Published : 11 Aug 2025, 11:29 AM
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, গাজায় তাদের নতুন অভিযান ‘খুব বেশি সময় না নিয়েই’ শেষ হবে বলে তিনি আশা করছেন।
তেল আবিবের ‘নির্দয় আচরণে’ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডটিতে লাখ লাখ মানুষকে যে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে, তার অবসানে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ নতুন আহ্বান শোনার পর রোববার নেতানিয়াহু এ কথা বলেছেন।
শুক্রবার তার নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা গাজা সিটি দখলের পরিকল্পনায় সায় দেয়; এ পরিকল্পনা নিয়ে ঘরে-বাইরে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে ইসরায়েলের সরকার।
কিন্তু জিম্মিদের মুক্ত করতে হামাসকে পরাজিত করা এবং ‘অভিযান শেষ করা’ ছাড়া হাতে আর কোনো বিকল্প নেই, রোববার নেতানিয়াহু এমনটাই বলেছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডটির সবচেয়ে জনবহুল এলাকা গাজা সিটি রোববার রাতের দিকে ইসরায়েলের তুমুল বিমান হামলার মুখে পড়ে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
সাবরা এলাকার একটি স্যান্ডউইচের দোকানে অন্তত ৫ জন নিহত হয়েছে বলে জানান শিফা হাসপাতালের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।
ফিলিস্তিনি গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, হাসপাতালটির কাছে সাংবাদিকরা ব্যবহার করে এমন একটি তাঁবুতে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এতে ৭ জন নিহত হয়েছে বলে আল জাজিরা টিভিকে জানিয়েছেন শিফা হাসপাতালের প্রধান মুহাম্মাদ আবু সালামিয়া। ওই এলাকায় ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণেরও খবর পাওয়া গেছে।
হামাস-পরিচালিত গাজার গণমাধ্যম কার্যালয় জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় আল-জাজিরার ৫ কর্মী মারা গেছেন, তাদের মধ্যে আছেন সাংবাদিক আনাস আল শরীফ ও মোহাম্মদ কুরেইকেহ এবং তিনজন আলোকচিত্র সাংবাদিক।
হামলার কিছুক্ষণ পর ইসরায়েলি সেনাবাহিনী (আইডিএফ) টেলিগ্রাম পোস্টে আনাস আল শরীফকে নিশানা করে হামলা চালানোর কথা নিশ্চিত করে। আইডিএফের ভাষ্য, শরীফ সাংবাদিক সেজে হামাসের একটি সন্ত্রাসী সেলের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। গোয়েন্দা তথ্যে নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি গাজায় এ সংক্রান্ত নথিও মিলেছে বলে দাবি তাদের।
গত মাসে জাতিসংঘের বিশেষ র্যাপোর্টার আইরিন খান আইডিএফের এ দাবিকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন।
এদিকে রোববার রাতে নেতানিয়াহুর দপ্তর জানায়, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী গাজায় হামাসের বাকি ঘাঁটিগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার যে পরিকল্পনা তারা হাতে নিয়েছেন তা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন।
একইদিন আগে ইসরায়েলের এ নেতা বলেছিলেন, গাজায় ইসরায়েলের নতুন অভিযানের লক্ষ্য হচ্ছে হামাসের বাকি দুটি শক্তঘাঁটিকে মোকাবেলা করা।
ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীটি অস্ত্র নামিয়ে রাখতে অসম্মতি জানানোয় তার হাতে এ ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই বলেও নেতানিয়াহু মন্তব্য করেন।
হামাস আগেই বলেছে, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত তারা অস্ত্র সমর্পণ করবে না।
গাজা থেকে ফিলিস্তিনি এ স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠীকে নির্মূলে ইসরায়েল গত কিছুদিন ধরে একের পর এক অভিযানে নেমেছে। তার ধারাবাহিকতায় নতুন এ অভিযান কখন থেকে শুরু হতে যাচ্ছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
“এই কার্যক্রমের ক্ষেত্রে আমরা যে সময়সীমা ঠিক করেছি তাতে খুব বেশি সময় লাগার কথা না। আমরা চাই প্রথমে নিরাপদ অঞ্চল গড়ে তুলতে, যেন গাজা সিটির বেসামরিক জনগোষ্ঠী অন্যত্র সরে যেতে পারে,” বলেছেন নেতানিয়াহু।
তবে ফিলিস্তিনিরা বলছেন, অন্যত্র সরে যাওয়াও তাদেরকে অতীতে ইসরায়েলি গুলির হাত থেকে সুরক্ষা দেয়নি।
নেতানিয়াহু এর আগে পুরো গাজা দখলের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। কিন্তু ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর প্রধান ওই পদক্ষেপের বিরোধিতা করে বলেছিলেন, তেমন পদক্ষেপ এখনও হামাসের হাতে থাকা জিম্মিদের জীবন বিপন্ন করবে এবং তেল আবিবের সেনারাও প্রাণঘাতী গেরিলা যুদ্ধের মুখে পড়বে।
তবে নেতানিয়াহু বলছেন, গাজা পুরোপুরি দখলে নেওয়া তার লক্ষ্য নয়।
“আমরা আমাদের সীমান্তের কাছে একটি নিরাপত্তা বেল্ট চাই, আমরা গাজায় থাকতে চাই না। সেটা আমাদের উদ্দেশ্য নয়,” বলেছেন তিনি।
আরও পড়ুন
গাজায় ইসরায়েলি হামলায় আল জাজিরার ৫ সাংবাদিক নিহত
জাতিসংঘে ইসরায়েলের 'বিপজ্জনক' গাজা পরিকল্পনার নিন্দা
নেতানিয়াহুর নতুন গাজা পরিকল্পনার বিরুদ্ধে তেল আবিবে বিক্ষোভে লাখো