Published : 23 Jul 2026, 10:18 AM
সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ-অবরোধের অংশ হিসেবে লোহিত সাগরে দেশটির দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইয়েমেনি মিত্র হুতিরা।
এ হামলার ঘটনায় হরমুজ প্রণালির পর লোহিত সাগর দিয়ে বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহ ব্যাহত করার দ্বিতীয় প্রচেষ্টা কার্যকর হতে শুরু করলো।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশনায় তারা ইরানে ফের নতুন করে হামলা চালিয়েছে। এ নিয়ে টানা দ্বাদশ রাতের মতো ইরানে হামলা চালালো মার্কিন বাহিনী।
আরব উপদ্বীপের পূর্ব পাশে হরমুজ প্রণালি আর তার ঠিক বিপরীতে পশ্চিম পাশের কোনটিতে বাব আল-মান্দেব প্রণালি। বাব আল-মান্দেবের ইয়েমেন উপকূল হুতিদের নিয়ন্ত্রণে আছে। সোমবার তারা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ-অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে, যাকে সুবিধা আদায়ের জন্য ইরানের একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন কিছু বিশ্লেষক।
রয়টার্স জানিয়েছে, বুধবার বাব আল-মান্দেব প্রণালি এড়ানোর জন্য মোট পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকার তাদের গমনপথ থেকে ঘুরে উল্টো দিকে যাত্রা শুরু করে। এর আগে মঙ্গলবার সৌদি তেল নিয়ে চীন ও ভারতের পথে থাকা আরও তিনটি ট্যাংকার হামলার শিকার হওয়া এড়াতে বাব আল-মান্দেবের আগেই পথ ঘুরে উল্টো দিকে যাত্রা শুরু করে।
এরপর বৃহস্পতিবার হুতিরা জানালো, তাদের বাহিনীগুলো লোহিত সাগরে সৌদি আরবের দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। জাহাজ দুটিকে এনসেলিয়া ও লায়লা বলে শনাক্ত করা হয়েছে।
একটি সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, বুধবার স্থানীয় সময় রাতে সৌদি আরবের জিযান বন্দরের কাছ থেকে একটি বিপদ সংকেত পাঠিয়ে ট্যাংকার এনসেলিয়া জানায়, তারা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে।
ব্রিটিশ সামুদ্রিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা গোষ্ঠী ভ্যানগার্ড জানিয়েছে, সৌদি আরবের উপকূলীয় শহর আল শুকাইক থেকে প্রায় ৭০ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণপশ্চিমে দেশটির পতাকাবাহী ট্যাংকারটিতে একটি অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। তবে ট্যাংকার লায়লার ওপর হামলার দাবি কেউ নিশ্চিত করেনি।
যুদ্ধের কারণে পারস্য উপসাগর থেকে বের হওয়ার সংকীর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রতিদিন লাখ লাখ ব্যারেল সৌদি তেলের গন্তব্যে পাঠানোর প্রধান বিকল্প পথ হয়ে দাঁড়িয়েছে লোহিত সাগর। দীর্ঘ পাইপলাইন দিয়ে লোহিত সাগরের ইয়ানুব বন্দরে পাঠানো অপরিশোধিত সৌদি তেল নিয়ে ট্যাংকারগুলো এখান থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে যাচ্ছিল। এখন লোহিত সাগরের দক্ষিণের বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে জাহাজ পার হতে না পারলে তাদের একমাত্র পথ হয়ে দাঁড়াবে উত্তরের সুয়েজ খাল আর তাতে গন্তব্যে পৌঁছতে কয়েক সপ্তাহ বেশি লাগবে এবং খরচও বহুগুণ বেড়ে যাবে।
লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের ওপর এ হুমকি আসার আগেই ইরান হরমুজ প্রণালি প্রায় পুরোপুরি বন্ধ করে রাখায় বিশ্বজুড়ে তেলের মূল্য বেড়ে মূল্যস্ফীতি দেখা দিয়েছে। এটি যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিনের দামও বাড়িয়ে দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এমনটি ঘটছে যা দেশটিতে অজনপ্রিয় ইরান যুদ্ধ নিয়ে চাপে থাকা প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান মিত্রদের জন্য খারাপ ফল করার ঝুঁকি তৈরি করছে।
বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুতিদের নৌ-অবরোধ পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধের আরও উল্লেখযোগ্য বিস্তৃতি ঘটাতে পারে আর তা মার্কিন বাহিনীকে চাপে ফেলবে।
আরও পড়ুন:
ইয়েমেনের হুতিদের হুমকির মুখে ফিরে গেল দুটি সৌদি তেলবাহী ট্যাংকার