Published : 22 Jul 2026, 02:58 PM
ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুতিদের হুমকির মুখে এশিয়াগামী দুটি সৌদি তেলবাহী ট্যাংকার লোহিত সাগরের পথ থেকে ফিরে গেছে। এতে পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান সংঘাত হরমুজ প্রণালির পর আরেকটি গুরুত্বপূণ জ্বালানি সরবরাহের জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত করার পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
হুতিরা ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের পাশাপাশি লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বারের উপকূলও নিয়ন্ত্রণ করছে। সোমবার তারা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ‘নৌ অবরোধ’ আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। এতে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধে এটি একটি সম্ভাব্য নতুন লড়াইয়ের ক্ষেত্র উন্মোচিত হচ্ছে বলে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর যৌথ হামলা শুরু করলে পশ্চিম এশিয়াজুড়ে যুদ্ধ শুরু হয়।
রয়টার্স জানিয়েছে, জাহাজ পরিচালনাকারী কোম্পানিগুলোর প্রতি দেওয়া এক চিঠিতে হুতিরা সৌদি তেল বহনকারী বা খালাসকারী যে কোনো জাহাজে হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে।
তাদের হুমকির মুখে লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার বাব আল-মান্দেব প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে এশিয়ায় সৌদি আরবের তেল রপ্তানি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহ ৭ শতাংশ কমে যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, হুতিরা এখনও বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দেয়নি। লোহিত সাগরে প্রবেশ বা বের হওয়ার এই গুরুত্বপূর্ণ প্রণালিটি বন্ধ করে দিলে হুতিদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন তিনি।
ট্রাম্প বলেছেন, “এখনো পর্যন্ত এটি ঘটেনি। এমন কিছু যদি হয় আমরা তা দেখবো।”
হুতিদের ঘোষণা ইতোমধ্যেই প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে বলে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে। সৌদি আরবের লোহিত সাগরীয় বন্দর ইয়ানবু থেকে অপরিশোধিত তেল নিয়ে দুটি ট্যাংকার চীন ও ভারতের পথে রওনা হয়েছিল। কিন্তু মঙ্গলবার তারা বাব আল-মান্দেব পার হয়ে ভারত মহাসাগরে না গিয়ে করে উল্টো দিকে ঘুরে মিশরের সুয়েজ খালের দিকে রওনা হয়।
যুদ্ধের কারণে পারস্য উপসাগর থেকে বের হওয়ার সংকীর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রতিদিন লাখ লাখ ব্যারেল সৌদি তেলের গন্তব্যে যাওয়ার প্রধান বিকল্প পথ হয়ে দাঁড়িয়েছে লোহিত সাগর। দীর্ঘ পাইপলাইন দিয়ে ইয়ানুব বন্দরে পাঠানো অপরিশোধিত তেল নিয়ে ট্যাংকারগুলো এখন থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে যাচ্ছিল। কিন্তু এখন তা বন্ধ হওয়ার হুমকির মুখে পড়েছে।
হরমুজে পর বাব আল-মান্দেব প্রণালিও বন্ধের হুমকির মুখে পড়ায় মঙ্গলবার তেলের দাম আরও দুই শতাংশ বেড়ে গেছে। ব্রেন্টের অপরিশোধিত তেল ব্যারেল প্রতি মূল্য ৯১ ডলারের উপরে আর যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিনের গ্যালন প্রতি দাম ফের ৪ ডলারের উপরে উঠে গেছে।
আরও পড়ুন: