Published : 16 Jul 2025, 04:17 PM
যুক্তরাষ্ট্রর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত গাজা হিউম্যানেটারিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) পরিচালিত একটি ত্রাণ কেন্দ্রে বুধবার ২০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
জিএইচএফ বলেছে, সশস্ত্র আন্দোলনকারীরা জনতাকে উস্কে দেওয়ার পর তাদের ভিড়ের চাপে ঘটনাটি ঘটেছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর জানিয়েছে, গত ছয় সপ্তাহে গাজার ত্রাণ কেন্দ্রগুলো ও খাদ্যবাহী ত্রাণবহরের কাছে অন্তত ৮৭৫ জন ফিলিস্তিনির মৃত্যু নথিবদ্ধ করেছে তারা। এসব মৃত্যুর বেশিরভাগই ঘটেছে জিএইচএফের ত্রাণবিতরণ কেন্দ্রগুলোর কাছে।
ইসরায়েল সমর্থিত জিএইচএফ জানিয়েছে, গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় খান ইউনিসের তাদের একটি কেন্দ্রে ভিড়ের চাপে পদদলিত হয়ে ১৯ জন ও একজন ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন।
এক বিবৃতিতে জিএইচএফ বলেছে, “আমাদের বিশ্বাস করার নির্ভরযোগ্য কারণ রয়েছে যে জনতার মধ্যে মিশে থাকা সশস্ত্র ও হামাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অংশ ইচ্ছাকৃতভাবে অস্থিরতা উস্কে দিয়েছে।”
তবে এ ঘটনা বা জিএইচএফের বিবৃতির বিষয়ে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি, জানিয়েছে রয়টার্স।
ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ওই কেন্দ্রটিতে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে অন্তত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এক চিকিৎসা কর্মকর্তা জানান, ছোট একটি জায়গায় ধারণ ক্ষমতার বেশি লোক জড়ো হওয়ার পর অনেকেই ভিড়ের চাপে পিষ্ট হয়।

মে মাসে ইসরায়েল গাজায় মানবিক সরবরাহের ওপর তাদের ১১ সপ্তাহের অবরোধ তুলে নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমর্থিত জিএইচএফ অনাহারী ফিলিস্তিনিদের মধ্যে খাবারের প্যাকেট বিতরণ করতে শুরু করে।
এই জিএইচএফের ত্রাণ বিতরণ পদ্ধতির সমালোচনা করেছিল জাতিসংঘ। তারা বলেছিল, জিএইচএফের মডেল ‘চরিত্রগতভাবেই অনিরাপদ’ এবং মানবিক নিরপেক্ষতার মানদণ্ডের লঙ্ঘন।
কিন্তু জিএইচএফ জাতিসংঘের সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করে বিশ্ব সংস্থাটি ‘ভুল তথ্য’ ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেছিল।
জিএইচএফ জাতিসংঘের সমন্বিত ত্রাণ পদ্ধতির বাইরে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আর ত্রাণ সরবরাহের জন্য মার্কিন বেসরকারি নিরাপত্তা বাহিনী ও ঠিকাদারদের ব্যবহার করে। ইসারায়েল জিএইচএফের এই পদ্ধতির প্রশংসা করে বলেছে, তাদের ব্যবস্থাপনার কারণে হামাসের ত্রাণ লুটের ঝুঁকি কমেছে। অপরদিকে হামাস ইসরায়েলের কথিত ‘ত্রাণ লুটের’ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।