Published : 30 Dec 2025, 09:29 PM
ইয়েমেনের দক্ষিণ উপকূলীয় মুকাল্লা বন্দরে সংযুক্ত আরব আমিরাত-সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদীদেরকে অস্ত্র জোগানোর অভিযোগে সৌদি আরব নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলা ঘিরে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে ইয়েমেন আমিরাতের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে।
ইয়েমেনে অবস্থানরত সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সব বাহিনীকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশটি ত্যাগ করতে বলা হয়েছে। ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থত প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল এ নির্দেশ দিয়েছে। সৌদি আরব আমিরাতকে ইয়েমেন থেকে সেনা সরানোর এই নির্দেশ মেনে নিতে বলেছে।
দক্ষিণ ইয়েমেনে আমিরাত-সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদী ‘সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল’ (এসটিসি)-এর কাছে অস্ত্র পাঠানোর কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সঙ্গে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল।
মঙ্গলবার টিভিতে দেওয়া এক ভাষণে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান রাশাদ আল-আলিমি বলেন, “সব আমিরাতি বাহিনীকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইয়েমেনের সব এলাকা থেকে সরে যেতে হবে।”
এছাড়া, মঙ্গলবার থেকেই দেশজুড়ে ৯০ দিনের জরুরি অবস্থা জারির ঘোষণা দেন তিনি। পাশাপাশি সব বন্দর ও সীমান্ত ক্রসিংয়ে ৭২ ঘণ্টার জন্য আকাশ ও স্থলপথে চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারিরও ঘোষণা দেন আল আলিমি।
এর আগে এদিন সৌদি আরব নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনের মুকাল্লা বন্দরে দুটি জাহাজকে লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায়।
সৌদি জোটের এক মুখপাত্র জানান, ওই দুটি জাহাজ আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দর থেকে রওনা হয়ে তাদের ট্র্যাকিং সিস্টেম বন্ধ রেখে আর জোট বাহিনীর কোনো অনুমোদন না নিয়ে রোববার মুকাল্লা বন্দরে হাজির হয়, তারপর ‘এসটিসিকে সমর্থন দিতে’ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও যুদ্ধযান খালাস শুরু করে।
এরপরই মুকাল্লা বন্দরে বিমান হামলা চালায় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। তবে সৌদি আরবের দাবি, এই হামলায় কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বা অন্য কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
সৌদি আরব ইয়েমেনে খুবই বিপজ্জনক কার্যকলাপের অভিযোগ তুলেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিরুদ্ধে। তবে আমিরাত এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
তারা দুটি জাহাজে হামলার ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছে এবং বলেছে, এই জাহাজে করে ইয়েমেনে আমিরাতি বাহিনীর জন্য সরবরাহ নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের সঙ্গে সমন্বয় করেই তা করা হচ্ছিল।
সৌদি আরব এবং আরব আমিরাত দুই দেশই তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেক-এর প্রধান সদস্য। দুই দেশের এই বিরোধ তেল বিষয়ক সিদ্ধান্ত গ্রহণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আগামী রবিবার ওপেক সদস্যদের একটি ভার্চ্যুয়াল বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ইতোমধ্যে এই উত্তেজনার প্রভাবে উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রধান শেয়ারবাজারগুলোতে দরপতন লক্ষ্য করা গেছে।