১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

চীন সফরে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার

চীনের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের ঝিমিয়ে পড়া সম্পর্ককে নতুন করে চাঙা করতে তিনদিনের সফরে চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে পৌঁছেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী।

চীন সফরে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার
বেইজিংয়ের বিমানবন্দরে ফুল দিয়ে স্বাগত জানানো হচ্ছে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 28 Jan 2026, 07:19 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:48 PM

তিনদিনের সফরে চীনে পৌঁছেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টরমার। ২০১৮ সালের পর এটিই কোনও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর প্রথম চীন সফর।

তার সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন প্রায় ৬০ জন প্রভাবশালী ব্রিটিশ ব্যবসায়ী ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রতিনিধি।  চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের সঙ্গে স্টারমারের বৈঠক করার কথা রয়েছে।

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে পৌঁছেই স্টারমার বলেছেন,  “মুক্তমনা হতে আমরা সংকল্পবদ্ধ। তবে জাতীয় স্বার্থের বিষয়ে একাগ্রচিত্ত।”

চীনের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের ঝিমিয়ে পড়া সম্পর্ককে নতুন করে চাঙা করাই কিয়ার স্টারমারের লক্ষ্য। চীনের সঙ্গে উন্নত সম্পর্ক স্থাপন করতে পারলে ব্রিটিশ জনগণ ও ব্যবসায়ীরা সরাসরি উপকৃত হবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। 

স্টারমার বলেন, “আমাদের প্রতিনিধিদলে যুক্তরাজ্যের বহু কোম্পানির সিইও-রা (প্রধান নির্বাহী) রয়েছেন, এটাই প্রমাণ করে যে, আমাদের জন্য অনেক সুযোগ রয়েছে। এই সুযোগ যুক্তরাজ্যের জন্য অর্থনৈতিক সুবিধা বয়ে আনবে।”

বুধবার বেইজিং পৌঁছানোর পর তিনি বলেন, এই সফরের মূল লক্ষ্য হলো স্থবির হয়ে থাকা দ্বিপাক্ষীয় সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করার মাধ্যমে ব্রিটিশ নাগরিকদের পকেটে আরও অর্থ আনা এবং দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

তবে চীন সফর নিয়ে খোদ যুক্তরাজ্যেই সমালোচনার মুখে পড়েছেন প্রধানমন্ত্রী। উইঘুর মুসলিম ও অন্যান্য জাতিগত সংখ্যালঘুদের ওপর দমন-পীড়নের কারণে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ আছে চীনের বিরুদ্ধে।

তাছাড়া, হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থি মিডিয়া টাইকুন ও ব্রিটিশ নাগরিক জিমি লাইকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও বিশ্বজুড়ে সমালোচনা রয়েছে। 

সম্প্রতি ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা এমআই-৫ সতর্ক করে দিয়ে বলেছে যে, চীনে ব্রিটিশ বিরোধী গুপ্তচরবৃত্তি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এসব চ্যালেঞ্জ থাকার পরও চীনের সঙ্গে যোগাযোগ ও ভাল সম্পর্ক রাখা জরুরি বলে মনে করছে যুক্তরাজ্য সরকার।

গত এক দশকে কনজারভেটিভ সরকারের আমলে লন্ডন ও বেইজিংয়ের সম্পর্ক ‘সোনালি যুগ’ থেকে ‘শীতল যুগে’ রূপ নিয়েছিল।

 স্টারমার এর সমালোচনা করে একটি টেকসই ও ধারাবাহিক সম্পর্কের ওপর জোর দিচ্ছেন। তিনি বলেন, “চীনকে অগ্রাহ্য করে বালিতে মাথা গুঁজে পড়ে থাকা আমাদের জাতীয় স্বার্থের অনুকূল নয়। আমাদের মিত্ররাও চীনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হচ্ছে, আমরাও সেটিই করব।”

স্টারমারের এই ‘বাস্তবমুখী’ উদ্যোগ এক কঠিন ভারসাম্যের চ্যালেঞ্জের মুখে। একদিকে রয়েছে বিশাল অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, অন্যদিকে রয়েছে বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে ওঠা গুপ্তচরবৃত্তি, সাইবার হামলা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ। 

স্টারমার স্পষ্ট করেছেন, অর্থনৈতিক সুবিধার জন্য তিনি ব্রিটেনের জাতীয় নিরাপত্তায় কোনও আপস করবেন না। তিনি বলেন, “আমরা চীনের সঙ্গে আমাদের মতপার্থক্যগুলো নিয়েও খোলামেলা আলোচনা করব। জাতীয় নিরাপত্তা ও মানবাধিকারের বিষয়ে আমাদের অবস্থান সবসময় স্পষ্ট থাকবে।”

স্টারমার এমন এক সময়ে চীন সফর করছেন যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতি ও গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি পশ্চিমা জোটগুলোর মধ্যে ফাটল ধরাচ্ছে। 

এই অস্থির বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে নিজেকে একজন ‘স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য’ অংশীদার হিসেবে তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছে বেইজিং। 

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমার বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও প্রধানমন্ত্রী লি খিয়াংয়ের সাথে বৈঠকে বসবেন, যেখানে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তার স্পর্শকাতর বিষয়গুলোও আলোচনায় আসবে।