Published : 01 Jan 2026, 04:32 PM
সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় শহর আলেপ্পোতে নতুন বছরের আগের দিন আত্মঘাতী হামলার এক ঘটনা ঘটেছে। এতে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর এক সদস্য নিহত ও আরও দুইজন আহত হয়েছেন।
বুধবার দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, আত্মঘাতী হামলাকারী নগরীর একটি গির্জায় হামলা চালাতে চেয়েছিল, কিন্তু তা সম্ভব না হওয়ায় নিরাপত্তা বাহিনীর টহল দলের কাছে গিয়ে বিস্ফোরণ ঘটায়। সন্দেহভাজনের সঙ্গে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সম্পর্ক ছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নূর আল দিন আল বাবা জানিয়েছেন, হামলাকারীর পরিচয় নির্ধারণ করতে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।
সিরিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ গণমাধ্যম আল ইখবারিয়াকে তিনি বলেন, “সন্দেহভাজনের সঙ্গে আইএসের একটি আদর্শিক বা আদর্শগত সম্পর্ক ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।”
রয়টার্স লিখেছে, আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সিরিয়ার কর্তৃপক্ষ যখন মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধি করেছে তখনই এ হামলাটি চালানো হল।
এর আগে ডিসেম্বরের প্রথমদিকে সিরিয়ায় সন্দেহভাজন এক আইএস হামলাকারী দুই মার্কিন সেনা ও এক বেসামরিক দোভাষীকে গুলি করে হত্যা করেছিল। সে মার্কিন ও সিরীয় বাহিনীর একটি বহরে হামলা চালিয়েছিল।
এর জবাবে মার্কিন সামরিক বাহিনী সিরিয়ায় আইএসের ডজনেরও বেশি লক্ষ্যস্থলে ব্যাপক আঘাত হেনেছিল।
বুধবারের হামলাটি আলেপ্পোর বাব আল-ফারাজ এলাকায় চালানো হয়, জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কোনো গোষ্ঠী এ হামলার দায় স্বীকার করেনি।
সিরিয়ার সাবেক বিদ্রোহীরা বর্তমান সরকারের নেতৃত্ব দিচ্ছে। ১৩ বছর গৃহযুদ্ধ চলার পর ২০২৪ সালের শেষ দিকে এই বিদ্রোহীরাই বাশার আল আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করে। এই বিদ্রোহীদের সঙ্গে সিরিয়ার আল কায়েদা সাবেক শাখার সদস্যরাও আছেন।
তারা আল কায়েদার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে এবং আইএসের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছে। সিরীয় আল কায়েদার সাবেক নেতা আহমেদ আল শারা এখন দেশটির প্রেসিডেন্ট। তিনি নভেম্বরে হোয়াইট হাউজে গিয়ে আইএসের বিরুদ্ধে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীকে সহযোগিতা করতে একটি চুক্তি করেন।