Published : 30 Jul 2025, 05:57 PM
পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপে ৯০ দিনের যে বিরতি চলছে, তার মেয়াদ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন কাজ করকে সম্মত হয়েছে বলে দুইদিনের ‘গঠনমূলক’ আলোচনা শেষে বলেছেন ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা।
চীনের বাণিজ্য আলোচক লি চেংগেং জানিয়েছেন, উভয়পক্ষই পারস্পরিক শুল্ক আরোপে বিরতি বজায় রাখতে রাজি হয়েছে। এ বিরতির কারণেই যুক্তরাষ্ট্র ও চীন একে অপরের পণ্যে যে উচ্চমাত্রার শুল্ক আরোপ করেছিল, তা সাময়িক সময়ের জন্য স্থগিত আছে।
তবে মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, বিরতি বাড়বে কি না, বাড়লেও কতদিনের জন্য, এসব নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
সুইডেনের স্টকহোমে দুই পক্ষের মধ্যে সর্বশেষ এ আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।
এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে শুল্ক যুদ্ধ চরমে পৌঁছেছিল, উভয় দেশই তখন একে অপরের পণ্যে শুল্ক বাড়াতে বাড়াতে ১০০ শতাংশের উপরে নিয়ে যায়, যা বিশ্বজুড়েই চরম উদ্বেগ সৃষ্টি করেছিল।
বিশ্বের শীর্ষ দুই অর্থনীতির দেশ পরে মে মাসে ওই পাল্টাপাল্টি শুল্ক ৯০ দিনের জন্য স্থগিত করে, সেই বিরতি অগাস্টে শেষ হওয়ার কথা। এ জন্যই দুইপক্ষ সুইডেনে আলোচনায় বসেছিল।
স্কটল্যান্ড থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ফেরার পথে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, চীনের সঙ্গে আলোচনা নিয়ে বেসেন্টের সঙ্গে কথা হয়েছে তার।
“চীনের সঙ্গে তাদের চমৎকার আলোচনা হয়েছে, মনে হচ্ছে আগামীকাল তারা এ বিষয়ে আমাকে খুলে বলবে,” বলেছেন তিনি।
জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউজে ফেরার কিছু সময় পরই চীনা পণ্যে শুল্ক বাড়াতে শুরু করেন ট্রাম্প। এর পাল্টায় বেইজিংও মার্কিন পণ্যে শুল্ক বসাতে থাকে। এক পর্যায়ে পাল্টাপাল্টি শুল্কবৃদ্ধির হার লাগাম ছাড়িয়ে যায়, পরে মে-তে এসে দুই পক্ষের মধ্যে ‘যুদ্ধবিরতি’ হয়।
এরপরও চীনা পণ্যের যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে বছর শুরুর তুলনায় ৩০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক গুণতে হচ্ছে, মার্কিন পণ্যকে চীনে ঢুকতে দিতে হচ্ছে বাড়তি ১০% শুল্ক।
বিরতির মেয়াদ বাড়ানোর সময় আছে ১২ অগাস্ট পর্যন্ত, এর মধ্যে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত না এলে শুল্ক ফের বাড়তে শুরু করতে পারে, আশঙ্কা মার্কিন কর্মকর্তাদের।
“কোনো কিছুই ঠিক হয়নি, যতক্ষণ আমরা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কথা না বলবো।
“উত্তেজনার পারদ নামিয়ে আনার জন্য বলছি, খুবই গঠনমূলক বৈঠক ছিল। আমরা কেবল চূড়ান্ত অনুমোদন দিইনি,” বলেছেন বেসেন্ট।
শুল্ক ছাড়াও আরও বেশ কিছু বিষয়ে বেইজিং ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বিরোধ চলছে। এর মধ্যে রয়েছে টিকটক ও দুর্লভ খনিজ।
যুক্তরাষ্ট্র চাইছে, চীনের বাইটড্যান্স যেন দ্রুত একটি মার্কিন কোম্পানির কাছে টিকটক বিক্রি করে দেয়; দুর্লভ খনিজ রপ্তানিতে বেইজিংয়ের বিধিনিষেধও যেন শিগগির শিথিল হয় সেজন্যও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তারা।