Published : 16 Oct 2025, 12:20 PM
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ভারত রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করবে বলে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাকে বলেছেন।
মস্কোকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করতে যুক্তরাষ্ট্রে যে চেষ্টা, তাতে ভারতের এ ভূমিকাকে ‘বড় পদক্ষেপ’ বলেও অভিহিত করেছেন তিনি।
“ভারতের তেল কেনা নিয়ে খুশি ছিলাম না আমি, তিনি আজ আমাকে আশ্বস্ত করেছেন যে তারা আর রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কিনবে না। এটা বড় পদক্ষেপ। এখন আমরা চীনকেও একই কাজ করতে রাজি করাবো,” হোয়াইট হাউসের এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এমনটাই বলেছেন ট্রাম্প।
মোদী ট্রাম্পকে এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন কিনা তা নিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স ইমেইলে প্রশ্ন করলেও তাৎক্ষণিকভাবে ওয়াশিংটনের ভারতীয় দূতাবাসের কাছ থেকে সাড়া মেলেনি।
তবে পরে নয়া দিল্লি জানায়, অস্থির জ্বালানি বাজারে ভারতীয় ক্রেতাদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখাই ভারতের স্থায়ী অগ্রাধিকার।
রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ হচ্ছে কিনা সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলেনি তারা।
রয়টার্স লিখেছে, ভারত যদি সত্যিই রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করে দেয় তাহলে বৈশ্বিক জ্বালানি কূটনীতিতে এটি বড় ধরনের মোড় বদল হবে। তাও এমন এক সময়ে যখন ইউক্রেইন যুদ্ধ বন্ধে ওয়াশিংটন তেল থেকে মস্কোর আয় বন্ধে প্রচেষ্টা জোরদার করছে।
নয়া দিল্লি সরে গেলে মস্কো তার জ্বালানির অন্যতম বড় ক্রেতা হারাবে, একইসঙ্গে এটি অন্য যারা এখনও রুশ অপরিশোধিত তেল আমদানি করছে তাদের চিন্তাভাবনাতেও পরিবর্তন আনবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প কেবল বহুপাক্ষিক নিষেধাজ্ঞা না দিয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে কাজে লাগিয়েই রাশিয়াকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করছেন।
অবশ্য সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেছেন, ভারত ‘শিগগিরই’ তেল কেনা বন্ধ করতে পারছে না।
“এটা একটা প্রক্রিয়ার ব্যাপার, কিন্তু সেই প্রক্রিয়াটি দ্রুতই শেষ হয়ে যাবে,” বলেছেন তিনি।
পরে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ বিষয়ে বিবৃতি দেন। তিনি রাশিয়ার তেল কেনা প্রসঙ্গে সরাসরি কিছু না বলে জানান, ভারতীয় ক্রেতাদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখাই ভারতের স্থায়ী অগ্রাধিকার।
“ভারত তেল ও গ্যাসের গুরুত্বপূর্ণ আমদানিকারক। অস্থির জ্বালানি পরিস্থিতিতে ভারতীয় ক্রেতাদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখাই আমাদের নিরবচ্ছিন্ন অগ্রাধিকার। আমাদের আমদানি নীতি পুরোপুরি এই লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে তৈরি,” বিবৃতিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এমনটাই বলেছেন বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।
“আমাদের জ্বালানি নীতির লক্ষ্য হলো স্থিতিশীল জ্বালানি মূল্য বজায় রাখা ও নিরাপদ সরবরাহ নিশ্চিত করা। এজন্য আমরা বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করছি এবং বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনমতো বৈচিত্র্যও আনা হচ্ছে।
“যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রেও, বহু বছর ধরে আমরা আমাদের জ্বালানি সংগ্রহ বিস্তৃত করার চেষ্টা করে আসছি। গত দশকে এ ক্ষেত্রে স্থির অগ্রগতি ঘটেছে। এখনকার প্রশাসন ভারতের সঙ্গে জ্বালানি সহযোগিতা আরও গভীর করার আগ্রহ দেখিয়েছে। এ বিষয়ে আলোচনা চলছে,” বলা হয়েছে বিবৃতিতে।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এর আগে বারবারই মস্কোর তেল কেনা বিষয়ে ভারতের অবস্থান সুস্পষ্ট করেছিলেন। ভারত তার নাগরিকদের জন্য সবচেয়ে সেরা চুক্তিটা করারই চেষ্টা করে যাচ্ছে বলে যুক্তি দিয়েছিলেন তিনি।
তিনি পশ্চিমা দেশগুলোর ‘দ্বিমুখী নীতিরও’ কড়া সমালোচনা করেছিলেন। বলেছিলেন, “ইউরোপের সমস্যা সারা বিশ্বের সমস্যা, কিন্তু বিশ্বের সমস্যা ইউরোপের নয়—ইউরোপকে এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির আগে দেশটির লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মন্তব্য ঘিরে মোদী সরকারকে একহাত নেন।
“প্রধানমন্ত্রী মোদী ট্রাম্পে আতঙ্কিত। তিনি—১. ভারত যে রাশিয়ার তেল কিনবে না এ বিষয়ে ট্রাম্পকে সিদ্ধান্ত নিতে ও তা ঘোষণা করতে সুযোগ দিয়েছেন, ২. বারবার উপেক্ষার পরও শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েই যাচ্ছেন, ৩. যুক্তরাষ্ট্রে অর্থমন্ত্রী সফর বাতিল করেছেন, ৪. শারম আল-শেখে যাওয়া এড়িয়েছেন, ৫. অপারেশন সিদুঁর নিয়ে তার (ট্রাম্প) অবস্থানের বিরুদ্ধাচরণ করছেন না,” এক্সে দেওয়া পোস্টে বলেছেন রাহুল।