Published : 27 May 2026, 05:19 PM
গাজায় ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী গোষ্ঠী হামাসের সশস্ত্র শাখার নতুন প্রধানকে হত্যার দাবি করেছে ইসরায়েল। এর কয়েকদিন আগে তার পূর্বসূরিকেও হত্যা করেছিল ইসরায়েল।
গাজায় সামরিক চাপ আরও জোরদার এবং লেবাননে অভিযান আরও বিস্তৃত করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। বুধবার ইসরায়েল এ তথ্য জানায়।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার গাজায় এক অভিযানে মোহাম্মদ ওদেহ নামের হামাসের ওই সশস্ত্র শাখা প্রধান নিহত হন।
ওদেহের এক আত্মীয় বার্তা সংস্থা রয়টার্সের কাছে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন এবং জানিয়েছেন, গাজা সিটিতে জোহরের নামাজের পর তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
হামাস এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। তবে ওদেহের পরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় ওদেহের সঙ্গে তার স্ত্রী এবং ছেলেও নিহত হয়েছেন।
গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গাজা সিটির রিমাল এলাকায় একটি বহুতল অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের ওপরের তলা ধ্বংস করে দেওয়া ওই ইসরায়েলি হামলায় অন্তত এক নারীসহ ছয়জন নিহত এবং ২০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছে।
আরও কোনও মানুষ হতাহত হয়েছে কি না তা নিশ্চিত করতে উদ্ধারকর্মীরা এখনও ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালাচ্ছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গত মঙ্গলবার দাবি করেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে চালানো হামাস যোদ্ধাদের হামলার সময় ওদেহ হামাসের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান ছিলেন, যে হামলার জেরে গাজা যুদ্ধের সূত্রপাত হয়।
গত ১৫ মে ইসরায়েলি হামলায় হামাসের সশস্ত্র শাখার প্রধান কমান্ডার ইজ্জ আল-দিন আল-হাদ্দাদ নিহত হওয়ার পর প্রায় এক সপ্তাহ আগে ওদেহকে তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছিল।
হামাসের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো নতুন প্রধান হিসেবে ওদেহের নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত না করলেও তারা একমত যে, তাকে হাদ্দাদের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল।
ওদেহ হামাসের সামরিক গোয়েন্দা প্রধান এবং সম্ভবত সশস্ত্র শাখার উচ্চতর নেতৃত্ব পরিষদের সর্বশেষ জীবিত সদস্য ছিলেন।
এই হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে ইসরায়েল লেবাননে তাদের স্থল অভিযান আরও বাড়ানোর ঘোষণা দেয়।
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানে হামলা চালানোর পর থেকেই সেখানে ইরান-পন্থি হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের সঙ্গে যুদ্ধ করছে ইসরায়েল।
এর পাশাপাশি পশ্চিম তীরেও নিজেদের সামরিক কার্যক্রম জোরদার করেছে দেশটি।
এদিকে, যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা এখন স্থবির হয়ে আছে। এই ধাপের শর্তাবলির মধ্যে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
গতবছর অক্টোবরে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির ফলে গাজার অর্ধেকেরও বেশি এলাকা ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়, আর হামাসের নিয়ন্ত্রণে থাকে উপকূলীয় অঞ্চলের একটি ছোট অংশ।
এর মাঝেই এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেছেন, হামাস আর গাজার বেসামরিক বা সামরিক কোনও নিয়ন্ত্রণেই থাকতে পারবে না এবং গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের “স্বেচ্ছায় অভিবাসন” (ভলান্টারি মাইগ্রেশন) নামের একটি পরিকল্পনাও “সঠিক সময়ে এবং সঠিক উপায়ে” বাস্তবায়ন করা হবে।
গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় প্রায় ৯০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। তবে এই তালিকায় সাধারণ নাগরিক ও যোদ্ধাদের আলাদা করে দেখানো হয়নি।
অন্যদিকে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দেওয়া তথ্যমতে, একই সময়ে হামাস যোদ্ধাদের হামলায় চার ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছে।
গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরায়েল হামাসের বহু নেতা ও সামরিক কর্মকর্তাকে হত্যা করেছে এবং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলায় জড়িত প্রত্যেককে হত্যা বা বন্দী করার ঘোষণা দিয়েছে। হামাস অবশ্য তাদের যোদ্ধাদের হতাহতের কোনো সুনির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করে না।
ইসরায়েল দাবি করেছে, যুদ্ধবিরতির পর তাদের চালানো হামলার উদ্দেশ্য হল নতুন কোনও আক্রমণ প্রতিরোধ করা অথবা হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি রেখার কাছাকাছি সাধারণ মানুষকে আসতে না দেওয়া।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ৭২ হাজারেরও বেশি গাজাবাসী নিহত হয়েছেন, যাদের সিংহভাগই বেসামরিক নাগরিক।
তবে ইসরায়েলের দাবি, বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে তারা সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে থাকে।
ইসরায়েলের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের আকস্মিক হামলায় ১,২০০ জন নিহত হয়েছিলেন।