Published : 04 Dec 2025, 10:15 PM
২০১৮ সালে যুক্তরাজ্যের মাটিতে সাবেক রুশ গুপ্তচর সের্গেই স্ক্রিপাল ও তার মেয়েকে হত্যাচেষ্টায় নার্ভ এজেন্ট নোভিচক প্রয়োগের নির্দেশ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনই দিয়েছিলেন।
তার এই বেপরোয়া ক্ষমতা জাহিরের জেরে মৃত্যু হয় আরেক নির্দোষ নারী ডন স্টার্জেসের। এই মৃত্যুর ঘটনায় ‘নৈতিকভাবে পুতিনই দায়ী’। যুক্তরাজ্যে ঘটনাটির সরকারি তদন্তের উপসংহার টেনে বৃহস্পতিবার একথা বলা হয়েছে।
২০১৮ সালের ৪ মার্চে নোভিচক বিষপ্রয়োগে মৃত্যুর দুয়ারে পৌঁছে গিয়েছিলেন সাবেক পক্ষত্যগী রুশ গুপ্তচর সের্গেই স্ক্রিপাল ও তার মেয়ে ইউলিয়া।
ইংল্যান্ডে সলসবেরির উইল্টশায়ারে একটি পার্কের বেঞ্চ থেকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় স্ক্রিপাল ও তার মেয়েকে উদ্ধার করা হয়েছিল। মেডিক্যাল পরীক্ষায় এ দুইজনকে নোভিচক গ্রুপের নার্ভ এজেন্ট দেওয়া হয়েছিল বলে জানা যায়।
তারা নার্ভ এজেন্ট হামলার শিকার হয়েছে বলেই তখন জানিয়েছিল লন্ডন। তারা কয়েক সপ্তাহ ধরে মারাত্মক অসুস্থ ছিলেন। এ হামলার পেছনে রাশিয়ার জড়িত থাকার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি বলে জানিয়েছিলেন তখনকার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী।
ওই ঘটনার চারমাস পর তিন সন্তানের জননী ৪৪ বছর বয়সী এক নারী ডন স্টার্জেস পরিত্যক্ত সুগন্ধির বোতল ভেবে নোভিচক শরীরে স্প্রে করে মারা যান। ঘটনার তদন্তে বলা হয়েছে, নকল ওই সুগন্ধির বোতল নার্ভ এজেন্ট চোরাচালানের জন্য ব্যবহার করেছিলেন রুশ গুপ্তচররা।
স্ক্রিপাল ও তার মেয়ে এবং তাদের বাড়িতে যাওয়া এক পুলিশ কর্মকর্তাও ওই নোভিচক নার্ভ এজেন্টের প্রভাবে গুরুতর অসুস্থ হয়েছিলেন। তবে পরে সেরে ওঠেন।
স্টার্জেসের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে তদন্তের দায়িত্বে থাকা সাবেক ব্রিটিশ সুপ্রিম কোর্টের বিচারক অ্যান্থনি হিউজেস উপসংহার টেনে বলেছেন, তিনি এ বিষয়ে নিশ্চিত যে, রাশিয়ার জিআরইউ সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদের একটি টিম স্কিপালকে মারার চেষ্টা করেছিল।
কারণ, স্ক্রিপাল রাশিয়ার গোপন তথ্য বিক্রি করেছিলেন, যুক্তরাজ্যে নতুন ট্যাব খুলেছিলেন এবং ২০১০ সালে লন্ডনে চলে এসেছিলেন।
বিচারক বলেন, “আমি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি যে, স্ক্রিপালকে হত্যাচেষ্টার অভিযানের অনুমোদন সর্বোচ্চ পর্যায়, প্রেসিডেন্ট পুতিনের কাছ থেকেই দেওয়া হয়েছিল। এটি যে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় হামলা, তার এই প্রমাণ বিস্ময়কর।”
রাশিয়া বরাবরই যুক্তরাজ্যের মাটিতে স্ক্রিপাল হত্যাচেষ্টায় তাদের কোনওরকম সম্পৃক্ততা থাকার কথা অস্বীকার করে আসছে। এই অভিযোগকে তারা রাশিয়া-বিরোধী প্রচারণা বলে উল্লেখ করেছে।
যুক্তরাজ্যের সরকারি তদন্তের বক্তেব্যর বিষয়ে যুক্তরাজ্যের রুশ দূতাবাস তাৎক্ষণিক কোনও মন্তব্য করেনি।
বিচারক হিউজেস বলেন, যে রুশ গুপ্তচররা বোতলে করে নোভিচক নিয়ে গিয়েছিল স্ক্রিপালের দুয়ারে, তারা সাধারণ মানুষের জন্য এর বিপদের কথা না ভেবেই বোতলটি ফেলে রেখে গিয়েছিল। বিষমাখা ওই সুগন্ধির বোতলে হাজার হাজার মানুষকে মেরে ফেলার মতো যথেষ্ট বিষ ছিল বলে জানানো হয়েছে তদন্তে।
জিআরইউ এর ওপর যুক্তরাজ্যের নতুন নিষেধাজ্ঞা:
রাশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার টিমের সন্দেহভাজন তিন সদস্যের অনুপস্থিতিতেই তাদের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে অভিযোগ এনেছে ব্রিটিশ পুলিশ।
বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ সরকার রাশিয়ার জিআরইউ গোয়েন্দা সংস্থার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। ‘মস্কোর চলমান বৈরি কর্মকাণ্ডের’ অভিযোগে প্রতিবাদ জানাতে যুক্তরাজ্যে ডেকে পাঠানো হয়েছে রুশ রাষ্ট্রদূতকেও।
এক বিবৃতিতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, “পুতিনের নির্মম শাসনের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্য সবসময়ই অবস্থান নেবে।”