Published : 21 Jul 2026, 03:47 PM
ঢাকার ওয়ারি থানার প্রতারণার ও অপরাধমূলক বিশ্বাস ভঙ্গের মামলায়ও জামিন পেয়েছেন বেসরকারি টিভি চ্যানেল মাইটিভির চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন সাথীর ছেলে ‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ তৌহিদ আফ্রিদি।
সব মামলায় জামিন পাওয়ায় তার ‘মুক্তিতে বাধা নেই’ বলে জানিয়েছেন আইনজীবী।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালতে মঙ্গলবার তৌহিদ আফ্রিদির পক্ষে তার আইনজীবী ইকবাল মাহমুদ শোভন জামিন চেয়ে শুনানি করেন। শুনানি নিয়ে আদালত তার জামিনের আদেশ দেয় বলে জানিয়েছেন অ্যাডভোকেট ইকবাল মাহমুদ শোভন।
তিনি বলেন, "তৌহিদ আফ্রিদির বিরুদ্ধে তিনটি মামলা দায়ের করা হয়। দুই মামলায় উচ্চ আদালত থেকে আগেই জামিন পেয়েছে। আজ ওয়ারি থানার মামলায় জামিন পেল। তিন মামলায় জামিনের আদেশ হওয়ায় তার কারামুক্তিতে বাধা নেয়।"
গত বছরের ২৪ অগাস্ট রাতে বরিশাল থেকে তৌহিদ আফ্রিদিকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি পুলিশ। এরপর তাকে একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
গেল ১১ জুন তৌহিদ আফ্রিদিকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা ওয়ারি থানার এসআই মো. মাহফুজুর রহমান। আবেদনের প্রেক্ষিতে ১৫ জুন তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, সৈয়দা আশফাহ তোয়াহা দ্যূতি গেল বছরের ১৩ জানুয়ারি হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিং কাজের অফার পান। ফাতেমা ঐশ্বী পরিচয় দিয়ে ওই ব্যক্তি দ্যূতিকে গুগলে রিভিউ দিতে বলে এবং কাজের জন্য টেলিগ্রাম অ্যাপ খুলতে বলে। পরদিন কাজের জন্য দ্যূতিকে ৩০০ টাকা পাঠানো হয়।
লিসা নামে এক ব্যক্তি পরদিন তাকে টেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত করে। সেখানে অন্যান্য সদস্যরা টাকা পাঠানোর পর মুনাফাসহ আসল ফেরত পেলে স্ক্রিনশর্ট দিত। তাদের দেখে আশ্বাস পেয়ে দ্যূতি লিসার বিকাশ নাম্বারে দুই হাজার টাকা পাঠান। সেদিনই তিনি আসলসহ ২৮০০ টাকা ফেরত পান।
“গত বছরের ১৫ জানুয়ারি তাকে ৫ হাজার ৩০০ টাকা পাঠানো হয়। আরও কাজ শেখার জন্য তাকে আরেকটি টেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত হতে বলা হয়। বিশ্বস্ততা অর্জন করে তার কাছ থেকে সর্বমোট ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা প্রতারণা করে আত্মসাৎ করা হয়।”
ওই ঘটনায় সৈয়দা আশফাহ তোয়াহা দ্যূতি অজ্ঞাতনামে আসামি করে গত বছরের জানুয়ারি মাসে ওয়ারী থানায় মামলা দায়ের করেন।
এর আগে গেল বছরের১৭ অগাস্ট গুলশান থেকে মাইটিভির চেয়ারম্যান তৌহিদ আফ্রিদির বাবা নাসির উদ্দিন সাথীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডেও নেওয়া হয়।