Published : 31 Jan 2026, 02:48 PM
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর এক মিত্র ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব দিয়ে একটি বিল আনতে যাচ্ছেন।
অল্প বয়সীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার ওপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কী ধরনের প্রভাব বিস্তার করে তা নিয়ে বৈশ্বিক বিতর্কে মেটা ও ইউটিউবের মতো বিশ্বের বড় বড় অনলাইন জায়ান্ট জড়িয়ে পড়ার মধ্যে এ খবর এল।
“আমাদের শিশুরা কেবল সোশাল মিডিয়ায় আসক্ত হয়ে পড়ছে তা-ই নয়, ভারত বিদেশি প্ল্যাটফর্মগুলোর জন্য বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ডেটা উৎপাদকেও পরিণত হচ্ছে,” শুক্রবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এমনটাই বলেছেন আইনপ্রণেতা এলএসকে দেভারায়ালু।
তেলেগু দেশম পার্টির এই আইনপ্রণেতাই বিলটি প্রস্তাব করেছেন। তার দল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ক্ষমতাসীন জোটে বেশ প্রভাবশালী।
“ডেটার ভিত্তিতে বিভিন্ন কোম্পানি অত্যাধুনিক এআই ব্যবস্থাপনা বানাচ্ছে, ভারতীয় ব্যবহারকারীদের কার্যত বিনামূল্যের ডেটা সরবরাহকারীতে পরিণত করছে, অথচ কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সব সুবিধা অন্যরা নিয়ে যাচ্ছে,” বলেছেন তিনি।
বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়া গত মাসে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করেছে। তাদের এ পদক্ষেপকে অনেক অভিভাবক ও শিশুদের নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিরা স্বাগত জানালেও বড় বড় প্রযুক্তি কোম্পানি ও বাকস্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা অনেকে এর চরম সমালোচনাও করছেন।
দিনকয়েক আগে ফ্রান্স পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষও ১৫ বছরের কম বয়সীদের সোশাল মিডিয়ায় নিষিদ্ধ করে আনা বিলে সমর্থন দিয়েছে। ব্রিটেন, ডেনমার্ক ও গ্রিসও এ ধরনের আইন করার কথা ভাবছে।
ভারতের পার্লামেন্টে বিল ওঠা প্রসঙ্গে ফেইসবুকের পরিচালক প্রতিষ্ঠান মেটা, ইউটিউবের অ্যালফাবেট ও এক্সের কাছে রয়টার্স মন্তব্র চাইলেও শনিবার পর্যন্ত তাদের কাছ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
মেটা এর আগে বলেছিল, তারা অভিভাবকের নজরদারি সংক্রান্ত আইনকে সমর্থন করে কিন্তু ‘নিষেধাজ্ঞা কিশোর বয়সীদেরকে যেন তুলনামূলক কম নিরাপদ ও অনিয়ন্ত্রিত সাইটের দিকে ঠেলে না দেয় সেজন্য সরকারগুলোর সতর্ক থাকা উচিত’।
ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এ প্রসঙ্গে কোনো মন্তব্য করেনি।
বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্মার্টফোন বাজার ও শতকোটি ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর দেশ ভারত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাপগুলোর অন্যতম প্রধান আগ্রহের জায়গা। দেশটিতে সোশাল মিডিয়া অ্যাপে ঢুকতে কোনো বয়সসীমা নেই।
এখনও প্রকাশ্যে না আসা দেভারায়ালুর ১৫ পৃষ্ঠার সোশাল মিডিয়া (বয়সসীমা নির্ধারণ ও অনলাইন নিরাপত্ত) বিলটি দেখেছে রয়টার্স। এতে বলা হয়েছে, ১৬ বছরের কম বয়সীদের সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট তৈরি, পরিচালনা বা রাখার অনুমতি থাকবে না; কারও এমন অ্যাকাউন্ট পাওয়া গেলে তা নিষ্ক্রিয় করে দিতে হবে।
“আমরা চাইছি ব্যবহারকারীর বয়স নিশ্চিত হওয়ার দায়িত্ব পুরোপুরি সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোকে দিতে,” বলেছেন দেভারায়ালু।
ভারতের প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টাও বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত এক মন্তব্য করে সবার মনোযোগ কেড়েছেন। তিনি বলেছেন, ভারতের উচিত ‘ডিজিটাল আসক্তি’ এড়াতে বয়সভিত্তিক প্রবেশাধিকার সীমা ঠিক করার নীতিমালা বানানো।
দেভারায়ালুর বিলটি প্রাইভেট বা ব্যক্তিগত বিল, অর্থ্যাৎ সরকারের কোনো মন্ত্রী এটি পার্লামেন্টে প্রস্তাব করেননি। কিন্তু এ ধরনের ব্যক্তিগত বিল প্রায়ই সংসদে বিতর্ক সৃষ্টি করে এবং পরে আইন প্রণয়নে প্রভাব ফেলে।
দেভারায়ালুর তেলেগু দেশম পার্টি ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য অন্ধ্র প্রদেশ শাসন করছে, তারা কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন এনডিএ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।