Published : 21 Feb 2026, 07:56 PM
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখওয়া প্রদেশের বান্নু জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে পাঁচ জঙ্গি ও অভিযান চলাকালে আত্মঘাতী হামলায় দুই সেনা নিহত হয়েছে।
শনিবার এক বিবৃতিতে পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ (আইএসপিআর) এসব তথ্য জানিয়েছে।
ওই বিবৃতির বরাতে পাকিস্তানি গণমাধ্যম ডন জানায়, গোয়েন্দা সূত্রে এক আত্মঘাতী বোমারুসহ জঙ্গিদের উপস্থিতির খবর পেয়ে বান্নুতে অভিযান শুরু করে নিরাপত্তা বাহিনী। অভিযানের এক পর্যায়ে তারা জঙ্গিদের অবস্থান শনাক্ত করে। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল গোলাগুলিতে পাঁচ জঙ্গি নিহত হয়।
কোনঠাসা হয়ে পড়া জঙ্গিদের একজন তখন একটি বিস্ফোরক ভর্তি গাড়ি নিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর অগ্রবর্তী দলের গাড়িবহরে আত্মঘাতী হামলা চালায়। এ হামলায় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একজন লেফটেন্যান্ট কর্নেল ও একজন সিপাহী নিহত হন।
পাকিস্তান সামরিক বাহিনী এ হামলার জন্য ‘ভারতীয় ছায়া বাহিনী ফিতনা আর খোয়ারিজকে’ দায়ী করেছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) এর সদস্য জঙ্গিদের বোঝাতে পাকিস্তান এ পদটি ব্যবহার করে, জানিয়েছে ডন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “জঙ্গিরা রমজান মাসের পবিত্রতা লঙ্ঘন করে পাকিস্তানের ভেতরে এ হামলা চালাতে আফগানিস্তানের ভূমি ব্যবহার করেছে। এটি পরিষ্কারভাবে ইঙ্গিত দেয় তাদের (জঙ্গিদের) সঙ্গে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই।”
দুই সেনা নিহত হওয়ার পরও চলমান সন্ত্রাসবিরোধী ‘আজম-ই-ইস্তেহকাম' অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পাকিস্তান সামরিক বাহিনী।
এর আগে মঙ্গলবার খাইবার পাখতুনখওয়া প্রদেশের আফগান সীমান্তবর্তী জেলা বাজাউরে জঙ্গি হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর ১১ সদস্য ও এক শিশু নিহত হয়। এ হামলার জন্যও নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি গোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালেবান ও প্রতিবেশী ভারতকে দায়ী করেছিল পাকিস্তান সামরিক বাহিনী।
গত বছরজুড়ে খাইবার পাখতুখওয়ায় জঙ্গি হামলার ঘটনা বেড়েছে। পাকিস্তানি এক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে প্রদেশটিতে জঙ্গি হামলায় ১৬২০ জন নিহত হয়েছিল, কিন্তু ২০২৫ সালে সংখ্যাটি বেড়ে ২৩৩১ জনে দাঁড়ায়।