বাস দিয়েছেন বলেও ট্রাম্প দাবি করেছিলেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের ওই দাবির প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার নয়া দিল্লি বলেছে, দুই নেতার মধ্যে এমন কোনো ফোনালাপ হয়নি।
“জ্বালানি প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র থেকে যে মন্তব্য এসেছে তা নিয়ে আমরা ইতিমধ্যে একটি বিবৃতি দিয়েছি, আপনারা সেটা ব্যবহার করতে পারেন। আর টেলিফোন আলাপের যে কথা এসেছে, আমি বলতে পারি প্রধানমন্ত্রী (মোদী) ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যে এ ধরনের কোনো আলাপই হয়নি,” ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এমনটাই বলেছেন বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।
হোয়াইট হাউসে বুধবার ট্রাম্প মোদীর সঙ্গে তার চমৎকার সম্পর্ক ও ভারত-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে অনেক কথা বলেন। তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে ‘অসাধারণ মানুষ’ এবং ভারতকে ‘অনন্য দেশ’ অভিহিত করেন।
মোদীর সঙ্গে সম্প্রতি কথা হয়েছে এবং মালয়েশিয়ায় আসন্ন আসিয়ান সম্মেলনের সাইডলাইনে দুইজনের বৈঠক হতে পারে বলেও তিনি আভাস দেন।
“তিনি অবশ্যই আমার বন্ধু। আমাদের মধ্যে চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে। তিনি অসাধারণ মানুষ। তিনি ট্রাম্পকে ভালোবাসেন। আমি অনেক বছর ধরে ভারতকে দেখছি। এটা একটা অনন্য দেশ। প্রতি বছর সেখানে আপনি নতুন নেতা পাবেন। অবশ্য অনেকে খুব অল্প সময়ের জন্য থাকেন, এমনটা বছরের পর বছর ধরে হয়ে আসছে। সেখানে আমার বন্ধু বেশ লম্বা সময় ধরে সেখানে রয়েছেন,” মোদীর সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে বলেন ট্রাম্প।
ভারত আর রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কিনবে না, প্রধানমন্ত্রী মোদী তাকে এ বিষয়ে ‘আশ্বস্ত করেছেন’ বলেও দাবি করেন তিনি।
“তিনি আজ আমাকে আশ্বস্ত করেছেন তারা আর রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কিনবে না। আপনি সঙ্গে সঙ্গে এটা পারবেন না, এটা একটা প্রক্রিয়ার ব্যাপার। তবে সেই প্রক্রিয়া শিগগিরই শেষ হবে। আমরা সবাই চাই প্রেসিডেন্ট পুতিনের কাছে এটা (ইউক্রেইন যুদ্ধ) যেন বন্ধ হয় তা চাই,” বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ভারত মস্কোর তেল কেনা বন্ধ করলে রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধ বন্ধ করা ‘অনেক সহজ’ হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
“অল্প সময়ের মধ্যে তারা আর রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কিনবে না। যুদ্ধ যখন শেষ হবে তখন তারা আবার রাশিয়ার দ্বারস্থ হতে পারবে,” বলেন তিনি।
তার এ বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পরই ভারত জানায়, অস্থির জ্বালানি বাজারে ভারতীয় ক্রেতাদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখাই ভারতের অগ্রাধিকার।
রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ হচ্ছে কিনা সে প্রসঙ্গে সরাসরি কিছু না বলে তাদের বিবৃতিতে বলা হয়, “ভারত তেল ও গ্যাসের গুরুত্বপূর্ণ আমদানিকারক। অস্থির জ্বালানি পরিস্থিতিতে ভারতীয় ক্রেতাদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখাই আমাদের নিরবচ্ছিন্ন অগ্রাধিকার। আমাদের আমদানি নীতি পুরোপুরি এই লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে তৈরি।”
জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি স্থিতিশীল দাম ও সরবরাহে নিশ্চয়তা এ দুটি স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে আছে বলেও জয়সওয়ালের এ বিবৃতিতে জানানো হয়।
“আমাদের জ্বালানি নীতির লক্ষ্য হলো স্থিতিশীল জ্বালানি মূল্য বজায় রাখা ও নিরাপদ সরবরাহ নিশ্চিত করা। এজন্য আমরা বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করছি এবং বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনমতো বৈচিত্র্যও আনা হচ্ছে।”
ওয়াশিংটনের সঙ্গে জ্বালানি সহযোগিতা বিস্তৃত করতেও ভারত দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে আসছে বলে ওই বিবৃতিতে জানান জয়সওয়াল।
“গত দশকে এ ক্ষেত্রে স্থির অগ্রগতি ঘটেছে। এখনকার প্রশাসন ভারতের সঙ্গে জ্বালানি সহযোগিতা আরও গভীর করার আগ্রহ দেখিয়েছে। এ বিষয়ে আলোচনা চলছে,” বলেছেন তিনি।
আরও পড়ুন