Published : 31 Dec 2025, 12:55 PM
ইয়েমেনে সৌদি আরবের এক বিমান হামলার পর দেশটি থেকে আমিরাতি বাহিনীর প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হয়তো সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও সৌদি আরবের দ্বন্দ্ব প্রশমিত করতে সাহায্য করতে পারে, কিন্তু এই ঘটনায় পারস্য উপসাগরীয় দুই আরব দেশের মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরে চলে আসা চাপা অবিশ্বাস প্রকাশ্যে এনেছে।
মঙ্গলবার স্থানীয় সময় ভোরে ইয়েমেনের মুকাল্লা বন্দরে বিমান হামলা চালায় সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। এরপর ইউএইয়ের বাহিনীকে ইয়েমেন ছাড়ার আহ্বান জানানো হয়। আর রিয়াদ এক বিবৃতিতে তার জাতীয় নিরাপত্তা একটি ‘রেড লাইন’ উল্লেখ করে হুঁশিয়ারি দেয়।
ইউএই বলেছে, তারা সৌদি জোটের বিমান হামলায় বিস্মিত হয়েছে। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা ইয়েমেন থেকে তাদের অবিশষ্ট সেনাদের সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেয়। সেনাদের নিরাপত্তার জন্যই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানায়।
ডিসেম্বরের প্রথমদিকে ইউএই সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদীরা অন্যদের বিস্মিত করে ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলের মধ্য দিয়ে দ্রুত বেগে এগিয়ে গেলে এই সঙ্কট শুরু হয়। এতে উপসাগরীয় অঞ্চলের দুই প্রভাবশালী প্রতিবেশীর তেল উৎপাদনের সীমা থেকে শুরু করে ভূরাজনৈতিক ক্ষেত্রে বছরের পর বছর ধরে চলে আসা বিভেদ সামনে নিয়ে আসে।
সৌদি আরবের চিন্তাধারার ঘনিষ্ঠ এক উপসাগরীয় সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছেন, উত্তেজনা বাড়ার পেছনে আছে একটি ভুল বোঝাবুঝি। এর শুরু সৌদি যুবরাজের ওয়াশিংটন সফরের সময়। সেখানে সুদানের গৃহযুদ্ধ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান কথা বলেছিলেন আর এখন থেকেই ওই ভুল ধারণার সূত্রপাত।
সুদান ইউএইর জন্য একটি স্পর্শকাতর বিষয়। কিন্তু সুদানের সেনাবাহিনীর সঙ্গে লড়াইরত সুদানের আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) –কে ইউএই সমর্থন দিচ্ছে বলে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা ও মার্কিন কংগ্রেসের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন। ইউএই কোনো পক্ষকে সমর্থন দেওয়ার কথা অস্বীকার করেছে।
ট্রাম্প ও সৌদি যুবরাজ ওয়াশিংটনে নভেম্বরের ওই বৈঠকে সুদান নিয়ে আলোচনা করেছিলেন।
উপসাগরীয় সূত্রটি জানিয়েছে, ইউএই এই বৈঠকের বিষয়ে ‘ভুল তথ্য’ পায়। তারা জানতে পায়, যুবরাজ মোহাম্মদ ট্রাম্পকে আরএসএফের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার কথা বলার পাশাপাশি তাদের সমর্থন দেওয়ার জন্য ইউএইয়ের বিরুদ্ধেও আরও সরাসরি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে বলেন। এমন তথ্য পেয়ে ইউএইয়ের নেতৃবৃন্দ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।
এই নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির প্রভাব পড়ে ইয়েমেনে, সেখানে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়, জানান ওই সূত্র।
তিনি বলেন, ডিসেম্বর থেকেই সৌদি আরব ও ইউএইয়ের মধ্যে ফোন কলসহ উচ্চ পর্যায়ের আলোচনা শুরু হলেও মাঠ পর্যায়ে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি।
সৌদি আরব ও ইউএইয়ের মধ্যে পরবর্তীতে আর কোনো সংঘাত হলে তা অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী উপসাগরীয় অঞ্চলের জন্য ক্ষতির কারণ হবে। ওপেকের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য সৌদি আরব ও ইউএইয়ের মধ্যে মতভেদ থাকলে তা তেল উৎপাদনের সিদ্ধান্তের বিষয়ে ঐকমত্যকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। দুই দেশই আগামী রোববারের ওপেক প্লাসের অন্য সদস্যদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
লন্ডনের নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান চ্যাথাম হাউজের সহযোগী ফেলো নিল কুইলিয়াম বলেন, “এই দুই রাষ্ট্রের সম্পর্ক কখনোই সহজ ছিল না, কিন্তু বছরের পর বছর ধরে যে দ্বন্দ্ব চলছিল তা এখনই সবচেয়ে তীব্র হয়েছে বলে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে।”
আরও পড়ুন:
ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় মুকাল্লা বন্দরে সৌদি জোটের বিমান হামলা
সৌদি হামলায় উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে আমিরাত বাহিনীকে ইয়েমেন ছাড়ার নির্দেশ
সৌদি আরবের সঙ্গে সংকটে ইয়েমেন থেকে অবশিষ্ট বাহিনী সরিয়ে নিচ্ছে আমিরাত