Published : 30 Dec 2025, 02:28 PM
ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর মুকাল্লায় কথিত ‘বিদেশি সামরিক সমর্থন’ লক্ষ্য করে সীমিত বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনী।
ইয়েমেনের তেলসমৃদ্ধ হাদরামাউত প্রদেশে সংযুক্ত আরব আমিরাত সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি) এর যেকোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি জানানোর তিন দিনের মধ্যে এ হামলা চালালো সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট।
চলতি মাসের প্রথমদিকে দক্ষিণাঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদীরা এক আক্রমণ চালানোর পর এসটিসি ও সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনের সরকারি সেনারা পরস্পরের মুখোমুখি হয়ে পড়ে, এতে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব প্রথমবারের মতো সর্বাত্মক সংঘাতের আরও কাছাকাছি চলে আসে। ইয়েমেন ২০১৪ সাল থেকে গৃহযুদ্ধে জর্জরিত হয়ে আছে।
রয়টার্স সৌদি জোটের এক মুখপাত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, শনিবার দুটি জাহাজ আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দর থেকে রওনা হয়ে তাদের ট্র্যাকিং সিস্টেম বন্ধ রেখে আর জোট বাহিনীর কোনো অনুমোদন না নিয়ে রোববার মুকাল্লা বন্দরে হাজির হয়, তারপর ‘এসটিসিকে সমর্থন দিতে’ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও যুদ্ধযান খালাস শুরু করে।
জোট বাহিনী জানিয়েছে, মুকাল্লা বন্দরে চালানো তাদের হামলায় কোনো হতাহত বা অপ্রত্যাশিত কোনো ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি।
এ ঘটনা নিয়ে রয়টার্সের জানানো মন্তব্যের অনুরোধে আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি।
সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম জোট বাহিনীর মুখপাত্র তুর্কি আল মালিকির উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, হাদরামাউত ও মাহরায় এসটিসি ভুক্ত ‘সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সহিংসতা’ থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষার জন্য ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের (পিএলসি) ভারপ্রাপ্ত প্রধান রাশাদ আল আলিমির জানানো অনুরোধ সাড়া দিয়ে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান বাহিনী মঙ্গলবার ভোরে মুকাল্লা বন্দরে খালাস করা অস্ত্রশস্ত্র ও সামরিক যানগুলোকে লক্ষ্যস্থল করে।
রয়টার্সকে দুটি সূত্র জানিয়েছে, ওই দুই জাহাজ থেকে খালাস করা মালামাল বন্দরের যে জেটিতে রাখা হয়েছিল সেখানে আঘাত হানা হয়েছে।
ইয়েমেনের শিয়া হুতি বিদ্রোহীরা দেশটির সৌদি সমর্থিত সরকারকে হটিয়ে রাজধানী সানাসহ উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের অধিকাংশ এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া পর ২০১৫ সালে সেখানে হস্তক্ষেপ করে সৌদি নেতৃত্বাধীন আরব সামরিক জোট। তখন এসটিসির বিচ্ছিন্নতাবাদীরা হুতিদের বিরোধী এই জোটের অংশ ছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে তারা দক্ষিণাঞ্চলে স্ব-শাসন চাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
২০২২ সাল থেকে তারা হুতি নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলগুলোর বাইরে দক্ষিণাঞ্চলের জোট নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে সৌদি আরব সমর্থিত ক্ষমতা ভাগাভাগির উদ্যোগের অংশীদার ছিল। এখন তারা সংযুক্ত আরব আমিরাতের সমর্থন নিয়ে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হাদরামাউত প্রদেশসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিশাল এলাকায় নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে।
হাদরামাউত সৌদি আরবের সীমান্ত সংলগ্ন আর তাদের মধ্যে সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক সম্পর্ক আছে। অনেক বিশিষ্ট সৌদি নাগরিক এই অঞ্চল থেকে এসেছেন।
এক বিবৃতিতে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট বলেছে, “বৈধ সরকারের সঙ্গে সমন্বয় ছাড়া ইয়েমেনের যে কোনো উপদলের কাছে যে কোনো দেশ থেকে আসা যে কোনো সামরিক সমর্থন আমরা প্রতিরোধ করবো।”
আরও পড়ুন:
ইয়েমেনের এসটিসি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের কড়া হুঁশিয়ারি সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের